খাগড়াছড়ির মাইসছড়িতে ভূমি বেদখল বন্ধের দাবিতে চট্টগ্রামে তিন সংগঠনের বিক্ষোভ

0

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
সোমবার, ২৪ জুলাই ২০২৩

খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়িতে ভূমি বেদখল ও পাহাড়ি ভুমি মালিকদের ওপর হয়রানি বন্ধের দাবিতে চট্টগ্রাম নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে পাহাড়ের তিন লড়াকু সংগঠন গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন।

আজ সোমবার (২৪ জুলাই ২০২৩) বিকাল ৪টায় চট্টগ্রাম নগরীর ডিসি হিল হতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাব এলাকা ঘুরে চেরাগী পাহাড় মোড়ে এসে সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

সমাবেশে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক অমিত চাকমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সুদেব চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম মহানগর শাখার সভাপতি উশৈচিং চাক শুভ, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের প্রতিনিধি জেসী চাকমা ও সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের মহানগর সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান।

বক্তারা বলেন, গত ২১ জুলাই বেলা ২টার দিকে মো. আব্দুল লতিফ নামে একজন সেটলার জয়সেন পাড়া সেনা ক্যাম্পের একদল সেনা সদস্যকে নিয়ে মাইসছড়ির বদানালায় পাহাড়িদের ভুমি বেদখলের চেষ্টা চালিয়েছে। তবে স্থানীয় পাহাড়ি নারীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধের কারণে ভুমিদস্যুরা সেদিন ফিরে যেতে বাধ্য হলেও পাহাড়ি ভূমি মালিকদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন। এর আগে গত বছর জয়সেন পাড়ায় পাহাড়িদের ৩৭টি ঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল বলে তারা উল্লেখ করেন।

বক্তারা আরো বলেন, শাসকগোষ্ঠি পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে পাহাড়িদের বিতাড়িত করতে যুগ যুগ ধরে সেনাশাসন বলবৎ রেখে ভূমি বেদখলসহ দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। আশির দশকে চার লক্ষাধিক বহিরাগত বাঙালিকে পার্বত্য চট্টগ্রামে অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে পাহাড়িদের জায়গা দখল করে পুনর্বাসন করা হয়েছে। এই সেটলারদেরকে হাতিয়ার হিসেবে পাহাড়িদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তারা বলেন, পাহাড়ে ভূমি বেদখল থেকে শুরু করে খুন, গুম, নারী নির্যাতনসহ প্রত্যেকটি ঘটনায় রাষ্ট্রীয় বাহিনী যুক্ত রয়েছে। যার কারণে আব্দুল লতিফের মতো সেটলার ও লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজের মতো ভূমি দস্যুরা পাহাড়িদের ভূমি বেদখলে উৎসাহ পাচ্ছে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, অধিকার নিয়ে বাঁচতে হলে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম এবং প্রতিরোধ করা ছাড়া কোন বিকল্প নেই। ভূমিদস্যুদের প্রতিহত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আমরা অধিকার আদায়, ভূমি ও জাতির অস্তিত্ব রক্ষার জন্য আন্দোলন করে যাচ্ছি। যতক্ষণ পর্যন্ত অধিকার আদায় হবে না ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

বক্তারা চিহ্নিত ভুমি বেদখল চেষ্টাকারী সেটেলার মো. আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, ভূমি বেদখল বন্ধ করাসহ স্থানীয় পাহাড়ি ভুমি মালিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান।


সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।


সিএইচটি নিউজের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More