ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত চান না বলেই সন্তু গ্রুপ থেকে ছুটিতে এসে আর ফিরে যাননি সোনামুনি

দীঘিনালা প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত চান না বলেই জেএসএস (সন্তু)-এর সশস্ত্র গ্রুপ থেকে ছুটিতে বাড়িতে এসে আর ফিরে যাননি সোনামুনি চাকমা, যার দলীয় নাম ‘মিশু’।
সোনামুনি চাকমার বাড়ি দীঘিনালা উপজেলার ৪নং দীঘিনালা ইউনিয়নের অরুণ বিকাশ কার্বারি পাড়ায়। তার বয়স মাত্র ১৭ বছর। বাবু চাকমা ও কাজলা দেবি চাকমার সন্তান তিনি।
সেনামুনি চাকমা জানান, প্রায় ১৩-১৪ মাস আগে দীঘিনালার নাড়াইছড়ির হোগেয়িতুলিতে তিনি জেএসএস সন্তু গ্রুপে যোগ দেন। যোগদানের মাত্র তিন দিনের মাথায় তাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় ভারতের গন্ডাছড়ায়। সেখানে একদিন অবস্থানের পর তাকে মিজোরামে স্থানান্তর করা হয়। তিনি জানান, তাকে মূলত প্রশিক্ষণের জন্য সেখানে পাঠানো হয়েছিল, যদিও যাত্রার শুরুতে তিনি এ বিষয়ে জানতেন না।
মিজোরামে এক মাসের প্রশিক্ষণ শেষ করে ফিরে এসে তিনি রাঙামাটির সাজেক এলাকার খাগড়াছড়ি নামক স্থানে সশস্ত্র শাখায় দায়িত্ব পালন শুরু করেন। সেখানে টানা ৯ মাস অবস্থানের পর ৪৫ জনের একটি সশস্ত্র দলের সাথে তিনি পুনরায় গন্ডাছড়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। সেখানে প্রায় এক মাস (২৭-২৯ দিন) অবস্থানের পর ৩৮ জনের একটি দল নিয়ে তারা আবার সাজেকের ‘মঙ্গোলি’ বা ‘বাঘে মোড়’ নামক স্থানে ফিরে আসেন। সেখান থেকেই ছুটি নিয়ে বাড়িতে চলে আসেন সোনামুনি।
সশস্ত্র জীবনে সোনামুনির অভিজ্ঞতার ঝুলিতে যুক্ত হয়েছে প্রত্যক্ষ যুদ্ধের স্মৃতিও। জানিয়েছেন সাজেক এলাকার পিট্টিছড়ায় তার প্রথমবারের মতো সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করার কথা।
সোনামুনি চাকমা বুঝতে পেরেছেন ভাইয়ে ভাইয়ে হানাহানি, মারামারি মঙ্গলজনক নয়। এটা বুঝতে পেরেই তিনি বাড়িতে এসে আর দলে ফিরে যাননি বলে জানান।
তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “তারা (সন্তু গ্রুপ) ভাইয়ে ভাইয়ে মারামারি করার কারণে আমি চলে এসেছি, আমার ভাইয়ে ভাইয়ে মারামারি ভালো লাগে না।”
আদতে সন্তু লারমার জেএসএস শাসকগোষ্ঠির বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধের’ কথা বলে কিশোর-তরুণদের সশস্ত্র গ্রুপে ভর্তি করে ইউপিডিএফের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়ে কীভাবে প্রতারণা করছে তা সোনামুনি চাকমার অভিজ্ঞতা থেকে সহজেই বুঝা যায়।
জেএসএস(সন্তু)-এর সশস্ত্র কর্মীদের মধ্যে সোনামুনি চাকমার মতো উপলব্ধিবোধ জাগ্রত হলেই পার্বত্য চট্টগ্রামে ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতের অবসান হবে- এটা নিঃমন্দেহে বলা যায়।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
