খাগড়াছড়ির কমলছড়িতে পাহাড়িদের ওপর হামলা ও বিমল ত্রিপুরাকে হত্যার ঘটনায় চার সংগঠনের নিন্দা
ড. ইউনুসকে ‘সেটলারবান্ধব’ আখ্যাদান

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার কমলছড়ির হেডম্যান পাড়া এলাকায় ভূমি বেদখলের উদ্দেশ্যে পাহাড়িদের ওপর সেটলারদের হামলা এবং বিমল ত্রিপুরা নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামে রাজপথে সক্রিয় চার গণতান্ত্রিক সংগঠন।
আজ শনিবার (২৪ জানুয়ারি ২০২৬) গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সভাপতি জিকো ত্রিপুরা, পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের সভানেত্রী কণিকা দেওয়ান, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি অমল ত্রিপুরা ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভানেত্রী নীতি চাকমা সংবাদ মাধ্যমে প্রদত্ত এক যৌথ বিবৃতিতে এই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
যৌথ বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ ‘ড. ইউনুসকে সেটলারবান্ধব’ আখ্যায়িত করে অন্তর্বতীকালীন সরকারের প্রতি তীব্র্র উষ্মা প্রকাশ করেন এবং বলেন, অতীতের যে কোন সরকারের সাথে ইউনুসের নেতৃত্বাধীন সরকারের কোন পার্থক্য নেই। সে কারণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পরে পরেই পার্বত্য চট্টগ্রামে সেটলার কর্তৃক নবউদ্যমে পাহাড়িদের ওপর হামলা, হত্যাকাণ্ড, বাড়িঘর-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা বেড়ে চলেছে।
আক্রান্ত পাহাড়ি জনগণের দুঃসময়ে পার্বত্য মন্ত্রণালয় ও আঞ্চলিক পরিষদের নির্লজ্জ নিষ্ক্রিয়তা ও মৌনব্রত পালনের ভূমিকায় চার সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সংবাদপত্রে প্রেরিত বিবৃতিতে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানান এবং এ ধরনের প্রতিষ্ঠানসমূহকে শাসকগোষ্ঠীর তাঁবেদারের আখড়া হিসেবে অভিহিত করেন।
ঘটনা বিবরণী তুলে ধরে নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে বলেন, আমরা এলাকাবাসীর কাছ থেকে জেনেছি, “গত ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ থোয়াইহ্লাঅং চৌধুরী দু’জন শ্রমিক বিমল ত্রিপুরা ও মিলন চাকমাকে নিয়ে তার আমবাগান পরিষ্কার করতে গেলে বিকাল সাড়ে ৩টার সময় ভুয়াছড়ি থেকে আব্দুল বাশিরের নেতৃত্বে একদল সেটলার সেখানে গিয়ে তাদেরকে বাগান পরিষ্কার করতে বাধা দেয়। এমতাবস্থায় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সেটলাররা থোয়াইহ্লাঅং মারমা (৬৯) ও তার দু’জন শ্রমিক বিমল ত্রিপুরা (৩৭) ও মিলন চাকমা(৪০)-এর ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এতে তারা তিনজনই আহত হন। এছাড়া আব্দুল বাশিরসহ তার দুই ছেলেও সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
“ঘটনার পর আহতদের খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক বিমল ত্রিপুরাকে চট্টগ্রামে রেফার করেন। গতকাল (শুক্রবার) সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।”

নেতৃবৃন্দ, কমলছড়িতে পাহাড়িদের ওপর হামলার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত এবং পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার সেটলার বাঙালি আব্দুর রশিদ ও আল আমীনসহ হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বিচারের দাবি জানান।
সংসদ নির্বাচনের উছিলায় পাহাড়িদের বংশপরম্পরার জায়গা-জমি বেদখল হবে এবং অন্তর্র্বতীকালীন সরকার-প্রশাসন তাতে কোন পদক্ষেপ নেবে না, সে ধরনের অরাজকতাপূর্ণ পরিস্থিতি চার সংগঠন নেবে না বলেও তারা বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
