সাজেকে শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধকারীদের ওপর সেনাবাহিনীর হামলা ও গুলি বর্ষণের ঘটনায় পিসিপি’র তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

রাঙামাটি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধকারী জনগণের ওপর সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত হামলা, লাঠিচার্জ, ভাঙচুর ও এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)।
আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর ২০২৬) বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি সমর চাকমা ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল চাকমা সংবাদ মাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে এই তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
নেতৃবৃন্দ বলেন, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক এলাকাবাসীর জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশন তৃতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সাজেক পর্যটন সড়ক অবরোধের ডাক দেয়। ঘোষিত কর্মসূচি বানচাল করে দিতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ প্রশাসন সকাল থেকে মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিয়ে বাধা সৃষ্টি করে। এক পর্যায়ে প্রশাসনের বাধা উপেক্ষা করে জনগণ উজোবাজারে অবস্থান নেয়। শান্তিপূর্ণ অবরোধ চলাকালীন আনুমানিক সকাল ১১টার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে অতর্কিত হামলা চালিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ করে। সেনাদের বর্বরোচিত হামলায় ৬০ জনের অধিক আহত হয়। এসময় সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব বিজয় কান্তি চাকমার বাড়িসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দোকানপাটও ভাংচুর করা হয়।
নেতৃদ্বয় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জেএসএসের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা জনগণের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া, জুমচাষীদের ওপর গুলি বর্ষণ, ৩য় শ্রেণীর শিশু কস্মিতা ত্রিপুরাকে গুলি করে আহত, জনপ্রতিনিধিসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে সেনা ক্যাম্পের আশেপাশে সশস্ত্র অবস্থায় অবস্থান করে থাকে। জনমনে উৎপাত সৃষ্টকারী জেএসএস সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সেনাবাহিনী কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করে উল্টো আন্দোলনকারী জনতার ওপর ন্যক্কারজনক হামলা ও এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। আজকের ঘটনা স্পষ্ট প্রমাণ করে জেএসএস সশস্ত্র গোষ্ঠীর মূল আশ্রয়দাতা ও মদতদানকারী সেনাবাহিনী। পার্বত্য চট্টগ্রামকে অস্থিতিশীল রেখে সেনাবাহিনী নিজেদের প্রমোশন বাণিজ্যের স্বার্থে জেএসএস সশস্ত্র গোষ্ঠীসহ নিজেদের সৃষ্ট প্রক্সি গ্রুপদের ব্যবহার করছে। যা দেশের জনস্বার্থ বিরোধী ও চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন।
নেতৃদ্বয় আরো বলেন, সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারী এসোসিয়েশনের যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে সাজেকে সেনাবাহিনীর সশস্ত্র যুদ্ধের নাটক ও তৈরীকৃত কৃত্রিম সংকট বন্ধ করতে হবে। একই সাথে জেএসএস সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের মদতদান দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামকে অস্থিতিশীল রাখার ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে। অন্যথায়, পার্বত্য চট্টগ্রামের অনাকাঙ্ক্ষিত সকল ঘটনার দায় রাষ্ট্রকে নিতে হবে।
নেতৃদ্বয়, অবিলম্বে সাজেকে জনগণের স্বার্থ ও যৌক্তিক দাবিতে শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী জনতার উপর ন্যাক্কারজনক হামলা ও লাঠিচার্জ এবং বাড়িঘর ভেঙে দেয়ার ঘটনার সাথে জড়িত সকল পুলিশ ও সেনা সদস্যের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
