গুইমারায় সেনা-সেটলার হামলায় আহতরা কেমন আছেন

0


গুইমারা প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

‎খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার রামেসু বাজারে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সেনাবাহিনী ও সেটলার বাঙালিদের হামলায় ৩ জন পাহাড়ি নিহত এবং গুরুতর জখমসহ অন্তত অর্ধশত নারী-পুরুষ আহত হন। এ হামলার ঘটনায় সেনাবাহিনীর গুলিতে গুরুতর জখম হওয়া কয়েকজন এখনো মানবেতর জীবন-যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

পাঁচ মাসেও এ বর্বরোচিত ঘটনার কোন বিচার হয়নি। ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করলেও এখনো কোন তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি।

হামলায় গুরুতর আহত হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করা কয়েকজন ভুক্তভোগীর সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। ভুক্তভোগীরা তাদের কষ্টকর জীবন-যাপনের কথা তুলে ধরেন।

‎ভুক্তভোগী ক্যাজাই মারমা একজন দিন মজুর। তিনি জানান, সেদিন সেনাবাহিনী নির্বিচার গুলি চালালে ডান হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। তার হাত ভেঙে যায়। সেটলার বাঙালিরা পাহাড়িদের ঘরবাড়ি-দোকানপাটেও অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালায়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, জেলা পরিষদ থেকে পুরো চিকিৎসার খরচ বহন করার আশ্বাস প্রদান হলেও তা দেওয়া হয়নি। তিনি এখনো পঙ্গু অবস্থায় জীবন-যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। কোন কাজ-কর্ম করতে পারছেন না।

‎আরেক ভুক্তভোগী অং মারমা জানান, সেনাবাহিনীর গুলিতে সেদিন তার পায়ে গুলি লাগে। এতে তার পা ভেঙে যায়। জেলা পরিষদ থেকে চিকিৎসা ব্যয়ের অনুদানের আশ্বাস দেওয়া হলেও কোন সহায়তা পাননি বলে দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, চিকিৎসার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ভুক্তভোগীদের হাতে পৌঁছায়নি।

‎চিংক্যউ মারমা বলেন, তিনি পরিবারের বড় ছেলে এবং উপার্জনের একমাত্র ভরসা। জেলা পরিষদ থেকে চিকিৎসা সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে জানান তিনি।

‎ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, পাঁচ মাসেও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হয়নি। তারা দ্রুত জেলা পরিষদের প্রতিশ্রুত চিকিৎসা সহায়তা এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More