জাতীয় অবমাননা দিবসে বাঘাইছড়ির সাজেক ও বঙ্গলতলীতে আলোচনাসভা

0

বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

‘জাতীয় অবমাননা দিবসে’ আজ সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫) বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ও বঙ্গলতলীতে পৃথকভাবে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সাজেকে আলোচনা সভা

আজ দুপুর ১২টার সময় ‘জাতীয় অস্তিত্ব ধ্বংসের খেলায় লিপ্ত গণশত্রুদের প্রতিহত করতে ছাত্র ও যুব সমাজের ভূমিকা” শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে ইউপিডিএফের স্থানীয় ইউনিট।

সভায় গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সাজেক শাখার সভাপতি শুক্র চাকমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ইউপিডিএফের সংগঠক ইয়ান চাকমা ও হিল ইউমেন্স ফেডারেশনের বাঘাইছড়ি উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক অর্পনা চাকমা।

বক্তারা ১০ ফেব্রুয়ারি দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, দিনটি একদিকে প্রতিবাদ-প্রতিরোধের, অন্যদিকে জাতির জন্য লজ্জার। ১৯৯৪ সালে এই দিনে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ খাগড়াছড়িতে প্রশাসনের ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে যেমন গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রচনা করেছে, অন্যদিকে সন্তু লারমার নেতৃত্বে জেএসএস সদস্যরা ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করে জাতির জন্য লজ্জাকর ইতিহাস রচনা করেছে। তবে ’৯৮ সালে এদিন খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে সন্তু লারমার নেতৃত্বে জেএসএস’র আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে তৎকালীন পিসিপি-পিজিপি-এইচডব্লিউএফ’র নেতা-কর্মীরা পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের ব্যানার উঁচিয়ে ধরে আরেক সাহসিকতার ইতিহাস সৃষ্টি করে।

বক্তারা আরো বলেন, সরকারের কাছে আত্মসমর্পণের পর সন্তু লারমা জাতির অস্তিত্ব ধ্বংসের খেলায় সরকারের ষড়যন্ত্রের গুটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছেন। তিনি চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনের কথা বলে জনগণকে ধোঁকা দিয়ে সংঘাত জিইয়ে রেখেছেন।

বক্তারা জাতীয় স্বার্থ ধ্বংসের খেলায় লিপ্ত গণশত্রু ও শাসকগোষ্ঠির অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে ছাত্র-যুব সমাজকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

বঙ্গলতলীতে আলোচনা সভা

‍‍‍“জাতীয় স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে ‘বিতর্কিত চুক্তি’ সম্পাদন, আন্দোলন ধ্বংস ও শাসকচক্রের নীলনক্সা বাস্তবায়নে নিযুক্ত গণশত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন” শ্লোগানে ‘জাতীয় অবমাননা দিবসে’ বঙ্গলতুলিতে ইউপিডিএফের বাঘাইছড়ি ইউনিটের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।  

আলোচনা সভায় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর সংগঠক বিধু ভূষন চাকমার সভাপতিত্বে ও কমন চাকমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) বাঘাইছড়ি উপজেলা শাখার সভাপতি পলেন চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশন (এইচডব্লিউএফ)-এর বাঘাইছড়ি উপজেলা শাখার অর্থ সম্পাদক সমরিতা চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম (ডিওয়াইএফ)-এর বাঘাইছড়ি উপজেলা শাখার সভাপতি বীর চাকমা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘ বাঘাইছড়ি উপজেলা শাখার সদস্য সুজলা চাকমা।

ছাত্রনেতা পলেন চাকমা বলেন, আজকের এই দিনে চুক্তির মধ্য দিয়ে অস্ত্র সমর্পণ করে জুম্ম জাতির অধিকার আদায়ের আন্দোলন ধ্বংস করে দেয়া হলেও নতুন আন্দোলনের সূচনাও হয়েছিল। ১৯৯৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে সন্তু লারমার নেতৃত্বে জেএসএস সদস্যদের অস্ত্রসমর্পণকালে তৎকালীন পিসিপি-পিজিপি-এইচডব্লিউএফ’র প্রতিবাদি অংশটি “আপোষ চুক্তি মানি না, পূর্ণস্বায়ত্বশাসন চাই, No Full Autonomy No Rest” লেখা ব্যানার প্রদর্শন করে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। অর্থাৎ, একদিকে আন্দোলনের সূর্য অস্তমিত প্রায় অন্যদিকে আন্দোলনে শিখা জ্বলে উঠেছিল, যা বর্তমানে ইউপিডিএফের নেতৃত্বে চলমান রয়েছে।

তিনি শাসকচক্রের নীলনক্সা বাস্তবায়নে নিযুক্ত গণশত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

এইচডব্লিউএফ নেত্রী সমরিতা চাকমা বলেন, বাঘাইছড়ি নিউ লাল্ল্যেঘোনা কৃতি সন্তান কল্পনা চাকমা অপহরণের ঘটনাটি দেশ বিদেশে কারোর অজানা নয়। কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হলো ১৯৯৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি অস্ত্রসমর্পণ অনুষ্ঠানে সন্তু লারমা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে লংগদু গণহত্যা ও কল্পনা চাকমা অপহরণের বিষয়টি বিতর্কিত বলে মন্তব্য করেছিলেন। আমরাও এই বাঘাইছড়ির সন্তান। কল্পনা চাকমার রক্ত আমাদের শিরা-উপশিরায় বহমান। জুম্ম জাতির বিজয় যতদিন নিশ্চিত না হয় ততদিন লড়াইয়ে আছি, থাকবো।

যুবে নেতা বীর চাকমা বলেন, কালে কালে, যুগে যুগে যুবকদের অনুপস্থিতিতে কোন কাজ সাধন সম্ভব হয়নি। পাহাড়ের বিজয় ছিনিয়ে আনতে আন্দোলনে যুব সমাজের অংশগ্রহণ খুবই প্রয়োজন। যুব সমাজ যতই নিজেদেরকে প্রস্তুত করতে ততই আমাদের আন্দোলন বেগবান হবে। তাই তিনি যুব সমাজকে অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সামিল হওয়ার আহ্বান জানান।

নারী নেত্রী সুজলা চাকমা বলেন, পাহাড়ি নারী সমাজকে নিজেদের আত্মসম্মান নিয়ে বেঁচে থাকতে সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে। আমরা অন্যায়, নিপীড়ন নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালয়ে যাবো।

সভাপতির বক্তব্যে ইউপিডিএফ সংগঠক বিধু ভূষন চাকমা বলেন, জেএসএস’র বেদনাদায়ক ইতিহাসই আজকে ইউপিডিএফকে অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে দাঁড় করিয়েছে। আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের কথা বলে সন্তু লারমার নেতৃত্বে জেএসএস জনগণের সাথে প্রতারণা করে আপোষ চুক্তি ও স্যারেন্ডার করে শাসকগোষ্ঠির ক্রীড়নকে পরিণত হয়েছে। সন্তু লারমা এখনো শাসকগোষ্ঠির সাথে আঁতাত রেখে আন্দোলন ধ্বংসের নানা ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। এর বিরুদ্ধে সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে। আমাদেরকে অধিকার অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত সকল বাঁধা-বিপত্তি মোকাবেলা করে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More