খাগড়াছড়িতে গ্রাফিতি অঙ্কনে সেনাবাহিনীর বাধা ও হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনাশাসন তুলে নেয়ার দাবি

গ্রাফিতি অঙ্কনে সেনাবাহিনীর বাধা ও হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
সোমবার, ১২ আগস্ট ২০২৪
খাগড়াছড়িতে গ্রাফিতি অঙ্কন ও দেয়াল লিখনের সময় সেনাবাহিনীর বাধা ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, লাঠিচার্জ এবং এক শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের প্রতিবাদে খাগড়াছড়ি শহরে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে খাগড়াছড়ি সদরস্থ পাহাড়ি শিক্ষার্থীরা।
আজ সোমবার (১২ আগস্ট ২০২৪) দুপুরের দিকে গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনে দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরকারি কলেজ ও চেঙ্গী স্কয়ার এলাকায় দেয়ালে গ্রাফিতি অঙ্কন ও দেয়াল লিখন করতে গেলে সেনাবাহিনীর বাধা ও হামলার শিকার হন শিক্ষার্থীরা।
উক্ত হামলার পর ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে মিছিলের আহ্বান জানান শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের আহ্বানে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে খাগড়াছড়ি শহরে প্রবেশ গেইট এলাকায় শত শত শিক্ষার্থী জড়ো হন। পরে সেখান থেকে মিছিল সহকারে গিয়ে হামলার স্থানে গিয়ে প্রতিবাদ স্বরূপ পুনরায় গ্রাফিতি অঙ্কন করেন।
এসময় শিক্ষার্থীরা “পাহাড় থেকে সেনা শাসন তুলে নাও, নিতে হবে; যে বাহিনী ছাত্র মারে সে বাহিনী মানি না; সেনাবাহিনীর টালবাহানা চলবে না, চলবে না; ছবি আঁকতে বাধা কেন, প্রশাসনের জবাব চাই, এক দেশে দুই শাসন, মানিনা মানবো না”… ইত্যাদি শ্লোগান দেন।

গ্রাফিতির আঁকা শেষ হলে সেখান থেকে মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ গেইট থেকে শুরু করে চেঙ্গী স্কয়ার, শাপলা চত্বর প্রদক্ষিণ করে কোর্ট বিল্ডিং এলাকা ঘুরে এসে মুক্ত মঞ্চে এক সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে সেনাবাহিনী হাতে আটক ও নির্যাতনের শিকার হওয়া শিক্ষার্থী প্রনয় চাকমাকে উপস্থিত শত শত শিক্ষার্থীদের সামনে ফুলেল সংবর্ধনা দেয়া হয়। এতে শিক্ষার্থীদের মুহুর্মুহু স্লোগানে সমাবেশস্থল প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।
সেনাবাহিনীর কবল থেকে মুক্তি পাওয়া শিক্ষার্থী প্রনয় চাকমা ফুল দিয়ে সংবর্ধনা দেন শিক্ষার্থীরা।
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, গ্রাফিতি অঙ্কনের সময় সেনাবাহিনী অতর্কিত হামলা ও লাঠিচার্জ করে শিক্ষার্থী প্রণয় চাকমাকে মাস্তানি কায়দায় তুলে নিয়ে যায়। তারা প্রনয় চাকমাকে শারীরিক নির্যাতন করে ও লাঠির আঘাতে তার মোবাইল ভেঙে দেয়া হয়।
তারা আরও বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জনের পর শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের বাঙালি বানাতে চেয়েছিল। স্বাধীনতার পরও আমাদেরকে উগ্র বাঙালী জাতীয়তাবাদ চাপিয়ে দেয়ার মাধ্যমে দশকের পর দশক ধরে নির্যাতন চালিয়ে আসছে। সম্প্রতি দেশে বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক শাসন কায়েমের লক্ষ্যে ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে এখনো আগের মতো নিপীড়ন-নির্যাতন বহাল রয়েছে। যার প্রমাণ আজকে গ্রাফিত অঙ্কনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর সেনাবাহিনীর হামলা। আমরা এ পরিস্থিতির উত্তরণ চাই, আমরা পাহাড় থেকে সেনাশাসন তুলে নিয়ে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ চাই।

শিক্ষার্থীরা বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার্থে পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
তারা অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি জনগণের ওপর নিপীড়ন বন্ধ ও ছাত্র আন্দোলন দমনের নামে শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গোয়েন্দা নজরদারি বন্ধ ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সাথে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান।
উল্লেখ, আজ দুপরের দিকে খাগড়াছড়ি সদরস্থ সাধারণ শিক্ষার্থীরা খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ ও চেঙ্গী স্কয়ার এলাকায় গ্রাফিতি অঙ্কন ও দেয়াল লিখন করার সময় খাগড়াছড়ি জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. আবুল হাসনাত এর নেতৃত্বে ৬টি গাড়িযোগে একদল সেনা সদস্য সদস্য এসে শিক্ষার্থীদের বাধা দেয়, হামলা ও লাঠিচার্জ করতে থাকে। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। সেনাবাহিনীর বেপরোয়া আক্রমনে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হলে প্রনয় চাকমা নামে একজন শিক্ষার্থীকে সেনাবাহিনী ধরে নিয়ে যায়। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আরো বেশী বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিলে পরে চাপের মুখে সেনাবাহিনী তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।
এর আগে গতকাল (১১ আগস্ট) উক্ত জোন কমান্ডার শিক্ষার্থীদের সামনে বক্তব্য দিয়ে ‘যার যার ইচ্ছা আঁকা যাবে, কোন অসুবিধা নেই’ বলে আশ্বস্ত করেছিলেন। কিন্তু আজ তিনি উল্টো গ্রাফিতি অঙ্কনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছেন।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।