খাগড়াছড়ির কমলছড়িতে পাহাড়িদের ওপর সেটলার হামলার প্রতিবাদে রামগড়ে বিক্ষোভ

রামগড় প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার কমলছড়িতে ভূমি বিরোধের জেরে পাহাড়িদের ওপর সেটলার বাঙালিদের হামলার ও রামগড়ে ভূমি বেদখলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম ও বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি), রামগড় উপজেলা শাখা।
আজ রবিবার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) বিকাল ৩টার দিকে রামগড়ের লাচারী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকা থেকে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি সীমান্ত সড়ক প্রদক্ষিণ করে পিলাক ঘাট এলাকায় গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। এতে এলাকার সচেতন শিক্ষার্থী, যুবক, নারীসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

মিছিল পরবর্তী সমাবেশে গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের রামগড় উপজেলা শাখার সভাপতি ধনু ত্রিপুরার সভাপতিত্বে ও পিসিপির রামগড় উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ধন মোহন ত্রিপুরার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্য সুইচিং মারমা ও পিসিপির রামগড় উপজেলা সভাপতি তৈমাং ত্রিপুরা।
যুবনেতা সুইচিং মারমা কমলছড়িতে হামলাকারী সেটলারদের এখনো গ্রেফতার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনের এই পক্ষপাতিত্বের কারণে সেটলার বাঙালিরা বার বার পাহাড়িদের ওপর হামলার সাহস পাচ্ছে। কমলছড়ি হামলার রেশ কাটতে না কাটতে গতকাল বান্দরবানের আলীকদমের ম্রো জনগোষ্ঠির লোকজনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

তিনি আরো বলেন, উন্নয়নের নামে কিংবা সেটলার লেলিয়ে দিয়ে ভূমি জবরদখল পাহাড়িরা কখনো মেনে নেবে না। জাতীয় অস্তিত্ব ও ভূমি রক্ষায় পাহাড়িরা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাবে।
সুইচিং মারমা অবিলম্বে কমলছড়ি হামলায় জড়িত সেটলার ভূমিদস্যুদের অবিলম্বে গ্রেফতারপূর্বক উপযুক্ত শাস্তি এবং ভূমি বেদখল বন্ধ করার দাবি জানান।
ছাত্রনেতা তৈমাং ত্রিপুরা বলেন, ভূমি বেদখলের কারণে পাহাড়িদের ওপর সেটলার হামলার ঘটনা নতুন নয়। এটি দশকের পর দশক ধরে পাহাড়ে চালে আসছে। আশির দশকে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেটলার পুনর্বাসানের মাধ্যমে এই হামলা, জবরদখল শুরু করা হয়েছে। খাগড়াছড়ির কমলছড়ির ঘটনাও তারই ধারাবাহিক অংশ।

তিনি সম্প্রতি রামগড়ের নাঙ্গেল পাড়া সংলগ্ন এলাকায় ভূমি বেদখল করে সেটলার বাঙালির ঘর নির্মাণ করার ঘটনা তুলে ধরে বলেন, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব, পরিচয় ও সংস্কৃতি এই পাহাড়ের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত। ভূমি শুধুমাত্র মাটি নয়—এটি আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি, আত্মসম্মান এবং ভবিষ্যৎ। যুগের পর যুগ ধরে পাহাড়ি জনগণ এই পাহাড়, এই বন, এই নদীর সঙ্গে মিলেমিশে বেঁচে রয়েছে। কিন্তু আজ পরিকল্পিতভাবে আমাদের ভূমি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে এবং পাহাড়ি জনগণকে দমন করার চেষ্টা চলছে।
তিনি সাম্প্রদায়িক হামলা, ভূমি বেদখল সহ সকল অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য ছাত্র-যুব সমাজের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি অযোগ করে বলেন, বিএনপি বর্তমানে ক্ষমতায় না থাকলেও পাহাড়ে ভূমি দখল, উস্কানি ও বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং অশান্তির রাজনীতি করছে। অতীতেও বিএনপির আমলে পাহাড়ের গণহত্যাসহ বহু সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটেছে। কমলছড়ি হামলার ঘটনায়ও বিএনপি’র স্থানীয় নেতা-কর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তাই এই হামলার দায় বিএনপি এড়াতে পারবে না।

তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগণ আর চুপ থাকবে না। নিজেদের ভূমি রক্ষার্থে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই চালিয়ে যাবে।
তিনি কমলছড়িতে পাহাড়িদের ওপর হামলায় জড়িত সেটলারদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
সভাপতির বক্তব্যে ধনু ত্রিপুরা বলেন, কমলছড়িতে যেভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পাহাড়িদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে তা খুবই নিন্দনীয়। সেটলারদের হামলায় আহত বিমল ত্রিপুরা এখনো সংকটাপন্ন অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কিন্তু ঘটনার চার দিন অতিবাহিত হলেও প্রশাসন এখনো হামলাকারী সেটলারদের গ্রেফতার করেনি।
তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রীয় মদদে পরিকল্পিতভাবে ভূমি বেদখল ও সেটলার পুনর্বাসনের মাধ্যমে পাহাড়িদের নিজ ভূমি থেকে উৎখাত করা হচ্ছে। কমলছড়ির হামলার ঘটনা তার প্রমাণ। তিনি অবিলম্বে হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, আহতদের সুচিকিৎসা ও ভূমি বেদখল বন্ধ করার জোর দাবি জানান।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
