খাগড়াছড়িতে সেটলার হামলায় গুরুতর আহত বিমল ত্রিপুরা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন

0


নিজস্ব প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ

শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার কমলছড়ি ইউনিয়নের হেডম্যান পাড়া (খালপাড়) এলাকায়  জায়গা নিয়ে বিরোধের জের ধরে সেটলার হামলায় গুরুতর আহত বিমল ত্রিপুরা চট্টগ্রামে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

আজ শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের সময় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি বিকালে সেটলার হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে রেফার করেন। এরপর চট্টগ্রামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিউতে নেওয়া হয়।

পরে সেখান থেকে ১৫ জানুয়ারি দুপুরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এ কয়দিন সেখানে সংকটাপন্ন অবস্থায় তার চিকিৎসা চলছিল।

প্রয়াত বিমল ত্রিপুরা কমলছড়ি ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের নোয়া পাড়ার বাসিন্দা মনোরাম ত্রিপুরার ছেলে।

জানা যায়, হেডম্যান পাড়ার বাসিন্দা থোয়াইহ্লাঅং চৌধুরীর সাথে ভুয়াছড়ি গ্রামে আব্দুল বাশির এর দীর্ঘদিন ধরে জায়গা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। উক্ত জায়গায় ১০/১২ বছর আগে থেকে থোয়াইহ্লাঅং চৌধুরী আমবাগান সৃজন করেছেন। এ জায়গাটি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। কিছুদিন আগে ভূমি অফিস থেকে জায়গাটি তদন্তের কথা থাকলেও সেটলারদের হুমকির ভয়ে তারা যাননি।

গত ১৪ জানুয়ারি, বুধবার থোয়াইহ্লাঅং চৌধুরী দু’জন শ্রমিক বিমল ত্রিপুরা ও মিলন চাকমাকে নিয়ে তার আমবাগান পরিষ্কার করতে যান। খবর পেয়ে বিকাল সাড়ে ৩টার সময় ভুয়াছড়ি থেকে আব্দুল বাশিরের নেতৃত্বে একদল সেটলার সেখানে এসে তাদেরকে বাগান পরিষ্কার করতে বাধা দেয়। এমতাবস্থায় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সেটলাররা থোয়াইহ্লাঅং চৌধুরী(৬৯) ও তার দু’জন শ্রমিক বিমল ত্রিপুরা (৩৭) ও মিলন চাকমা(৪০)-এর ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এতে তারা তিন জনই আহত হন। এছাড়া আব্দুল বাশিরসহ তার দুই ছেলেও সামান্য আহত হন বলে জানা যায়। 

ঘটনার পর আহতদের খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।পরে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক বিমল ত্রিপুরাকে চট্টগ্রামে রেফার করেন। সেটলাররা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে।

এদিকে, উক্ত ঘটনায় মংশিতু মারমার দায়েরকৃত মামলায় পুলিশ মো. আব্দুর রশিদ ও মো. আল আমিন নামে দুই জনকে গ্রেফতার করেছে বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে আব্দুর রশীদকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও আল আমিনকে (২২ জানুয়ারি) কুমিল্লার কান্দিরপাড় থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। 



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More