মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৮
সংবাদ শিরোনাম

পার্বত্য চট্টগ্রামে পর্যটন: আশির্বাদ না অভিশাপ? (৩)

।। আর এস ত্রিপুুরা ।।

পার্বত্য চট্টগ্রামে পর্যটন
পার্বত্য চট্টগ্রামে অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য পর্যটনকে দাওয়াই হিসেবে প্রচার করা হয়। এ অঞ্চলের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য, পাহাড়-পর্বত, নদী-ঝর্ণা, প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম হ্রদ, স্থানীয় উৎসব-সংস্কৃতি ইত্যাদি দেশী বিদেশী পর্যটক আকর্ষণ করতে সমর্থ। ভেলাম ভেন সেন্দেল পার্বত্য চট্টগ্রামকে A rustic paradise  (অকৃত্রিম স্বর্গ) হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ‘দ্যা চিটাগাং হিল ট্র্যাক্টস, লিভিং ইন এ বর্ডারল্যান্ড’ বইয়ে তিনি ও অন্যরা লেখেন, যে সকল পশ্চিমা ব্যক্তি পার্বত্য চট্টগ্রাম সফর করেছেন তাদের প্রায় সকলে স্থানীয় জনগণের অমায়িক ব্যবহারে মুগ্ধ হয়েছেন। অধিকাংশ পর্যটক এ অঞ্চল সফর শেষে এক রোমান্টিক স্মৃতি নিয়ে ফিরে যান। এক পর্যটকের উদ্ধৃতি দিয়ে ওই বইয়ে তারা লেখেন, যারাই পাহাড়ে (পার্বত্য চট্টগ্রামে) প্রবেশ করে তারা সবাই পরিবর্তিত মানুষ হিসেবে বের হয়ে আসে।[১]

# বগালেক, বান্দরবান। ছবি সংগৃহীত
# বগালেক, বান্দরবান। ছবি সংগৃহীত

বৃটিশ আমলে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছিল এক্সক্লুডেড এরিয়া। তখন এখানে রাস্তাঘাট ও যানবাহনের উন্নয়ন ঘটেনি। এ কারণে সে সময় পর্যটকদের আগমণ ছিল সীমিত। মূলতঃ খৃষ্টান ধর্ম প্রচারক, ইউরোপিয়ান প্লান্টার ও ব্যবসায়ীরা সেখানে যাতায়ত করতেন। যতদূর জানা যায়, বিদেশীদের মধ্যে প্রথম পার্বত্য চট্টগ্রাম সফর করেন ফ্রান্সিস বুকানন ১৭৯৮ সালে, পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলার চট্টগ্রামের সাথে জুড়ে দেয়ার ৬২ বছর আগে। তিনি মূলতঃ মসলা চাষের উপযুক্ত জায়গা খোঁজার জন্য দক্ষিণ পূর্ব বাংলাদেশ সফরের সময় কার্পাস মহলেও (তখনকার পার্বত্য চট্টগ্রামের নাম) গিয়েছিলেন।[২]

পাকিস্তান আমলে পার্বত্য চট্টগ্রামে পর্যটনের উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারীভাবে পদক্ষেপ নেয়া হয়। ১৯৬০ দশকে পর্যটক আকর্ষণের জন্য প্রচারিত একটি লিফলেটে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য, নয়নাভিরাম কাপ্তাই হ্রদ, পাহাড়িদের বৈচিত্র্যময় জীবনধারা তুলে ধরা হয়; তাদের সংস্কৃতি ও নারীদের সৌষ্ঠব পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। ভেলাম ভেন সেন্দেল ও অন্য দুই লেখকের যৌথভাবে লেখা উপরোল্লেখিত বইয়ে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের পর্যটন বিভাগের দেয়া কাপ্তাই হ্রদের ছবি সম্বলিত একটি বিজ্ঞাপন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই বিজ্ঞাপনে কাপ্তাই লেকে স্পিডবোটিং করে ছুটি কাটানোর জন্য পর্যটকদের আকর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।[৩] কিন্তু তারপরও পাকিস্তান আমলে পর্যটন কর্মসূচী সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। একই বইয়ে তারা লিখেছেন, ‘কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামকে একটি গুরুত্বর্পূ পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করতে লোকাচার ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য যথেষ্ট নয়। পর্যটন কর্তৃপক্ষ সাংগ্রিলার প্রতিশ্রুতি দিলেও সরকারের অন্যান্য বিভাগগুলো পর্যটকদের এবং বিশেষত বিদেশী পর্যটকদের প্রতি আন্তরিক ছিল না। যারা রাঙামাটি ও কাপ্তইয়ের বাইরে পাহাড়ের আরো কিছু দেখতে চাইতো তাদেরকে বলা হতো ‘সরকারের কাছ থেকে পূর্বানুমতি লাগবে’। বাস্তবে বৃটিশ আমল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বাইরের লোকজনের জন্য  বলতে গেলে নিষিদ্ধ রয়েছে। ফলে পর্যটন এখানে খোঁড়া অবস্থায় রয়ে গেছে। এর বিকাশের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।’[৪]

পাকিস্তান আমলে ট্যুরিস্ট আকর্ষণের জন্য বিজ্ঞাপন, সৌজন্যে দ্যা চিটাগাঙ হিল ট্র্যাক্টস, লিভিং ইন এ বর্ডারল্যান্ড, ভেলাম ভেন সেন্দেল ও অন্যরা, ২০০১
# পাকিস্তান আমলে ট্যুরিস্ট আকর্ষণের জন্য বিজ্ঞাপন, সৌজন্যে দ্যা চিটাগাঙ হিল ট্র্যাক্টস, লিভিং ইন এ বর্ডারল্যান্ড, ভেলাম ভেন সেন্দেল ও অন্যরা, ২০০১

বাংলাদেশ আমলে পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র যুদ্ধ চলার সময় পর্যটন শিল্পের বিকাশ হওয়ার সম্ভাবনা ছিল না। তবে এ সময় পাহাড়ে সামরিক ও ব্যবসায়িক প্রয়োজনে রাস্তাঘাটের যথেষ্ট উন্নতি সাধন করা হয়। সমতল জেলার সাথে ব্যবসায়িক ও প্রশাসনিক যোগাযোগ বেড়ে যায়। পার্বত্য চুক্তির পর সরকার পর্যটন শিল্পের ব্যাপক প্রসারের জন্য সচেষ্ট হয়। তিন জেলায় হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট নির্মাণ করা হয়। পর্যটন জোন, কেন্দ্র ও স্পট গড়ে তোলা হয়। এগুলোর মধ্যে বান্দরবানে মেঘলা, নীলগিরি, বগালেক, রাঙামাটিতে ঝুলন্ত ব্রিজ, শুভলঙের জলপ্রপাত, খাগড়াছড়িতে আলুটিলার গিরিসুরঙ্গ, রিঝাং ঝর্ণা, দেবতাপুকুর ইত্যাদি। এমনকি বৌদ্ধ স্থাপত্য ও মন্দিরগুলোও পর্যটকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়। এগুলোর মধ্যে রাঙামাটির রাজবন বিহার, বান্দরবানের রাম জাদি মন্দির, স্বর্ণ মন্দির, খাগড়াছড়ির ইয়ংড বৌদ্ধ বিহার ও শান্তিপুর অরণ্য কুটির উল্লেখযোগ্য।

কিন্তু সরকার যেভাবে পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ঘটাচ্ছে তাতে কেবল একটি অতি ক্ষুদ্র বিত্তশালী গোষ্ঠী বা monied class -কেই লাভবান করছে। আর দুর্ভাগ্যবশতঃ এই শ্রেণীর যারা অন্তর্ভুক্ত তারা প্রায় সবাই বাঙালি জাতিগোষ্ঠীর লোক। অপরদিকে জোরজবরদস্তিমূলক উপনিবেশিক কায়দায় পরিচালিত পর্যটন পাহাড়ি জাতিগুলোর জন্য সুফল বয়ে আনার পরিবর্তে তাদের সর্বনাশই ডেকে আনছে। পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার নামে তাদেরকে ঐতিহ্যগত জুম চাষের জমি ও ভিটেমাটি থেকে উৎখাত করা হয়েছে ও হচ্ছে। বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ে নীলগিরি নামে একটি পর্যটন রিসোর্ট নির্মাণের জন্য মুরুংদের জমি দখল ও তাদেরকে বিতাড়িত করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার কারণে রাংলাই মুরুংকে গ্রেফতার ও অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। সাজেকে পর্যটনের জন্য রাস্তা নির্মাণের কারণে রিজার্ভ ফরেস্ট উজার হয়েছে এবং রুইল্ইু পাহাড়ে পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণের ফলে সেখানে বসবাসরত পাহাড়ি বিশেষত পাংকো জাতিসত্তার জনগণ এখন উচ্ছেদের সম্মুখীন। বর্তমানে খাগড়াছড়ির আলুটিলায় ৭০০ একর জমিতে বিশেষ পর্যটন জোন গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। এর ফলে কয়েক হাজার ত্রিপুরা জাতিসত্তার লোকজনের মধ্যে ওই এলাকা থেকে উচ্ছেদ হওয়ার আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

রিছাং ঝর্ণা, আলুটিলা, খাগড়াছড়ি। সম্প্রতি এই এলাকায় পাহাড়িদের ৭০০ একর জায়গায় পর্যটন জোন গঠনের সরকারী প্রক্রিয়া চলছে।
# রিছাং ঝর্ণা, আলুটিলা, খাগড়াছড়ি। সম্প্রতি এই এলাকায় পাহাড়িদের ৭০০ একর জায়গায় পর্যটন জোন গঠনের সরকারীভাবে প্রক্রিয়া চলছে। 

আর্থিকভাবেও পাহাড়িরা পর্যটন থেকে লাভবান হতে পারছেন না। পর্যটনের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল ব্যবসা যেমন হোটেল, রেস্তোরাঁ, ক্যাটারিং, যানবাহন ইত্যাদি সবই বাঙালিদের একচেটিয়া দখলে। এক কথায় পর্যটন বাঙালিদের মধ্যে একটি শ্রেণীকে লাভবান করলেও পাহাড়িদের জন্য তা চরম অভিশাপ হিসেবে দেখা দিয়েছে। তারা ইতিমধ্যে প্রান্তিক অবস্থান থেকে আরো অধিকতর প্রান্তিক অবস্থানে চলে যাচ্ছে।

পাহাড়িরা পর্যটনের সুফল না পাবার কারণ হলো মূলতঃ পার্বত্য চট্টগ্রামে তাদের রাজনৈতিক প্রশাসনিক ক্ষমতা না থাকা এবং পর্যটন যেভাবে সংগঠিত করা হচ্ছে তাতে তাদের কোন মতামত ও নিয়ন্ত্রণ না থাকা। বর্তমান আইন মোতাবেক পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থানীয় পর্যটন জেলা পরিষদের এক্তিয়ারভুক্ত। কিন্তু এই আইন কেবলমাত্র কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ। পর্যটনের জন্য জমি অধিগ্রহণ থেকে শুরু করে পরিকল্পনা প্রণয়ন, পর্যটন জোন গঠন ইত্যাদি কোন ক্ষেত্রে জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নেই। সরকার এই ধাল-তলোয়ার-বিহীন জেলা পরিষদ নামক সর্দারকে পাশ কাটিয়ে সবকিছু করে থাকে। আর এভাবে জেলা পরিষদের নেতারা তাদের অজান্তে সবকিছু করা হলেও তারা এ নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য করে না বা করতে পারে না। কারণ প্রথমত তারা সরকারের দাসানুদাস, সরকারের প্রতি ষাষ্ঠাঙ্গ আনুগত্যের পুরস্কার হিসেবে তাদের জেলা পরিষদের গদি লাভ হয়েছে। দ্বিতীয়ত এরা এমন গণ্ডমূর্খ যে তাদের হাতে কী ক্ষমতা আছে তাও তারা জানে না এবং সেই ক্ষমতা ব্যবহারও করতে পারে না। আসলে এই মূর্খতাই হলো তাদের দ্বিতীয় যোগ্যতা যার বলে তারা জেলা পরিষদে ঠাঁই পায়।

বর্তমান রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় উন্নয়নের অর্থই হলো পুঁজি বিনিয়োগ। পার্বত্য চট্টগ্রামে রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিমালিকানাধীন বিপুল পুঁজি বিনিয়োগ হয়েছে। এর ফলে অর্থনীতির প্রতিষ্ঠিত নিয়ম অনুযায়ী পাহাড়ি জনগণের একটি অংশ তাদের উৎপাদনের বা জীবিকার উপায় (জমি) থেকে বঞ্চিত হয়ে সর্বহারা বা আধা-সর্বহারায় পরিণত হচ্ছে এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ভিড় জমাচ্ছে। জার্মান নৃতত্ত্ববিদ লরেঞ্জ লফলার পার্বত্য চট্টগ্রামে উন্নয়ন ও দারিদ্র্যের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, ‘এক কালে পার্বত্য চট্টগ্রাম কেবল গাছ ও বাঁশ সম্পদে সমৃদ্ধ ছিল তাই নয়, ধান ও তুলারও বাড়তি উৎপাদন হতো। কঠোর পরিশ্রমী চাষীরা তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল এবং সত্যিকার অর্থে গরীব লোকের সংখ্যা ছিল অল্প। বর্তমানে উন্নয়ন সাহায্যের মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খরচ করার পর গরীব লোকের সংখ্যা বেড়েছে প্রচুর, ধান ও তুলা আমদানী করতে হচ্ছে এবং গাছ ও বাঁশ এত দুষ্প্রাপ্য হয়েছে যে, আদিবাসীদের আগেকার সুন্দর ঘরের স্থান দখল করেছে জরাজীর্ণ পর্ণকুটির।’[৫] উন্নয়নের নামে এখন যে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটানো হচ্ছে তার ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা যে আরো বেশী সঙ্গীন হয়ে উঠবে তাতে কোন সন্দেহ নেই ।

এটা সত্য যে, গত কয়েক দশকে বাংলাদেশে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বিপুল বিকাশ ঘটেছে এবং তাদের মধ্যে দেশ-বিদেশ ভ্রমণের আর্থিক সক্ষমতাও তৈরি হয়েছে। আর দেশের ভেতরে পার্বত্য চট্টগ্রাম হলো তাদের ভ্রমণের জন্য একটি আদর্শ স্থান। পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগণ বাঙালি nouveau riche-দের এই ভ্রমণ পিপাসাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ঘরের দরজা খুলে দিয়ে নিজেরাও আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হতে পারতেন। কিন্তু ইতিপূর্বে যেমনটা বলা হয়েছে, যেভাবে বা যে কাঠামোর মধ্যে পর্যটন সংগঠন করা হচ্ছে তা পাহাড়িদের উপর একপাক্ষিকভাবে চাপিয়ে দেয়া এবং এতে তারা লাভবান হওয়ার পরিবর্তে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এ অবস্থায় পাহাড়িদের ভবিষ্যত কী? উপনিবেশিক শাসকরা তাদের নিজেদের স্বার্থেই উপনিবেশগুলোতে ‘উন্নয়ন’ করে থাকে। তবে অনেক সময় তার ফলাফল হয় সুদূরপ্রসারী। যেমন বৃটিশরা ভারতে সামরিক প্রয়োজনে এবং কল কারখানায় সস্তায় তুলা ও অন্যান্য কাঁচামাল পরিবহণের জন্য রেল ব্যবস্থার প্রবর্তন করেছিল। কিন্তু তা ভারতের বিভিন্ন অংশ ও জনগণের মধ্যে ঐক্য ও যোগাযোগের সুযোগও করে দেয়। কার্ল মার্কস ১৮৫৩ সালে The Future Results of British Rule in India নামক প্রবন্ধে ভারতে বৃটিশ প্রবর্তিত রেল ব্যবস্থার ভবিষ্যত ফলাফল কী হতে পারে তার আলোচনা শেষে বলেন, ‘ভারতীয়রা তাদের মধ্যে বৃটিশ বুর্জোয়াদের বিক্ষিপ্তভাবে ছিটানো নতুন সামাজিক উপাদানের ফল ঘরে তুলতে পারবে না, যতক্ষণ না খোদ গ্রেট ব্রিটেনে শিল্প সর্বহারারা বর্তমান শাসক শ্রেণীর স্থলাভিষিক্ত হয়, অথবা যতক্ষণ না হিন্দুরা নিজেরাই ইংরেজদের জোয়াল সম্পূর্ণ ছুঁড়ে ফেলার জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী হয়।’[৬]

পার্বত্য চট্টগ্রামে বৃটিশ আমলে যে উপনিবেশিক শাসন শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ আমলেও তার ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। মার্কস তৎকালীন পরাধীন ভারতের ভবিষ্যত সম্পর্কে যে সিদ্ধান্ত টেনেছিলেন তার আলোকে বলা যায়, বাংলাদেশে শাসক শ্রেণীর মধ্যে পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের সমাজে বর্তমান বাঙালি শাসকগোষ্ঠীর প্রবর্তিত ‘নতুন উপাদানগুলোর’ (বর্তমান ভাষায় উন্নয়নের) সুফল পাহাড়িরা ঘরে তুলতে পারবে বলে মনে হয় না। তাহলে কি এই সুফল লাভের আগ পর্যন্ত তাদেরকে ‘রক্তপাত, কর্দমা, দুর্দশা ও লাঞ্ছনার’ মধ্য দিয়ে যেতে হবে?[৭] (সমাপ্ত)

—————————

[১] The Chittagong Hill Tracts, Living in a Borderland, by Willem van Schendel, Wolfgang Mey and Aditya Kumar Dewan, The University Press Limited, Dhaka, 2001

[২] Francis Buchanan in Southeast Bengal (1798) edited by Willem van Schendel, University Press Limited, Dhaka, 1992.

[৩] The Chittagong Hill Tracts, Living in a Borderland, by Willem van Schendel, Wolfgang Mey and Aditya Kumar Dewan, The University Press Limited, Dhaka, 2001, page 211.

[৪] ‘But folklore and natural beauty were not enough to make the Chittagong Hills an important tourist destination. While the tourism authorities promised a Sangri-La, other government departments were far less welcoming to tourists, especially foreign ones. Those wishing to see more of the hills than Rangamati and Kaptai were warned that “prior permission from government is required”. In reality, the Chittagong Hills have been largely off-limits for outsiders since British times. As a result, tourism remained stunned. Its development was a failure.’ The Chittagong Hill Tracts, Living in a Borderland, by Willem van Schendel, Wolfgang Mey and Aditya Kumar Dewan, The University Press Limited, Dhaka, 2001, page 211.

[৫] ‘Once upon a time, the Chittagong Hill Tracts were not only rich in timber and bamboo, but they also produced a surplus of paddy and cotton. Hard-working farmers were … comparatively well off, and really needy people were few in number. Nowadays, after millions of dollars of development aid have been spent needy people abound, rice and cotton have to be imported, and timber and bamboo have become so scarce that the formerly magnificent houses of the indigenous people gave way to poot huts.’ Cited in Migration, land alienation and ethnic conflict: causes of poverty in the Chittagong Hill Tracts of Bangladesh, by Shapan Adnan, Research and Advisory Services, first edition 2004.

[৬] ‘The Indians will not reap the fruits of the new elements of society scattered among them by the British bourgeioise, till in Great Britain itself the now ruling classes shall have been supplanted by the industrial proletariat, or till the Hindoos themselves shall have grown strong enough to throw off the English yoke altogether.’ Karl Marx and Frederick Engels Selected Works, Volume one, Progress Publishers Moscow, Third Printing 1976, page 498.

[৭] একই প্রবন্ধে মার্কস লেখেন Has it (bourgeoise) ever effected a progress without dragging individuals and peoples through blood and dirt, through misery and degradation?

———————————-
সিএইচটি নিউজ ডটকম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।


Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.