চবিতে ছাত্র জোটের নেতা-কর্মীদের উপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম নগরে বিক্ষোভ

0

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর ২০২৩

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের নেতা-কর্মীদের উপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম নগরীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট, চট্টগ্রাম অঞ্চল।

আজ মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর ২০২৩)  বিকাল সাড়ে ৪টার সময় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর চট্টগ্রাম নগরের আহ্বায়ক আবিদ ইসলামের সঞ্চালনায় এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠক জশদ জাকিরের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের চট্টগ্রাম নগরের আহ্বায়ক এ্যানি চৌধুরী, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারন সম্পাদক রোনাল চাকমা, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন চট্টগ্রাম নগরের সভাপতি সাইফুর রুদ্র, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট চট্টগ্রাম নগরের সভাপতি দীপা মজুমদার ও বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি তিতাস চাকমা।

সমাবেশে এ্যানি চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, আজ সকাল সাড়ে ১১টার সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের নেতা-কর্মীরা ছাত্র জোটের বিভাগীয় ছাত্র সমাবেশকে সফল করার জন্য প্রচারপত্র বিলি করতে যায়। প্রচারপত্র বিলির এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বাইক যোগে এসে বিজ্ঞান অনুষদের সম্মুখ থেকে জোটের নেতা-কর্মীদের প্রচারপত্র কেড়ে নেয় এবং শার্টের কলার ধরে মারধর ও হেনস্তার চেষ্টা করে। ছাত্রজোটের নেতৃবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরকে ঘটনা অবহিত করে প্রক্টর অফিসে যায়। তখন ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মী প্রক্টর অফিসে প্রবেশ করে। তখন প্রক্টর অনুমতি না নিয়ে ছাত্র জোটের নেতা-কর্মীদের প্রচারপত্র বিলি সরকার বিরোধী কাজ বলে অ্যাখায়িত করে এবং চড়াও হয়। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতন চাওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয় পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার অভিযোগ আনে। পরে জোটের নেতাকর্মীদের তথ্য ও পরিচয়পত্র লিখে নেয়া হয় এবং প্রক্টর ও ছাত্রলীগ একজন একজন করে ডেকে নিয়ে গিয়ে শাসাঁতে থাকে। পরে প্রক্টর অফিস থেকে নেতা-কর্মীগন বেরিয়ে আসার পথে প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা মারধর করতে থাকে। তাঁরা মুখে থাপ্পড়, লাঠি ও মাটিতে ফেলে মারধর করে। হামলায় গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের চবি শাখার সংগঠক ধ্রুব বড়ুয়া, চট্টগ্রাম নগর সংগঠক বিপ্লব দে, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর চবি শাখার সংগঠক জশদ জাকির,পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি সুদেব চাকমা ও সম্পাদক রোনাল চাকমা আহত হন।

তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা প্রমাণ করে সারা দেশে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ টিকিয়ে রাখতে ‘প্রশাসন ও ছাত্রলীগ’ লাঠিয়াল বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। বলপ্রয়োগ ও মারধর করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ধ্বংস করা হয়েছে।

ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি সাইফুর রুদ্র বলেন, সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আজ ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের টর্চার সেলে পরিণত। ছাত্রলীগ কতৃক বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরারকে হত্যার ঘটনা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী ধর্ষন, চবিতে যৌন হেনস্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গেস্ট রুম নির্যাতন, হল দখল, শিক্ষার্থী মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ক্যাম্পাস ছাড়া করা, টেন্ডারবাজি ও নিয়োগ দুর্নীতিতে জড়িত ছাত্রলীগকে প্রতিরোধ করার সময় এসেছে। ছাত্র সমাজ জনগণকে সাথে নিয়ে এসব অপকর্মের উপযুক্ত জবাব দিবে।

সভাপতি জশদ জাকির বলেন, আগামী ১৩ অক্টোবর ছাত্র জোটের চট্টগ্রামের বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে ছাত্র জোটের নেতা-কর্মীরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রচারপত্র বিলি করতে যায়। আমাদের উপর হামলার ঘটনা প্রমান করে ক্যাম্পাসগুলোতে ন্যূনতম গণতান্ত্রিক পরিবশ নেই। নেই কথা বলার পরিবেশ ও সংগঠনগুলোর  রাজনৈতিক সহাবস্থান। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আজ কোথাও নিরাপদ নই। চাকসু, ডাকসু ও রাকসুর মতন ছাত্র সংসদগুলো অনির্বাচিত এবং সিন্ডিকেটে ছাত্র প্রতিনিধিত্ব অনুপস্থিতিতে ক্যাম্পাসগুলোতে একদলীয় শাসন কায়েম হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া চট্টগ্রাম  বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল দুর্ঘটনা, ক্যাম্পাসে পরিবহণ ও আবাসন সংকট ও নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত না করে প্রশাসন পক্ষপাতিত্ব করছে। আগামীতে ছাত্র-জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব ও ছাত্রলীগের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে জবাব দিতে হবে।

তিনি আগামী ১৩ অক্টোবর  ছাত্র জোটের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে এবং বর্তমান আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের পদত্যাগ বাধ্য করতে ছাত্র জনতাকে ঐক্যেবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

সমাবেশ শেষে নিউমার্কেটের এলাকায় একটি মিছিল বের করা হয়।

অপরদিকে, উক্ত হামলার ঘটনা নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী’র সভাপতি সাদেকুল ইসলাম সোহেল, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি সালমান সিদ্দিকী, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি রাগীব নাইম, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সাভাপতি ছায়েদুল হক নিশান, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি অঙ্কন চাকমা, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মিতু সরকার এবং বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাওফিকা প্রিয়া সংবাদ মাধ্যমে এক যৌথ বিবৃতি প্রদান করেছেন।


সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।


সিএইচটি নিউজের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More