কাউখালিতে সেনা অপারেশন: তিন ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাশি, এক ছাত্রকে মারধর

0
সেনারা তল্লাশি চালিয়ে বাড়ির জিনিসপত্র তছনছ করে দেয়।

কাউখালী প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫

রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের নীচপাড়া গ্রামে সেনাবাহিনী অপারেশনের নামে তিন ব্যক্তির বাড়িতে হয়রানিমূলক তল্লাশি ও এক কলেজ ছাত্রকে মারধর করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

জানা যায়, আজ শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর ২০২৫) ভোর ৫টার সময় ঘাগড়া সাব-জোন থেকে সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাবিব-এর নেতৃত্বে ৩০-৩৫ জনের একদল সেনা সদস্য নীচপাড়া গ্রামে হানা দেয়। অপরদিকে, কাউখালি সাব-জোনের ক্যাপ্টেন রনজিৎ-এর নেতৃত্বে ৩৫-৪০ জন সেনা সদস্য নীচপাড়া বৌদ্ধ বিহারে অবস্থান নেয়।

পরে সেনারা নীচপাড়া দোকানদার পাইথুই মার্মা, সিংসলা মার্মা ও সুইমাসুং মারমার বাড়িতে হয়রানিমূলক তল্লাশি চালায়। এ সময় তারা সুইমাসুং মারমার নাতি কলেজ ছাত্র সুইতাচিং মারমাকে মারধর করে।

তল্লাশিকালে সেনারা সুইমাসুং মারমার স্বামীর বার্ষিকীক্রিয়া অনুষ্ঠানের জন্য জমানো ২০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া সেনারা তার পুত্রবুধু মাইথুং মারমার রুমের আলমারি ভেঙ্গে তল্লাশি চালায়। এতে ছোট ব্যাগে গচ্ছিত তার কানের দুল হারিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

সেনারা আলমারি ভেঙে তল্লাশি চালিয়ে জিনিসপত্র তছনছ করে দেয়।

এদিকে, সকাল ৭টার সময় রাঙামাটি জোন কমান্ডার লে. কর্নেল একরামুল রাহাত, মেজর মিনহাজুল আবেদীনের নেতৃত্ব ৮০-৯০ জনের টিম লেভা পাড়া হয়ে নিচ পাড়া গ্রামে হানা দেয় বলে জানা গেছে।

সেনা অপারেশন বিষয়ে ভুক্তভোগী এক নারী বলেন, “খুব সকালে হঠাৎ করে সেনাবাহিনী আমাদের বাড়ি ঘিরে রাখে। পরে তল্লাশি চালায়। আমাদের নানা রকম হয়রানি করে। তারা ‘সন্ত্রাসীরা কোথায়?’ বলে জিজ্ঞাসা করে।”

সেনাদের প্রশ্নের উত্তরে ওই নারী বলেন, ‘এখানে কোন সন্ত্রাসী নাই। আমরা এখানে শান্তিতে আছি, আপনারা বিনা কারণে আমাদের বাড়ি তল্লাশি করছেন কেন?” উত্তরে সেনা অফিসার বলেন, ‘উপরের নির্দেশে আমরা এখানে এসেছি।’

সেনাদের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করে ওই নারী আরো বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় বাহিনী হিসেবে সেনাবাহিনী যেখানে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা, সেখানে তারা আমাদের উপর নিপীড়ন-নির্যাতন, হয়রানি করছে। তারা রক্ষক হয়ে ভক্ষকের মত কাজ করে যাচ্ছে। সেনারা আমার দিদির জমানো টাকাও চুরি করে নিয়ে গেছে।’

সর্বশেষ প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, তল্লাশি ও হয়রানি শেষে সেনাদের একটি দল কাউখালী সদরের দিকে ও অপর আরেকটি দল ঘাগড়া বাজার হয়ে রাঙামাটি সদরের দিকে চলে গেছে বলে জানা গেছে।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More