নানিয়াচর॥ সেনা-সৃষ্ট নব্য মুখোশ বাহিনীর মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।
ক্ষমতা ও অর্থ হলো তাদের মধ্যে এই পারষ্পরিক সন্দেহ, অবিশ্বাস ও দ্বন্দ্বের মূল কারণ। এ নিয়ে যে কোন সময় তাদের মধ্যে প্রকাশ্য সংঘাত শুরুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নব্য মুখোশ বাহিনীর অন্যতম শীর্ষ ব্যক্তি পান্ডব চাকমা ওরফে রনয় এর সাথে ইউপিডিএফের এক নেতার ফোনালাপে যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে তাতে এই দ্বন্দ্বের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। [ফোনালাপের অডিও রেকর্ড শুনুন]
রনয় ঐ কথোপকথনের এক পর্যায়ে ইউপিডিএফ নেতাকে জানায় যে, তারা তিন-চার জন মিলে তরুকে (মুখোশ সর্দার শ্যামল কান্তি চাকমা ওরফে জোলেয়্যা) মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গোপনে রেকর্ডকৃত উক্ত মোবাইল ফোনালাপে রনয়কে বলতে শোনা যায় সে তরু কখন পানছড়ি বা মুবাছড়ি যাচ্ছে জানতে পারলে তা ইউপিডিএফ নেতাকে জানিয়ে দেবেন, যাতে ইউপিডিএফ তাকে এ্যামবুশ করতে পারে।
রনয় জানায়, ‘তরুবোরে মারিবার সিদ্ধান্ত লুয়েই তিন-চেজ্জনে। তরুবো যুদি কোনক্রমে এযেদে অয়, তথ্য পেলে মুই দি-দিম। … তে যুদি পানছড়ি যার তথ্যআন পেলে …, মুবাছড়ি এইচ্যে সে তথ্য পেলে দি-দিম।’
এছাড়া তরু কোন বাঙালি মোটর সাইকেল চালকের সাথে খাগড়াছড়ি থেকে পানছড়ি আসা-যাওয়া করে তাও রনয় বলে দেয়। তরুকে চেক দিতে না পারলে সে অনেক ক্ষতি করবে বলে সে ইউপিডিএফ নেতার কাছে মন্তব্য করে।
জানা যায়, রনয় বহু আশা করে নব্য মুখোশ বাহিনীতে যোগ দিলেও সে সুযোগ সুবিধা ও ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত। সংগ্রাম ও কাজের বহু অভিজ্ঞতা থাকা সত্বেও তাকে নামমাত্র দায়িত্ব দিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে। বর্মার মৃত্যুর পর এখন টাকা পয়সা সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে প্রত্যয় চাকমা ওরফে দাজ্যা।
তার অভিযোগ কেবল তরুকে বিশ্বাস করা হয়। তুরু যত টাকাই হোক সে চাইলেই তা তাকে দিয়ে দেয়া হয়। এ জন্য রনয় ও তার ঘনিষ্টদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ রয়েছে এবং যে কোন প্রকারে তরুকে সরিয়ে দেয়ার অথবা নানাভাবে তাকে ক্ষতি করার চেষ্টা করছে।
অপরদিকে তুরু ও পানছড়ি থেকে ভর্তি হওয়া নব্য মুখোশ সদস্যদেরও রনয়-এর বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ রয়েছে। তাদের মতে রনয় হলো একজন অপদার্থ, সে কোন কাজই করতে পারে না, কেবল মেয়েদের সাথে মশগুল থাকতে পছন্দ করে।
কেবল তরুর বিরুদ্ধে নয়, রনয় সংস্কারবাদী নেতা প্রজ্ঞান খীসার ব্যাপারেও ক্ষুদ্ধ। সে ইউপিডিএফ নেতার কাছে প্রজ্ঞান খীসার ব্যাপারেও অনেক তথ্য ফাঁস করে দেয়।
রনয় জানায় প্রজ্ঞান খীসাই আর্মিদের দিয়ে নানিয়াচরের মধ্য আদামে ও খাগড়াছড়ির হরিনাথ পাড়ায় ইউপিডিএফ-এর উপর হামলা চালিয়েছিল।
তার মতে, ‘চেয়ারমিন্যার মুরে মুরে ভাব আলাদা।’ রনয় এর আরো অভিযোগ প্রজ্ঞান খীসা সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। ইউপিডিএফ থেকে যোগ দিয়েছে বলে তাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করা হয় না।
——————–
সিএইচটিনিউজ ডটকম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।