আঞ্চলিক পরিষদ পুনর্গঠনের দাবিতে সাজেকে ছাত্র-জনতার সমাবেশ

সাজেক প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০২৪
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ পুনর্গঠনের দাবিতে বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে ছাত্র-জনতার সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শুক্রবার (২২নভেম্বর ২০২৪) সকাল ১০টায় “পাহাড়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসরদের ক্ষমতায় দেখতে চাই না” শ্লোগানে সাজেকের উজোবাজারে ‘ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ, বাঘাইছড়ি, রাঙামাটি’ এর ব্যানারে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশের আগে গঙ্গারাম দোপদা লাদুমনি বাজার থেকে ছাত্র-জনতা মিছিল নিয়ে সড়ক প্রদক্ষিণ করে উজোবাজারে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।
এ সময় তারা “নিরপেক্ষ লোক দিয়ে RC গঠন কর, জেলাপরিষদ পূনর্গঠন হলে আঞ্চলিক পরিষদ কেন নয়?, বৈষম্যহীন পাহাড় চাই, অবিলম্বে পাহাড়কে ফ্যাসিস্ট মুক্ত কর…” ইত্যাদি শ্লোগার সম্বলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

সমাবেশে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব বাবু ধন চাকমার সভাপতিত্বে ও কলেজ শিক্ষার্থী জিকু চাকমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ছাত্র-জনতা-সংগ্রাম পরিষদের সদস্য বিশ্ব জ্যোতি চাকমা, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ম্যাকলিন চাকমা, জুমচাষী কল্যান সমিতির সভাপতি জোতি লাল চাকমা।
বিশ্ব জ্যোতি চাকমা বলেন, আমরা সাধারণ জনগণ চাই শোষণ-নিপীড়ন মুক্ত ও বৈষম্যহীন পার্বত্য চট্টগ্রাম। এটা আমাদের মৌলিক অধিকার। জনগণকে এই অধিকার বঞ্চিত করা মানে জনগণের সাথে প্রতারণা করা। কিন্তু দুঃখের বিষয় পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ নামে একটি প্রতিষ্ঠান থাকলেও তার কোন সুফল জনগণ ভোগ করতে পারছে না। দীর্ঘ ২৫-২৬ বছর ধরে কোন স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা ছাড়া এক ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান পদে বসিয়ে রাখা হয়েছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশ থেকে পালালেও পার্বত্য চট্টগ্রামে তার দোসরদের এখনো বহাল রাখা হয়েছে। ফলে তারা হাসিনার স্বৈরাচারী কায়দায় পার্বত্য চট্টগ্রামে শাসনকার্য চালাচ্ছে। তাই বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে আমাদের দাবি হচ্ছে- ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসরদের অপসারণ করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতমূলক আঞ্চলিক পরিষদ গঠন ও পার্বত্য চট্টগ্রামে সুষ্ঠ গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।

জোতি লাল চাকমা বলেন, শেখ হাসনার সাড়ে ১৫ বছরের অগণতান্ত্রিক স্বৈরাচারী শাসনে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশের মানুষ নিপীড়িত-নিষ্পেষিত হয়েছিল। জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের ফলে দেশের জনগণ হাসিনার ফ্যাসিস্ট শাসন থেকে মুক্ত হয় এবং গঠিত হয় অন্তর্বতীকালীন সরকার। অভ্যুত্থানের পর সারা দেশে বৈষম্য দুর করতে অফিস আদালতসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পর্ষদ পরিবর্তনসহ সংস্কার করা হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামেও জেলা পরিষদগুলো পুনর্গঠন করে চেয়ারম্যান-সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ পুনর্গঠনের কোন উদ্যোগ এখনো নেওয়া হয়নি। তাই অচিরে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ আঞ্চলিক পরিষদ পুনর্গঠন এবং পরিষদে এযাবৎকাল বরাদ্দকৃত অর্থের হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।
ম্যাকলিন চাকমা বলেন, সরকার আঞ্চলিক পরিষদকে দীর্ঘ সময় ধরে অকার্যকর রেখে জনগণের সাথে প্রতারণা করছে। সমতলে প্রতিটি সরকারি অফিস-আদালতে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদক ও প্রশাসনের তৎপরতা দেখা গেলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে আঞ্চলিক পরিষদ, জেলাপরিষদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে কোন তৎপরতা দেখা যায় না। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোটি কোটি টাকা ঘুষ বাণিজ্য, চাকরি বাণিজ্যসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতি হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, ছাত্র সমাজের লক্ষ্য শুধু উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে ব্যক্তি স্বার্থ সিদ্ধির তাগিদে চাকরি করা কিংবা ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। জাতীয় দুর্দিনে এবং যেখানে অন্যায় সেখানে ছাত্র সমাজের ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে বাবুধন চাকমা বলেন, আঞ্চলিক পরিষদ পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের রক্তে অর্জিত একটি প্রতিষ্ঠান। তাই এ প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা থাকতে হবে। কিন্তু আমরা দীর্ঘ ২৫-২৬ বছর ধরে দেখছি এ প্রতিষ্ঠানটি জনকল্যাণে কোন ভূমিকাই পালন করছে না। একই ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান রেখে এ পরিষদকে একটি ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত করা হয়েছে। তাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অবিলম্বে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ, সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়ে আঞ্চলিক পরিষদ পুনর্গঠন করে জনগণের কল্যাণে এ পরিষদকে কাজে লাগাতে হবে।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।