খাগড়াছড়িতে শহীদ অমর বিকাশের স্মৃতিসৌধে পিসিপি-যুব ফোরামের শ্রদ্ধা নিবেদন

0

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
শুক্রবার, ৭ মার্চ ২০২৫

খাগড়াছড়িতে ১৯৯৬ সালের ৭ মার্চ মুখোশ বাহিনীর বিরুদ্ধে জনতার প্রতিরোধকালে সেনাবাহিনীর গুলিতে শহীদ হওয়া অমর বিকাশ চাকমার স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম (ডিওয়াইএফ)।

আজ শুক্রবার ( ৭ মার্চ ২০২৫) সকালে পিসিপি-যুব ফোরামের নেতাকর্মীরা খাগড়াছড়ি সদরের নারাঙহিয়া এলাকা থেকে “১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সেটলার ও সেনাবাহিনীর হামলায় জুনান, ধনঞ্জয়, অনিক চাকমা ও রুবেল ত্রিপুরার খুনীদের বিচার কর,  নব্য মুখোশ দালাল ও প্রতিক্রিয়াশীলদের মদত দান বন্ধ করে পাহাড়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত কর” শ্লোগানে শহীদ অমর বিকাশ চাকমার স্বরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি লেখা ফেস্টুন উঁচিয়ে ধরে মিছিলসহকারে গিয়ে উত্তর খবংপুয্যা এলাকায় নির্মিত শহীদ অমর বিকাশ চাকমার স্মৃতিসৌধে মিলিত হয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদ অমর বিকাশ চাকমার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এ সময় পিসিপির জেলা সহ-সভাপতি অনিমেষ চাকমা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সাালের ৭ মার্চ রাতে মুখোশ বাহিনীর সন্ত্রাসীরা পেরাছড়া গ্রামে গিয়ে গ্রামবাসীদের ঘরবাড়িতে তাণ্ডব চালাতে শুরু করলে গ্রামের লোকজন “মুখোশ মুখোশ’ বলে চিৎকার দেয়। আর এতে মুহুর্তের মধ্যেই পেরাছড়া গ্রামের জনতা লাঠিসোটা নিয়ে ছুটে আসেন। তাদের চিৎকার শুনে পেরাছড়ার আশে-পাশের গ্রাম সিঙ্গিনালা, খবংপজ্যা, নারাংহিয়া সহ বিভিন্ন এলাকার শত শত জনতা লাঠিসোটা নিয়ে সেনা ঔরসজাত মুখোশ বাহিনী গুন্ডাদের প্রতিরোধে রাস্তায় নেমে পড়ে।

টগবগে যুবক অমর বিকাশ চাকমাও এই গণপ্রতিরোধে সামিল হয়েছিলেন। মুখোশ বাহিনীর সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করতে সামনে থাকা অমর বিকাশ চাকমা স্বনির্ভর স্কুলের পাশে সেনাবাহিনীর গুলিতে শহীদ হন। পরে সেনারা টেনে হিঁচড়ে তাঁর লাশটি পিকআপে তুলে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যায়। এরপর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। ঘটনার চার দিনের মাথায় ১০ মার্চ বিকালে পুলিশ অমর বিকাশের লাশটি ফেরত দেয়।

সেদিন বীর জনতা সন্ত্রাসী ও তাদের সহযোগী সেনাদেরকে খেজুর বাগান মাঠ (বর্তমানে উপজেলা মাঠ) পর্যন্ত ধাওয়া করে নিয়ে যায়। সেনা ও মুখোশ বাহিনীর গুণ্ডারা জনতার তাড়া খেয়ে চেঙ্গী স্কোয়ার হয়ে ক্যান্টনমেন্টে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More