মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৮
সংবাদ শিরোনাম

জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কাছে জেপিএনকে-এর স্মারকলিপি পেশ

সিউল, দক্ষিণ কোরিয়া প্রতিনিধি ॥ ইউপিডিএফের উপর দমনপীড়ন বন্ধসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধের দাবিতে জুম্ম পিপলস নেটওয়ার্ক-কোরিয়া জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার বরাবরে একটি স্মারক লিপি পেশ করেছে।

আজ বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮) জেপিএনকে-এর একটি প্রতিনিধি দল দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে জাতিসংঘ দপ্তরের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের প্রতিনিধি মিসেস্ সিংগে পলসেন (Ms. Singe Poulsen) এর মাধ্যমে এই স্মারকলিপি পেশ করে।

জেপিএনকে সভাপতি রত্ন কীর্তি চাকমা ও সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা রনেল চাকমা সিউল গ্লোবাল সেন্টারে তার হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন।

স্মারকলিপিতে সম্প্রতি রাঙামাটির বিলাইছড়িতে দুই মারমা কিশোরীর ধর্ষণের ঘটনা বর্ণনা করে বলা হয়, ‘গত ২২ জানুয়ারি ১৪ ও ১৯ বছরের আদিবাসী মারমা সম্প্রদায়ের দুই বোনকে নিজ বাড়িতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা বন্দুকের নলের মুখে ধর্ষণ করে। পরদিন তাদেরকে রাঙামাটি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, তবে নিরাপত্তা বাহিনী হাসপাতালে কক্ষের বাইরে পুলিশী প্রহরা বসিয়ে তাদের বন্দী করে রেখেছে।’

বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এই ধর্ষণের ঘটনায় কোন ধরনের হস্তক্ষেপ করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়।

ইউপিডিএফ সংগঠক মিঠুন চাকমা হত্যা সম্পর্কেও স্মারকলিপিতে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ‘গত ৩ জানুয়ারি ২০১৮ নব্য মুখোশ বাহিনীর ক্যাডাররা খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় জুম্ম মানবাধিকার নেতা মিঠুন চাকমাকে গুলি করে। একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাকে নিজ বাড়ি থেকে অপহরণ করে সুইস গেট নামক স্থানে নিয়ে যায় এবং তার মাথা ও পেটে গুলি করে। হাসপাতালে নেয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।’

এ্যামনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল মিঠুন চাকমার খুনের পর যে বিবৃতি দেয় সেখান থেকেও স্মারকলিপিতে উদ্বৃতি দেয়া হয়।

এতে আরো বলা হয়, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা ২০১৭ সালের ১৫ নভেম্বর আদিবাসী রাজনৈতিক নেতা ও মানবাধিকার কর্মীদের হত্যার উদ্দেশ্যে একটি সন্ত্রাসী দল সৃষ্টি করে যা জনগণের ভাষায় ‘নব্য মুখোশ বাহিনী’ নামে পরিচিত।’

ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এর উপর নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরে জেপিএনকে-এর স্মারকলিপিতে বলা হয়, ‘সংগঠন ও সমাবেশ করার স্বাধীনতার অধিকার প্রয়োগের কারণে আদিবাসী জনগণের উপর নিপীড়নের শেষ নেই। ২০১৭ সালে আদিবাসী জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী দল ইউপিডিএফের মোট ৯৭ জন সদস্য ও সমর্থককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসব গ্রেফতার হয়েছে সেনাবাহিনীর হাতে। সেনাবাহিনী প্রায় প্রতিদিন ঘেরাও  ও তল্লাশী অভিযান চালায়, তাদের (বন্দীদের) হাতে অস্ত্র গুঁজে দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয় এবং অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে এফ-আই-আর (মামলা) দায়ের করে।’

অন্যান্য আদিবাসী রাজনৈতিক দলের কর্মীদেরও গ্রেফতার করা হয়েছে বলে স্মারকলিপিতে বলা হয়।

১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের পরও পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়োজিত হাজার হাজার সেনা সদস্যকে প্রত্যাহার না করার কারণে এসব মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে বলে উক্ত স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

শেষে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার জেইড রা’আদ আল হুসেইন-এর কাছে চারটি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো : আদিবাসী জুম্ম জনগণের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তদন্তের জন্য ‘অফিস অব দ্যা ইউনাইটেড ন্যাশনস হাই কমিশনার ফর হিউম্যান রাইটস (ওএইচসি এইচআর) এর একটি টিম প্রেরণ করা; দুই মারমা মেয়ের ধর্ষণ ও মিঠুন চাকমাকে আইন বহির্ভূতভাবে হত্যার ঘটনায় মামলা নিতে এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে বাংলাদেশ সরকারকে আহবান করা; নব্য মুখোশ বাহিনীকে নিষিদ্ধ করতে বাংলাদেশ সরকারকে আহবান করা; এবং পার্বত্য চট্টগ্রামকে বেসামরিকায়িত করতে ও ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তি মোতাবেক আইন প্রয়োগের দায়িত্বভার বাংলাদেশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করতে বাংলাদেশ সরকারকে আহবান করা।
——————–
সিএইচটিনিউজ ডটকম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।


Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.