খাগড়াছড়ি শহরে পাহাড়িদের ওপর সাম্প্রদায়িক হামলার ১৬ বছর আজ

0
২০১০ সালে খাগড়াছড়ি শহরে পাহাড়িদের ঘরবাড়ি-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সেটলারদের অগ্নিসংযোগের চিত্র। ফাইল ছবি 

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বিগত ২০১০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়ি শহরের মহাজন পাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে পাহাড়িদের ওপর সাম্প্রদায়িক হামলা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান-ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর-লুটপাট চালায় সেটলার বাঙালিরা। এ হামলার আজ (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ১৬ বছর পূর্ণ হলো।  

জানা যায়, সেদিন সাজেকে হামলার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ চলাকালে স্থানীয় সামরিক-বেসামরিক প্রশাসনের মদদে পরিকল্পিতভাবে সেটলার বাঙালিরা হামলা চালায়। হামলাকারীরা খাগড়াছড়ি শহরের মহাজন পাড়া, নারকেল বাগান, কলেজ পাড়া, মিলনপুর, খাগড়াছড়ি উচ্চ বিদ্যালয় এলাকা ও সাতভেইয়া পাড়ায় পাহাড়ি বসতি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাট চালায়। এতে পাহাড়িদের ৬০টির অধিক ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

সেদিন সেটলাররা যখন পাহাড়িদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাট করছিলো তখন পুলিশ ছিল নীরব দর্শকের ভূমিকায়। তারা হামলাকারীদের বাধা দেয়ার কোন চেষ্টা করেনি। ঘটনা কাভার করার জন্য দায়িত্ব পালনরত এনটিভির সাংবাদিক আলতাফ মাহমুদ, দেশ টিভির সাংবাদিক মংসা প্রু মারমা ও সাংবাদিক দিলীপ চৌধুরীকেও সেটলাররা মারধর করে। কিন্তু এতকিছুর পরও পুলিশ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের রাজত্ব শেষ হওয়ার পরই কেবল প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে। রাতে জারি করা হয় কারফিউ। প্রশাসন হামলাকারী সেটলারদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো খবংপুজ্যাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ডাক্তার, শিক্ষকসহ ৬০ জন নিরীহ গ্রামবাসীকে আটক করে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথবাহিনী। শহরে মিছিল-মিটিঙের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

দীর্ঘ ১৬ বছরেও এ হামলার বিচার হয়নি। ঘটনার পর জড়িত কয়েকজন সেটলারকে লুটের মালামালসহ আটক করা হলেও তারা জামিনে ছাড়া পেয়ে যায়। আর হামলার মূল হোতাদের বিরুদ্ধেতো শাস্তিমূলক কোন পদক্ষেপই গ্রহণ করা হয়নি।  

এই বিচারহীনতার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে বার বার পাহাড়িদের ওপর সংঘটিত হচ্ছে সাম্প্রদায়িক হামলা। এরই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিককালে গত ২০২৪ ও ২০২৫ সালে খাগড়াছড়ি সদরসহ দীঘিনালা, গুইমারা এবং রাঙামাটিতে কয়েক দফায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় ৭ জন পাহাড়ি নিহত হয়েছেন, শতাধিক পাহাড়ি আহত হয়েছেন। কয়েকশ’ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান-ঘরবাড়ি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিচারতো দূরের কথা হামলকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More