খাগড়াছড়িতে ছাত্র জনতার শান্তিপূর্ণ অবরোধ পালনকালে সেনাবাহিনীর ব্রাশফায়ারের অভিযোগ

0

সেনাবাহিনীর সদস্যরা এক নিরীহ লোককে আটকের চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন রাস্তায় নেমে এসে প্রতিরোধ করেন।


খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার গোলাবাড়ি ইউনিয়নের চম্পাঘাট এলাকায় ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ অবরোধ পালনকালে সেনাবাহিনী ব্রাশফায়ার করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আজ শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪) বিকালে ৪টার সময় এ ঘটনা ঘটে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, গত ১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর দীঘিনালা, খাগড়াছড়ি সদর ও রাঙামাটিতে সেনা-সেটলার কর্তৃক পাহাড়িদের উপর হামলা, খুন-জখম, দোকান-ঘরবাড়ি-বৌদ্ধ মন্দিরে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, লুটপাটের প্রতিবাদে ঢাকায় বিক্ষুব্ধ জুম্ম ছাত্র-জনতার ডাকে পার্বত্য চট্টগ্রামে ৭২ ঘন্টার অবরোধ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ অবরোধের প্রথম দিন সকাল থেকে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতা সড়কে টায়াার জ্বালিয়ে ও গাছের গুড়ি ফেলে অবরোধ কর্মসূচি পালন শুরু করে। চম্পাঘাট এলাকার ছাত্র-জনতাও অবরোধের সমর্থনে সড়কে পিকেটিংয়ে নামে। সকাল থেকে তারা শান্তিপূর্ণভাবেই অবরোধ পালন করছিল।

কিন্তু বিকাল ৪টার দিকে বিজিতলা সাবজোন থেকে সেনাবাহিনীর একটি দল পরিকল্পিতভাবে একটি কলা গাড়িতে করে সেখানে যায়। তারা গাড়িটি চম্পাঘাট যাত্রী ছাউনিতে এনে দাঁড় করায় এবং তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে অবরোধ পালনকারী ছাত্র-জনতাকে দেখে ব্রাশফায়ার করে। তবে এতে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানা গেছে।

এরপর সেনারা সেখানে কাজ করা নিরীহ এক লোককে আটক করার চেষ্টা করলে সেখানকার স্থানীয় জনতা প্রতিরোধ করে। জনতার প্রতিরোধে এক পর্যায়ে সেনারা ওই লোকটিকে আর আটক করতে পারেনি।

সর্বশেষ সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত স্থানীয় জনতা সড়কটি তাদের দখলে নিয়েছেন এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা ক্যাম্পে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে দীঘিনালায় সেটলার কর্তৃক পাহাড়িদের ওপর হামলা, ঘরবাড়ি-দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ, বিহার ভাঙচুরের প্রতিবাদে খাগড়াছড়ি সদরের নারাঙহিয়া, উপালি পাড়া ও স্বনির্ভর এলাকায় বিক্ষোভরত ছাত্র-জনতার ওপর সেনাবাহিনী এলোপাতাড়ি গুলি চালালে দুইজন নিহত ও ১২ জনের অধিক গুরুতর আহত হন।

এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে চম্পাঘাটে ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ অবরোধ পালনকালে সেনাবাহিনীর ব্রাশফায়ারের ঘটনায় এলাকার জনগণ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More