মুক্তমত
এমপি’র অনুমোদিত বাড়ি ভেঙে দেয়া কী ধৃষ্টতা নয়?
।। পারদর্শী ।।
গুইমারা উপজেলার পঙ্খীমুড়ো এলাকার বাসিন্দা সনে রঞ্জন ত্রিপুরা সিন্দুকছড়ি-মহালছড়ি সড়কের পাশে তার নিজ জায়গায় একটি বাড়ি নির্মাণ করার জন্য খাগড়াছড়ি আসনের এমপি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার কাছে অনুমতি চাইলে তিনি অনুমতি প্রদান করেন বলে জানা যায়।
কিন্তু সনে রঞ্জন যখন বাড়ি নির্মাণ করতে আরম্ভ করেন তখন বাধা হয়ে দাঁড়ায় মহালছড়ি জোনের সেনাবাহিনী! ২৬ মে ২০২১ স্থানীয় ধুমনিঘাট ক্যাম্প থেকে একদল সেনাসদস্য গিয়ে তাকে বাড়ি নির্মাণে বাধা প্রদান করেন। এরপর ২৮ মে তাকে ধুমনিঘাট ক্যাম্পে ডেকে নিয়ে নির্মাণাধীন বাড়িটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ প্রদান করা হয়, অন্যথায় মামলা দায়ের করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে এমপি’র অনুমোদন থাকায় তিনি বাড়িটি নির্মাণ কাজ চালিয়ে যান এবং কোন রকমে কাজ প্রায় শেষ করেন। এরপর তিনি এমপিকে বাড়ি নির্মাণের বাধাদানের ঘটনার বিস্তারিত জানান গত ৫ জুন ২০২১ তারিখে। এ সময় এমপি তাকে ‘যেহেতু বাড়িটি নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে, তোমরা তা অব্যাহত রাখ, আমি ঢাকা থেকে খাগড়াছড়িতে ফিরলে ব্রিগেডিয়ারের সাথে কথা বলে সমাধান করে দেব’ এমন আশ্বাস দেন বলে জানা যায়।
কিন্তু এমপি’র এই সমাধানের পূর্বে গত ১২ জুন ২০২১ রাত সাড়ে ১০টার দিকে মহালছড়ি জোনের সেনা সদস্যরা তার সদ্য নির্মিত বাড়িটি ভেঙে দেয় এবং বাড়িটি নিশ্চিহ্ন করে দিতে খুঁটি, বেড়া, বাড়ির চলের টিনসহ যাবতীয় খুলে গাড়িতে করে নিয়ে যায়। এর পরদিন (১৩ জুন) সকালে তড়িঘড়ি করে সেখানে একটি ঘর নির্মাণ করে সেটিকে ‘কমিউনিটি ক্লিনিক’ নাম দিয়ে উদ্বোধন করা হয়।
একদিকে সরকার দেশে ভূমিহীন-অসহায় মানুষের জন্য বসতবাড়ি নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, অপরদিকে সরকারের নিয়োজিত বাহিনী কর্তৃক পাহাড়ি গ্রামবাসীর নির্মিত বাড়ি ভেঙে দিয়ে তার জায়গাটি দখলে নেওয়া এ কেমন নীতি? সরকার কী এর বিচার করবে?
এমপির অনুমোদন নিয়ে সনে রঞ্জন ত্রিপুরার নির্মিত ঘর ভেঙে দেয়া কিসের ইঙ্গিত বহন করে। এ কী ধৃষ্টতা নয়?
***
[মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখাগুলো লেখক/লেখকদের নিজস্ব মতামতই প্রতিফলিত]
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।