আইএসপিআর বক্তব্য ফ্যাসিস্ট হাসিনার সরকারি প্রেস নোট-এর প্রতিধ্বনি : ইউপিডিএফ

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) কর্তৃক শুক্রবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ “তিন পার্বত্য জেলা সমূহে উশৃংখল জনসাধারণের মধ্যে চলমান সংঘর্ষ প্রসঙ্গে” শিরোনামে প্রদত্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিকে “ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিস্ট হাসিনার সরকারি প্রেস নোট-এর প্রতিধ্বনি” আখ্যায়িত করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)।
আজ শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪) সংবাদ মাধ্যমে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইউপিডিএফ’কে জড়িয়ে আইএসপিআর-এর অভিযোগকে বানোয়াট, সর্বৈব মিথ্যা ও প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার অপপ্রয়াস মন্তব্য করে দলটির মুখপাত্র অংগ্য মারমা বলেছেন, ‘দীঘিনালার বোয়ালখালিতে সেটলার বাঙালিদের কথিত মিছিল চলাকালে ঘটনাস্থলে ইউপিডিএফ-এর নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি ছিল না, মিছিলের ওপর ইউপিডিএফ কর্মীদের ২০-৩০ রাউন্ড গুলি করার অভিযোগ যারপরনাই মিথ্যাচার। অনুরূপভাবে খাগড়াছড়ির স্বনির্ভর এলাকায় টহলরত সেনা দলের ওপর ইউপিডিএফ কর্মীদের গুলি ছোঁড়ার কাহিনীও সত্যের অপলাপ।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইএসপিআর-এর বক্তব্য চ্যালেঞ্জ করে ইউপিডিএফ মুখপাত্র অংগ্য মারমা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানিয়ে আরও বলেছেন, পাহাড়ে প্রতিনিয়ত সেনা-সেটলার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জনতার মনে ক্ষোভ অসন্তোষ দীর্ঘদিন ধরে ধূমায়িত অবস্থায় ছিল। দীঘিনালায় হামলা খুন-অগ্নিসংযোগের খবর পেয়ে স্বাভাবিকভাবে সর্বস্তরের বিক্ষুব্ধ জনতা রাজপথে নেমে আসে এবং খাগড়াছড়ি পানছড়ি সড়কে অবরোধ সৃষ্টি করে। তাতে কোন দল বা ব্যক্তি বিশেষের হাত বা নিয়ন্ত্রণ ছিল না। টহলরত সেনা দলের সদস্যরাই বিনা উস্কানিতে বিক্ষুব্ধ জনতাকে লক্ষ্য করে এলোপাথারি গুলি ছুঁড়ে। তাতে তিন জন নিহত, অর্ধ শতাধিক গুরুতর আহত এবং আর অগণিত সংখ্যক লোক আহত অবস্থায় প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে আত্মগোপনে রয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইউপিডিএফ মুখপাত্র এটাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, খাগড়াছড়িতে উক্ত দুঃখজনক ঘটনার ঠিক দু’মাস আগে ১৮ জুন বাঘাইহাট সেনা ক্যাম্পের নাকের ডগায় দিনে-দুপুরে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গুলিতে মো. নাঈম নামে এক বাস হেলপারের মৃত্যু ঘটলেও সে সময় আইএসপিআর মৌনব্রত পালন করে, যা সচেতন নাগরিকদের বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ না করে পারে না। নাঈমের মৃত্যুতে বাঘাইহাট বাজারের বাঙালি দোকানদাররাও কোন প্রতিবাদ জানায় নি। সেটলার বাঙালিদেরও কোন তৎপরতা দেখা যায় নি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইউপিডিএফ মুখপাত্র আক্ষেপ করে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জাতিসত্তা ও জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলনরত ইউপিডিএফ-ই একমাত্র দল যে সংগঠনটি বাস হেলপার মো. নাঈমের মৃত্যুতে কেবল নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়ে দায়িত্ব শেষ করে নি। তার পাশাপাশি কাল ব্যাজ ধারণ, হত্যার বিচার ও খুনীদের দৃষ্টান্তমূলক সাজার দাবিতে সাজেকসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের বেশ ক’টি স্থানে প্রতিবাদ সমাবেশ করে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইউপিডিএফ নিবেদিত রয়েছে। এই বাস্তব সত্য লুকিয়ে মিথ্যাচার, কুৎসা রটনা করে ইউপিডিএফকে ভিন্নভাবে চিত্রিত করার অপচেষ্টা দেশের জনগণের লড়াই সংগ্রামকে দুর্বল করবে।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।