মহালছড়ির ক্যায়াংঘাট ইউপি’র করল্যাছড়ি এলাকায় সেটলার পুনর্বাসনের পাঁয়তারা!

0


মহালছড়ি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ

শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার ক্যায়াংঘাট ইউনিয়নের ভিতর করল্যাছড়ি এলাকায় সেটলার বাঙালি পুনর্বাসনের পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকায় খোঁজ নিয়ে এ অভিযোগের কিছুটা সত্যত্য পাওয়া গেছে। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য মতে “উক্ত স্থানে অন্তত ৩৩৬ পরিবার সেটলার পুনর্বাসনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।”

তবে সঠিক কত পরিবারকে পুনর্বাসন করা হতে পারে সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলে জানা যায়, জায়গাটির অবস্থান ভিতর করল্যাছড়ি ও উগুদোছড়ির (উল্টাছড়ি) মধ্যবর্তী স্থানে। জায়গার পরিমাণ ৮ থেকে ১০ একর হতে পারে।

উক্ত জায়গাটির ভোগদখলকারী মালিক ছিলেন দয়াময় চাকমা নামে এক ব্যক্তি। পরে তিনি বিশাল চাকমা (ডাক নাম রাঙা বিশাল, জেএসএস সংস্কার দলের কর্মী)-এর কাছে জায়গাটি বিক্রি করে দেন। উক্ত জায়গার ওপর বিশাল চাকমা আম বাগান সৃজন করেছেন বলে জানান স্থানীয়রা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশাল চাকমা উক্ত বাগানের আম অগ্রিম বিক্রির জন্য ক্রেতা খোঁজার খবর পেয়ে উল্টাছড়ি বাঙালি (সেটলার) পাড়ার সেটলাররা আপত্তি তোলে এবং সেখানে তাদের ৩ শতাধিক পরিবারের জায়গা রয়েছে বলে দাবি করে। এমনকি তারা বাগানের আম বিক্রির ৫০% টাকাও দাবি করে। এ নিয়ে সেটলাররা মহালছড়ি সেনা জোনে অভিযোগ দেয়।

তাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত বুধবার (৪ মার্চ) রাতে ক্যায়াংঘাট ইউপি চেয়ারম্যান রুপেন্দু দেওয়ানকে মহালছড়ি জোনে ডেকে পাঠানো হয় বলে জানা গেছে। তবে সেখানে তার সাথে কী কথা হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।

বিষয়টি নিয়ে চেয়ারম্যান রুপেন্দু দেওয়ানের কাছ থেকে জানতে চাইলে, তিনি উক্ত বিষয়ে কাজ করছেন বলে জানান এবং কোন অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য পাহাড়ি ও বাঙালিদের নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে, উক্ত জায়গায় “সেটলার পুনর্বাসন করা হবে” এমন খবরে স্থানীয় পাহাড়িরা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন।

অপরদিকে, স্থানীয়দের অনেকে ‘জায়গাটি সেটলারদের কাছ থেকে বিক্রি করা হয়েছে’ বলেও সন্দেহ প্রকাশ করছেন। তবে সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে তারা তথ্য দিতে পারেননি।

প্রসঙ্গত, সেটলার পুনর্বাসন পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি ধ্বংসের একটি অন্যতম রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। ’৭৯-৮০ সালে জিয়াউর রহমান গোপন সার্কুলারের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে সমতলের চার লক্ষাধিক বাঙালিকে পার্বত্য চট্টগ্রামে এনে পুনর্বাসন করার ফলে জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়, যা এখনো চলমান রয়েছে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভের পর জিয়াউর রহমানের পুত্র তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করে আবার ক্ষমতাসীন হয়েছে। নতুন করে বিএনপি ক্ষমতায় আসতে না আসতে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেটলার পুনর্বাসনের খবরে পাহাড়িদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More