সাজেকে দ্বিতীয় দফায় সড়ক অবরোধ চলছে

0
বাঘাইহাট ১০ নম্বর এলাকায় সড়ক আগুন জ্বালিয়ে পিকেটিং


সাজেক প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

৪৮ ঘন্টার সময়সমীর মধ্যে জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়াসহ তিন দফা দাবি পূরণে প্রশাসন ব্যর্থ হওয়ায় এবং প্রতিশ্রতি ভঙ্গ করায় রাঙামাটির সাজেকে দ্বিতীয় দফায় সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশন।

আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ৬টা থেকে এ অবরোধ শুরু হয়েছে। পিকেটাররা বাঘাইহাট ১০ নম্বর, গঙ্গারাম ব্রীজ ও মাচলঙ ১৪ কিলোসহ কয়েকটি স্থানে সড়কে টায়ার ও বাঁশ-গাছের গুড়িতে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন।

এর আগে গত ১১ অক্টোবর অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ শুরু করা হলে ওই দিন বিকালে প্রশাসন সাজেকবাসীর ৩ দফা দাবি/শর্ত মেনে নিলে ৪৮ ঘন্টার জন্য সড়ক অবরোধ স্থগিত করা হয়েছিল।

অবরোধের কারণে সাজেক পর্যটন সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

তাদের তিন দফা দাবি বা শর্তগুলো হচ্ছে- ১. ৪৮ ঘন্টা সময়ের মধ্যে জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নিতে হবে, ২. জেএসএসের সদস্যরা কাউকে মৃত্যুর হুমকি দেবে না ও ৩. সেনা প্রশাসন কর্তৃক সাধারণ নিরীহ জনগণের ঘর-বাড়ি তল্লাশি ও হয়রানি করা যাবে না।

গঙ্গারাম ব্রীজে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ পালন করছেন পিকেটাররা।

উক্ত তিন দফা দাবি/শর্ত বাস্তবায়ন না হওয়ায় বুধবার (১৪ অক্টোবর) এক যৌথ বিবৃতিতে দ্বিতীয় দফার এই সড়ক অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেন সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা ও সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা।

এতে তারা বলেন, “সাজেকের মাচলঙ এলাকার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নিতে আমরা গত ১১ অক্টোবর ২০২৬ সাজেক পর্যটন সড়কে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছি। ওই দিন প্রশাসন ৪৮ ঘন্টা সময়ের মধ্যে সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়াসহ আমাদের তিন দফা দাবী মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। যার কারণে আমরা অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ ৪৮ ঘন্টার জন্য স্থগিত করেছিলাম। কিন্তু গতকাল ৪৮ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন হয়নি। উপরন্তু গতকাল সেনাবাহিনীর সদস্যরা মাচলঙের চিল্ল্যাতুলি গ্রামে মিয়্যো চাকমা নামে এক সাধারণ গ্রামবাসীর ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। আমরা ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

 মাচলঙ ১৪ কিলো এলাকায় সড়কে আগুন জ্বালিয়েছে পিকেটাররা। 

নেতৃদ্বয় জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যরা এখনো আগের অবস্থানগুলোতেই রয়েছে উল্লেখ করে বলেন, “তারা মাচলঙ এলাকার থালকুম্ভো, চিল্ল্যাতুলি, নোয়াপাড়া, লাম্বাবাক ও ভুয়োছড়ি এলাকায় প্রকাশ্যে সশস্ত্র তৎপরতা চালাচ্ছে, জনগণকে হুমকি, ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে এবং গ্রামবাসীদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিচ্ছে। সেনাবাহিনী লোকদেখানো অভিযান চালালেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

“এমতাবস্থায় এলাকার জনগণের নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষার্থে এবং জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের সন্ত্রাস ও উৎপাত বন্ধ করার জন্য তাদেরকে উক্ত এলাকা থেকে সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। এ লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার থেকে সাজেকে আবারো সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে।”

তবে বিবৃতিতে অবরোধ পালনকালে জরুরী ফায়ার সার্ভিস, এ্যাম্বুলেন্স ও শববাহী গাড়ি, জরুরী ঔষধ সরবরাহকারী ও সংবাদপত্র বহনকারী যান, সংবাদ সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত সাংবাদিকদের গাড়ি এই অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে বলে জানানো হয়।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More