কাউখালীতে ব্রিটিশ আগ্রাসন প্রতিরোধের জাতীয় বীরদের শ্রদ্ধা জানালো শিক্ষার্থীরা

কাউখালী প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
১ আগস্ট ২০২৪, বৃহস্পতিবার
রাঙামাটির কাউখালীতে অস্থায়ী স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে জাতীয় বীর রুণু খাঁ সহ ব্রিটিশ আগ্রাসন প্রতিরোধের নায়কদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
পার্বত্য চট্টগ্রামকে তথাকথিত জেলায় উন্নীতকরণ (১৮৬০) উপলক্ষে আজ ১ আগস্ট ২০২৪ শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচির আয়োজন করেন।
প্রথেমে কাউখালী কলেজের ছাত্র শান্তমনি চাকমার নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের একটি টিম অস্থায়ী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তপক অর্পণ করে জাতীয় বীরদের সম্মান প্রদর্শন করেন। পরে উপস্থিত সকল শিক্ষার্থীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এরপর এক আলোচনা সভার আযোজন করা হয়। এতে কাউখালী সরকারি ডিগ্রি কলজের এইচএসসি ২য় বর্ষের ছাত্র আলোড়ন চাকমার সভাপতিত্বে ও জগত জ্যোতি চাকমা চাকমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন পানছড়ি স্কুলের ছাত্র সোহেল চাকমা ও সংহতি জানিয়ে আলোচনা করেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কাউখালী উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি জিপল চাকমা।
বক্তারা বলেন, জাতির অস্তিত্ব রক্ষার জন্য জাতীয় বীর রুণু খাঁ’দের রীরত্ব গাথা আমাদের জানতে হবে। আমরা অতীতে স্বাধীন ছিলাম। এ অঞ্চলে ব্রিটিশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুণু খা, শের দৌলত খা, জানবক্স খাঁ’সহ অনেকে বীরত্বের সাথে দু’যুগেরও বেশি সময় প্রতিরোধ যুদ্ধ করেছিলেন। কিন্তু ধুরন্ধর ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকরা নানা কূটকৌশল খাটিয়ে সন্ধি-সমঝোতার নামে এ অঞ্চলে ব্রিটিশ শাসন কায়েম করতে শুরু করে। তারা ১৮৬০ সালের আজকের এই দিনে তথাকথিত এক আইন জারি করে আমাদের স্বাধীন রাজ্যকে “জেলায়” রূপান্তর করে আনুষ্ঠানিকভাবে এ অঞ্চলকে তাদের শাসনভুক্ত করে নেয়।

তারা বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষ রনু খাঁ, মহীয়সী রাণী কালিন্দীসহ জাতীয় বীররা কখনো ব্রিটিশদের আগ্রাসন মেনে নেননি। তারা লড়াই সংগ্রামসহ অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ করে গেছেন। আমরা তাদের উত্তরসূরী হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে লড়াই সংগ্রাম করবো, অধিকার নিশ্চিত করবো।
সভার সভাপতি আলোড়ন চাকমা বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদেরকে একাডেমিক পাঠ্যপুস্তক ছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস সম্পর্কিত বই পড়তে হবে, আমাদের পূর্বপুরুষদের সংগ্রামী ইতিহাস সম্পর্কে জানতে হবে।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।