কল্পনা অপহরণকারীদের দায়মুক্তির বিরুদ্ধে মানিকছড়িতে বিক্ষোভ সমাবেশ, লে. ফেরদৌস গংদের প্রতীকী ফাঁসি প্রদান

0

মানিকছড়ি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
রবিবার, ৯ জুন ২০২৪

পাহাড়ের নারী নেত্রী কল্পনা চাকমা’র অপহরণকারীদের দায়মুক্তির বিরুদ্ধে খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ এবং জনতার আদালতে চিহ্নিত অপহরণকারী লে. ফেরদৌস, ভিডিপি প্লাটুন কমান্ডার সালেহ আহম্মেদ ও ভিডিপি সদস্য নুরুল হককে প্রতীকী ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।

আজ রবিবার (৯ জুন ২০২৪) বেলা ১১টার সময় পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম ও নারী আত্মরক্ষা কমিটির মানিকছড়ি উপজেলা শাখাসমূহের যৌথ উদ্যোগে মানিকছড়ি সদরের জামতলা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি সড়ক প্রদক্ষিণ করে পৃষ্ঠতলা এলাকায় সমাবেশে মিলিত হয়।

কল্পনা চাকমা অপহরণের ২৮ বছর: দায়মুক্তির রায় মানি না, মানব না” শ্লোগানে আয়োজিত সমাবেশে গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের মানিকছড়ি উপজেলা শাখার সভাপতি উজাই রোয়াজার সভাপতিত্বে ও পিসিপির সদস্য আনু মারমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন পিসিপি’র মানিকছড়ি উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি অংহ্লাচিং মারমা, নারী আত্মরক্ষা কমিটির মানিকছড়ি উপজেলা আহ্বায়ক মিলি মারমা ও পিসিপি’র মানিকছড়ি উপজেলা শাখার অর্থ সম্পাদক আতুসে মার্মা।

অংহ্লাচিং মারমা বলেন কল্পনা চাকমা অপহরণের ২৮ বছরেও অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। আইনকে তোয়াক্কা না করে এই দেশের শাসন ব্যবস্থা জারি রেখেছে সরকার। ২৮ বছরেও অপহরণকারীদের বিচার ও শাস্তি দিতে পারেনি। কল্পনা চাকমা অপহরণকারীদের রাষ্ট্র কোন ব্যবস্থা না নিয়ে বরং সাহায্য সহযোগিতা করে যাচ্ছে। তাই আজ পার্বত্য চট্টগ্রামের জণগণ জনতার আদালতের মাধ্যমে অপহরণকারী গংদের লাঠিপেটা করে প্রতীকী ফাঁসি দিচ্ছে।

তিনি বলেন, শুধু কল্পনায় চাকমা নয়, ২০১৯ সালে ঢাকায় নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর এলাকা থেকে ইউপিডিএফ নেতা মাইকেল চাকমাকেও অপহরণ করে গুম করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ডজনের অধিক গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। এই রাষ্ট্র কোন ঘটনারই সুষ্ঠু বিচার করছে না। তাই আজ জনগণ নিজেরাই আইন হাতে তুলে নিয়ে অপরাধীদের প্রতীকী ফাঁসি প্রদান করছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ২৮ বছরেও চিহ্নিত অপহরণকারীদের আইনের আওতায় না এনে উল্টো রাঙামাটি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২৩ এপ্রিল অপহরণ মামলাটি খারিজ করে দিয়ে অপরাধীদের দায়মুক্তি দিয়েছে। তাই আদালতের এই রায় পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং এই রায়ের প্রতি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ।

তিনি গত ২৩ মে যৌথ অভিযানের নামে সেনাবাহিনীর এলোপাতাড়ি গুলিতে ভানথাংপুই বম (১৩) নামে ৫ম শ্রেণীর এক শিশুকে হত্যার ঘটনা তুলে ধরে অবিলম্বে বান্দরবান থেকে যৌথ বাহিনীর অভিযানের নামে গণগ্রেফতার, বিচার বহির্ভুত হত্যা বন্ধের দাবি জানান। এছাড়া তিনি কল্পনা চাকমা’র অপহরণকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিও তুলে ধরেন।

আতুসে মারমা বলেন, ১৯৯৬ সালে ১২ জুন কল্পনা চাকমাকে সেনাবাহিনীর কমান্ডার লে. ফেরদৌস গংদের কর্তৃক অপহরণ করা হয়েছিল। তৎসময়ে কল্পনা চাকমা হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। এ অপহরণের সাক্ষী ছিলেন তার দুই বড় ভাই। কিন্তু দীর্ঘ ২৮ বছরেও এই রাষ্ট্র কল্পনা চাকমার সন্ধান দিতে পারেনি, অপহরণকারীদের সাজা দিতে পারেনি। তিনি কল্পনা চাকমার অপহরণকারীদের যথাযথ বিচার ও শাস্তির দাবি জানান।

নারী আত্মরক্ষা কমিটির নেত্রী মিলি মারমা বলেন, কল্পনা চাকমা ন্যায় আন্দোলনে সাথে যুক্ত হয়ে জনগণের আন্দোলন সংগ্রাম পক্ষে কাজ করেছেন বলে তাকে অপহরণে শিকার হতে হয়েছে।। তিনি বলেন, যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে তাদেরকে চিহ্নিত করে এই খুন, গুম অপহরণ করে চলেছে।

সভাপতির বক্তব্যে উজাই রোয়াজা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সরকার ও শাসকগোষ্ঠী প্রতিনিয়ত যে খুন, গুম অপহরণ করে চলেছে তার প্রমাণ হচ্ছে গত ১ জুন ফটিকছড়ির কাঞ্চনগর ইউনিয়নে চাইল্যাচর এলাকায় ইউপিডিএফের সাবেক কর্মীকে গুলি করে হত্যার ঘটনা। কিন্তু প্রশাসন খুনিদের গ্ৰেফতার না করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।

সভাপতি বক্তব্যের আগে উপস্থিত ছাত্র-জনতা কল্পনা চাকমার চিহ্নিত অপহরণকারী ও জনতার আদালতে ফাঁসি দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি লে. ফেরদৌস, ভিডিপি প্লাটুন কমাণ্ডার সালেহ আহমেদ ও নুরুল হকের কুশপুত্তলিকা রশিতে ঝুলিয়ে প্রতীকী ফাঁসি প্রদান ও অপহরণকারীদের কুশপুত্তলিকায় জুতাপেটা করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More