কাউখালিতে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশিকালে নারীদের মারধর ও অপদস্থের নিন্দা ও প্রতিবাদ

0

রাঙামাটি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
শুক্রবার, ৭ মার্চ ২০২৫

পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের কাউখালি উপজেলা শাখার সভাপতি শান্তনা চাকমা ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন কাউখালি উপজেলা শাখার সভাপতি রত্না চাকমা রাঙ্গামাটির কাউখালি উপজেলার ডেবাছড়ি গ্রামে তিন নিরীহ গ্রামবাসীর বাড়িতে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশীকালে নারীদের মারধর ও লাঞ্ছিতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

আজ ৭ মার্চ ২০২৫, শুক্রবার সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া এক যুক্ত বিবৃতিতে নেত্রীদ্বয় বলেন, আজ ভোরের দিকে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি দল ডেবাছড়ি গ্রামে হানা দিয়ে গ্রামের বাসিন্দা জ্ঞান চাকমা, পিতা- হামিস কুমার চাকমা, সুপন চাকমা, পিতা- কৃষ্ণ চাকমা ও হেমন্ত চাকমা, পিতা- যামিনী চাকমার বাড়িতে তল্লাশী চালায়। এ সময় তারা বাড়ির জিনিসপত্র লণ্ডভণ্ড করে দেয়। কিন্তু পরবর্তীতে তারা “অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধারের” মিথ্যা নাটক সাজিয়ে মিডিয়ায় প্রচার করে।

বিবৃতিতে তারা অভিযোগ করে বলেন, জ্ঞান চাকমার স্ত্রী অনিকা চাকমা ও তার ১৪ বছরের মেয়ে নমিত্রা চাকমা বিনা কারণে বাড়িতে তল্লাশীর প্রতিবাদ জানালে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদেরকে লাঞ্ছিত করে।

নেত্রীদ্বয় বলেন, তল্লাশীকালে নারীদের লাঞ্ছিত করার খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামের নারীরা স্বতঃস্ফূর্ত ও তাৎক্ষণিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সেখানে এসে প্রতিবাদে সামিল হয়। প্রতিবাদের মুখে সেনারা কাউখালিতে ফিরে যাওয়ার সময় এলাকার শত শত নারী পুরুষ তাদের পিছু ধাওয়া করে তালুকদার পাড়ার কাছে অবস্থিত নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্প পর্যন্ত যায় এবং সেখানে ক্যাম্পের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এতে রাঙিপাড়া, ডেবাছড়ি, উল্লো, পানছড়ি, হাজাছড়ি, শুকনাছড়ি, তালুকদারপাড়াসহ বিভিন্ন গ্রাম থেকে ৫ শতাধিক নারী পুরুষ অংশ নেন। বিক্ষোভ সমাবেশে এক গৃহিনী ও অপর এক ব্যক্তি বক্তব্য দেন।

সেনাবাহিনীর অন্যায় কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে এলাকার জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

তল্লাশীতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সাথে মুখোশ পরে তিন ঠ্যাঙাড়ে সদস্যও অংশ নেয় উল্লেখ করে নেত্রীদ্বয় বলেন, গ্রামের নারীরা তাদের মুখোশ খুলে দিলে তাদের দু’জনের চেহারা প্রকাশ হয়ে পড়ে। এরা হলো ডেবাছড়ি গ্রামের সত্য কুমার চাকমার দুই ছেলে ভাগ্যচন্দ্র চাকমা ও মধুচন্দ্র চাকমা ওরফে মধুক।

এ সময় দুই নারী বুজুঙি চাকমা ও মানেকা চাকমা ভাগ্যচন্দ্র চাকমাকে ঠ্যাঙাড়ে কর্মকাণ্ডের জন্য কড়া সমালোচনা করে প্রশ্ন করেন কেন সে লোকজনকে কষ্ট দেয়ার জন্য এ ধরনের জনস্বার্থবিরোধী ন্যাক্কারজনক কাজ করছে। এ সময় জনৈক সেনা সদস্য ঠ্যাঙাড়ে ভাগ্যচন্দ্রের পক্ষ নিয়ে ওই দুই নারীকে মারধর ও লাঞ্ছিত করে বলে বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়।

বিবৃতিতে দুই নেত্রী নিরাপত্তা বাহিনীর এমন কর্মকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে নারীদের লাঞ্ছিত করার ঘটনার সাথে জড়িত সেনা ও ঠ্যাঙাড়ে সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ এবং কাউখালিসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা অপারেশন ও তল্লাশীর নামে মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ সাধারণ নিরীহ জনগণকে হয়রানি বন্ধের দাবি জানান।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More