শহীদ ভরদ্বাজ মুনি চাকমার স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে দেয়ায় পিসিপি’র নিন্দা ও প্রতিবাদ

0
ভেঙে দেওয়া শহীদ ভরদ্বাজ মুনির স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ।

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে প্রথম শহীদ ভরদ্বাজ মুনি চাকমা’র স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে দেয়ায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)।

আজ শনিবার (২৯ আগস্ট ২০২৬) বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি সমর চাকমা ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল চাকমা সংবাদ মাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

নেতৃবৃন্দ বলেন, খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রথম শহীদ ভরদ্বাজ মুনি চাকমার স্মরণে নির্মিত স্থায়ী শহীদ স্মৃতিস্তম্ভটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, রাজীব চাকমা’র নেতৃত্বে গতকাল শুক্রবার ২৮ আগস্ট ২০২৬, বেলা ২:৩০ টার দিকে দীঘিনালা কলেজ সংলগ্ন রাস্তার পাশে বাবুপাড়ায় স্থায়ীভাবে স্থাপিত স্মৃতিস্তম্ভটি ভেঙে দেওয়া হয়। অভিযুক্ত রাজীব চাকমা পূর্বে সংস্কারবাদী জেএসএস ও সেনা-সৃষ্ট ঠ্যাঙাড়ে বাহিনীর (নব্যমুখোশ) সাথে যুক্ত ছিলেন। সেনাসৃষ্ট ঠ্যাঙাড়ে বাহিনীতে থাকাকালে তার বিরুদ্ধে বহু খুন-অপহরণসহ নানা অপরাধ সংঘটিত করার অভিযোগ রয়েছে।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে শহীদ ভরদ্বাজ মুনি শাসকগোষ্ঠীর অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এক সাহসীকতার প্রতীক। ১৯৯২ সালের ১৩ অক্টোবর দীঘিনালা সদরে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের আহুত ছাত্র-গণসমাবেশে যোগ দিতে এসে মাইনি ব্রীজের সন্নিকটে সেনাবাহিনীর মদদে সেটলারদের নৃশংস হামলায় শহীদ হন ৭০ বছরের বৃদ্ধ ভরদ্বাজ মুনি চাকমা। হামলায় প্রায় অর্ধশত নারী-পুরুষ আহত হয়েছিলেন। ভরদ্বাজ মুনি পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে প্রথম শহীদ হওয়া ব্যক্তি। তাঁর আত্মবলিদানের ঘটনাটি পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণকে আন্দোলিত করে এবং অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অনুপ্রেরণা যোগায়। শহীদ ভরদ্বাজ মুনি চাকমা’র স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙ্গে দেয়া পার্বত্য চট্টগ্রামের আন্দোলনকামী সকল পাহাড়ি জনগণের ওপর চপেটাঘাত করার সামিল।

ভরদ্বাজ মুনি চাকমা’র স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে দেয়া পার্বত্য চট্টগ্রামের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসের চিহ্ন মুছে দেয়ার চক্রান্ত উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে ভরদ্বাজ মুনি চাকমা শহীদ হয়েছিলেন। বর্তমানেও বিএনপি সরকার ক্ষমতায়। শহীদ ভরদ্বাজ মুনি চাকমা’র হত্যার দায় বিএনপি সরকারেরও রয়েছে। দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে শহীদ ভরদ্বাজ মুনি চাকমা’র স্মৃতিস্তম্ভ অক্ষত থাকলেও বিএনপি সরকার পুনরায় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর হঠাৎ কার ইন্ধনে জাতীয় কুলাঙ্গার রাজীব ভরদ্বাজ মুনি চাকমা’র স্থায়ী শহীদ ভেদী ভাঙার স্পর্ধা পেল এবং শহীদের প্রতি অসম্মান ও অমর্যাদা দেখিয়ে স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে দেয়ার ঘটনাটি নানা প্রশ্নের উদ্রেক করে। অবিলম্বে ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে স্মৃতিস্তম্ভটি যথাস্থানে পুনঃস্থাপন করতে হবে।

নেতৃবৃন্দ, জাতীয় কুলাঙ্গার, প্রতিক্রিয়াশীল ও শাসকগোষ্ঠীর দোসরদের প্রতিহত করে পার্বত্য চট্টগ্রামে জুম্ম জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ছাত্র-জনতাকে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More