বান্দরবান প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
বৃহস্পতিবার, ৫ জানুয়ারি ২০২৩

বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের রেংয়েন কার্বারি (ম্রো) পাড়ায় হামলা, ঘর-বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের একটি প্রতিনিধি দল। কমিশন গতকাল এক বিবৃতিতে ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিনিধি দল পাঠানোর কথা জানিয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত রবিবার (১ জানুয়ারি ২০২৩) দিবাগত মধ্যরাত ১:০০টার সময় লামা রাবর ইন্ডাস্ট্রিজ’র লেলিয়ে দেওয়া রাবার বাগান শ্রমিক ও ভাড়াটে বহিরাগত দুর্বৃত্তরা রেংয়েন ম্রো পাড়ায় হামলা চালায়। এসময় দুর্বৃত্তরা আগুন লাগিয়ে দিয়ে ম্রোদের ৩টি বাড়ি পুড়িয়ে দেয়, ৬টি বাড়ি ভেঙে দেয় ও সহায়-সম্পত্তি লুটে নিয়ে যায়।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় কংজরী চৌধুরীর নেতৃত্বে মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধি দলটি ঘটনাস্থল রেংয়েন কার্বারী পাড়ায় পৌঁছে। এরপর প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেন। কমিশনের প্রতিনিধি দলে আরো ছিলেন পরিচালক (অভিযোগ ও তদন্ত) মো. আশরাফুল আলম (জেলা ও দায়রা জজ), উপ-পরিচালক মোহাম্মদ গাজী সালাউদ্দিন এবং রাঙামাটি পার্বত্য জেলা কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম।

এসময় লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ শহীদুল ইসলাম চৌধুরী, সরই ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইদ্রিস কোম্পানি, বান্দরবান জেলা ও লামা উপজেলার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দলটি সাংবাদিকের সাথে কথা বলেন।
এর আগে গতকাল সংবাদ মাধ্যমে প্রেরিত বিবৃতিতে কমিশন রেংয়েন ম্রো পাড়াবাসীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বরাত দিয়ে বলেছে, ‘লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড কোম্পানি তাঁদের (ম্রোদের) উচ্ছেদ করে জমি দখলের জন্য ট্রাকভর্তি লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে এসে হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে’।
বিবৃতিতে কমিশন আরো বলেছে, ‘গত ২৬ এপ্রিল ২০২২ তারিখে ম্রো জাতিসত্তার মানুষদের এলাকার ৩৫০ একর জুমচাষের প্রাকৃতিক বন পুড়িয়ে দেয়া, পানির ঝর্ণা বিনষ্ট করা এবং পরবর্তীতে এর ফলে সৃষ্ট খাদ্য ও সুপেয় পানির অভাবে তিনটি গ্রামের মানুষের অত্যাধিক কষ্টে জীবন যাপনের বিষয়ে কমিশন তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়েছিল। সেসময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ করা হয় যে, লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড দীর্ঘদিন থেকে উক্ত এলাকার ম্রো এবং ত্রিপুরা জনগোষ্টিকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছে।
অভিযোগের বিপরীতে কার্যকর প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ধারাবাহিকভাবে এসব ঘটনা ঘটে চলেছে এবং ম্রো সম্প্রদায়ের মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে কমিশন বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে।
এদিকে, গতকাল বুধবার (৪ জানুয়ারি) বিকালে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তফা জাবেদ কায়সার, সহকারী পুলিশ সুপার (লামা সার্কেল) নুরুল আনোয়ার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম চৌধুরী উক্ত ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা ঘটনার সত্যতা মিলেছে এবং দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা হবে বলে জানান।
পরিদর্শন শেষে উপজেলা প্রশাসন থেকে দুর্বৃত্তদের লাগানো আগুনে ভস্মীভূত ও ভাঙচুরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দুটি করে কম্বল দেওয়া হয়। এ ছাড়া অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত তিন পরিবারকে ছয় বান্ডিল করে ঢেউটিন, ১০ কেজি চাল এবং বাড়ি ভাঙচুর হওয়া পরিবারগুলোকে ৩০ কেজি চাল ও কম্বল দিয়েছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন নামে একটি সংগঠন।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
সিএইচটি নিউজের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন