মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৮
সংবাদ শিরোনাম

চার গ্রামবাসীকে অপহরণের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ : প্রথম আলো

ডেস্ক রিপোর্ট॥ খাগড়াছড়ির পেরাছড়া, শিবমন্দির ও ভাইবোনছড়ায় চলা গণবিক্ষোভের খবর ছেপেছে দৈনিক প্রথম আলো। ‘চার গ্রামবাসীকে অপহরণের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ’ শিরোনামে আজ প্রকাশিত রিপোর্টটি নিচে হুবহু তুলে দেয়া হলো।

এদিকে, সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, সংস্কারবাদীরা আজ মঙ্গলবার সকালে অপহৃত উক্ত চারজনকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে তারা খাগড়াছড়ি থানা হেফাজতে রয়েছেন। এলাকার মুরুব্বীরা তাদের নিতে থানায় রওনা হয়েছেন। গতকালের মতো আজও হাজার হাজার মানুষের রাস্তায় প্রতিবাদ বিক্ষোভের মুখে জেএসএস সংস্কারবাদী সন্ত্রাসীরা তাদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হলো। এখন বিক্ষোভকারীরা খাগড়াছড়ি শহরের দিকে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

পড়ুন প্রথম আলোর রিপোর্ট:

চার গ্রামবাসীকে অপহরণের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ

খাগড়াছড়ির পানছড়ি

১০টি বাজারের দোকান বন্ধ রাখার হুমকির প্রতিবাদে জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দিয়ে ফেরার পথে চার গ্রামবাসীকে অপহরণ।

প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি।

খাগড়াছড়ির পানছড়িতে চার গ্রামবাসীকে অপহরণ করার প্রতিবাধে সড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয় লোকজন। গতকাল সোমবার বেলা দুইটা থেকে খাগড়াছড়ি-পানছড়ি সড়কের তিনটি স্থান-পেরাছড়া, ছোটনালা ও শিবমন্দির এলাকায় অবরোধ শুরু হয়। রাত ১০টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অবরোধের কারণে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

গত কয়েক দিন ধরে খাগড়াছড়ির সদর ও পানছড়ির ১০টি বাজারে দোকান বন্ধ রাখতে ব্যবসায়ীদের হুমকি দেয় সন্ত্রাসীরা। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে গতকাল সকালে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিতে যান এসব বাজারের ব্যবসায়ী ও আশেপাশের গ্রামবাসী। স্মারকলিপি দিয়ে ফেরার পথে বেলা দেড়টার দিকে খাগড়াছড়ি শহরের মহাজনপাড়ায় জিপ থেকে নামিয়ে চারজনকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। এই চারজন হলেন ভাইবোনছড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ২ নম্বর প্রকল্প এলাকার বাসিন্দা সিন্ধু রায় ত্রিপুরা (৫০), সোহেল বিজয় ত্রিপুরা (৩৪), বিমল কান্তি ত্রিপুরা (৪০) ও সুখেন ত্রিপুরা (২৮)। তাঁরা কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

দোকান বন্ধ রাখার হুমকি ও গ্রামবাসীকে অপহরণ করার ঘটনায় অভিযোগের তির জনসংহতি সমিতির  জেএসএস) এমএন লারমা পক্ষের দিকে। তবে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

স্থানীয় লোকজন ও বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূলত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দোকান বন্ধ রাখার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। দোকান বন্ধ রাখতে বলা এলাকাগুলো ইউপিডিএফ-সমর্থিত। গতকাল বিকেল ৪টায় খাগড়াছড়ি-পানছড়ি সড়কের শিবমন্দির এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, হাজারো মানুষ সড়কের ওপর টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন। এ সময় তাঁরা জেএসএসর বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

খাগড়াছড়ি সদরের ভাইবোনছড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ধনুচন্দ্র ত্রিপুরা বলেন, পানছড়ি-খাগড়াছড়ি সড়কের দুই পাশের পানছড়ি ইউনিয়নের কুড়াদিয়াছড়া মগ বাজার, ভাইবোনছড়া ইউনিয়নের বার নম্বর, ছোটনালা, নলছড়া, শিবমন্দির, পাগুজ্জ্যাছড়ি, দেওয়ান পাড়া, দুই নম্বর, পেরাছড়া ও খাগড়াছড়ি সদর ইউনিয়নের গিরিফুল বাজারের ব্যবসায়ীদের অজ্ঞাতপরিচয়ের লোকজন ফোন দিয়ে দোকান বন্ধ রাখতে বলে। কিন্তু দোকান বন্ধ রাখার কোনো কারণ বলেনি। এ ঘটনার প্রতিবাধে ১০টি বাজারের ব্যবসায়ী ও আশপাশের গ্রামবাসী তিন দফা দাবি নিয়ে জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দেন।

দাবিগুলো হচ্ছে অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার, দোকানদার ও গ্রামবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষককে চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলা বলেন, বিষয়টি দেখার জন্য সদরের নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আজ মঙ্গলবার আইনশৃঙ্খলা সভায় এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অবরোধের ব্যাপারে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাজরীজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘অবরোধের কারণে খাগড়াছড়ি-পানছড়ি সড়কে এখন যানবাহন চলাচল বন্ধ। অবরোধ তুলে নিতে গ্রামবাসীর সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। আশা করছি রাতের মধ্যে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হবে।’

খাগড়াছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাহাদাত হোসেন বলেন, গ্রামবাসী অপহরণের বিষয়ে এখনো কেউ অভিযোগ করেনি।

ইউপিডিএফের প্রতিবাদ, জেএসএসের অস্বীকার

গ্রামবাসীকে অপহরণের প্রতিবাদে ইউপিডিএফ-সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম গতকাল বিকেলে খাগড়াছড়ি শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। মিছিলটি উপজেলা প্রাঙ্গন ঘুরে এসে স্বনির্ভর বাজারে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়। সমাবেশে বক্তব্য দেন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের জেলার সাধারণ সম্পাদক রতন স্মৃতি চাকমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তপন চাকমা প্রমুখ।

বক্তারা এ ঘটনার জন্য জেএসএসকে দায়ী করে চারজনকে উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা চান।

গ্রামবাসীকে অপহরণের অভিযোগ অস্বীকার করে জেএসএসের ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও বাঘাইছড়ি উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সুদর্শন চাকমা বলেন, তাঁদের কর্মীরা কখনো বাজার বন্ধ করে দেওয়ার মতো কাজ করেননি। ইউপিডিএফই বিভিন্ন সময় এই কাজটি করে থাকেন।
———————
সিএইচটি নিউজ ডটকম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।

 


Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.