চার সংগঠনের রাঙামাটির সদর উপজেলা শাখার যৌথ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত

0


রাঙামাটি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪

পার্বত্য চট্টগ্রামে পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলনরত বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম  পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম, হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের রাঙামাটি সদর উপজেলা শাখার যৌথ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪) বেলা ২টার সময় এই কাউন্সিল অনুষ্ঠিতম হয়। এতে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের রাঙামাটি সদর উপজেলা শাখার ৬ষ্ঠ কাউন্সিল, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের রাঙামাটি সদর উপজেলা শাখার ৬ষ্ঠ কাউন্সিল, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের রাঙামাটি সদর উপজেলা শাখার ৪র্থ কাউন্সিল ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের রাঙামাটি সদর উপজেলা শাখার ১ম কমিটি গঠন করা হয়।

‘’২৪-এর গণঅভ্যুত্থান থেকে শিক্ষা নিই, রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন রুঁখে দিই, এসো নবীন পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙতে বীর শহীদ বিপুল-সুনীল-লিটনদের সংগ্রামী চেতনায় অদম্য উত্তরসূরি হই, ছাত্র-যুব সমাজকে জাগরিত করে পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের লড়াই জোরদার করি”  শ্লোগানে যৌথ কাউন্সিলের প্রথম অধিবেশনে পিসিপির রাঙামাটি সদর উপজেলা সভাপতি চয়ন চাকমার সভাপতিত্বে ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন উপজেলা সভাপতি নিখি চাকমার সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন, ইউপিডিএফের রাঙামাটি জেলা সংগঠক সচল চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ধর্মশিং চাকমা, পিসিপি’র রাঙামাটি জেলা সভাপতি তনুময় চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনৈর রাঙামাটি জেলা সভাপতি রিপনা চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের রাঙামাটি জেলা সভাপতি রিনিসা চাকমা, কুদুকছড়ি ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সন্তু বিকাশ চাকমা ও হরিকুমার কার্বারী।

যৌথ কাউন্সিল সভা শুরুতে পার্বত্য চট্টগ্রামের পূর্ণস্বায়ত্তশাসন আন্দোলনে ও ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সকল শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠি পার্বত্য চট্টগ্রামকে যুগ যুগ ধরে সেনা কারাগারে পরিণত করে শাসন-শোষণ চালাচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাকে রাজনৈতিকভাবে সমাধানের চেষ্টা না করে সামরিকভাবে দমন-পীড়ন জারি রাখা হয়েছে দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে। দেশের বিভিন্ন সরকারের ক্ষমতা পালাবদল হলেও পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে আগের মতোই দমনমূলক পরিস্থিতি বহাল রয়েছে।  

তারা বলেন, পূর্ণস্বায়ত্তশাসনই হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামে নিপীড়িত জনগণের মুক্তির একমাত্র উপায়। তাই ’২৪-এর গণঅভ্যুত্থান থেকে শিক্ষা নিয়ে পূর্ণস্বায়ত্তশাসন অর্জনের লক্ষ্যে ছাত্র-যুব-নারী সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।

যৌথ কাউন্সিলের দ্বিতীয় অধিবেশনে পুরাতন কমিটি বিলুপ্ত করে যথাক্রমে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের নতুন রাঙামাটি সদর উপজেলা কমিটি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের ১ম কমিটি ঘোষণা করা হয়।

পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের ১৫ সদস্যের কমিটিতে ঝিমিত চাকমাকে সভাপতি, হেম চাকমাকে সাধারণ সম্পাদক ও জুয়েল চাকমাকে সাংগঠনিক নির্বাচিত করা হয়।

হিল উইমেন্স ফেডারেশনের ১৭ সদস্যের কমিটিতে রিয়া চাকমাকে সভাপতি, ইতি চাকমা সাধারণ সম্পাদক ও রিটনা চাকমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।

গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের গঠিত কমিটিতে বিপ্লব চাকমাকে সভাপতি, রিটন চাকমাকে সাধারণ সম্পাদক ও সহেল চাকমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।

আর পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের ১ম রাঙামাটি সদর উপজেলা শাখার ১১ সদস্যের কমিটিতে জয়ন্ত রেখা চাকমাকে সভাপতি, রুবি চাকমাকে সাধারণ সম্পাদক ও লাকী চাকমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে। 

নতুন কমিটিগুলোকে শপথ বাক্য পাঠ করান যথাক্রমে পিসিপি জেলা সভাপতি তনুময় চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশন জেলা সভাপতি রিপনা চাকমা,গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়তন চাকমা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের রাঙামাটি জেলা সভাপতি রিনিসা চাকমা।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More