ঢাবি শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতা নাঈম উদ্দীনের ওপর পুলিশি হামলার অভিযোগ

0
নাঈম উদ্দীনের ওপর পুলিশের হামলার চিত্র। ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি

ঢাকা প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী অভিযানের সময়  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠন বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের সহসভাপতি নাঈম উদ্দীনের ওপর হামলা ও তাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাতে এ ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অভিযানের সময় পুলিশের অযাচিত আচরণ নিয়ে নাঈম উদ্দীন প্রশ্ন তুললে একপর্যায়ে তাকে ‘ছোটভাই আর্গুমেন্ট বেশি করতেছো’ বলে লাঠিপেটা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তার মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়।

ঘটনার পর শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ডিসি মাসুদের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সদস্য নাঈম উদ্দিনসহ কয়েকজন ছাত্রকে ঘিরে ধরেন। তারা প্রথমে নাঈম উদ্দীনকে হাত উপরে তুলে দাঁড়িয়ে থাকতে বলেন এবং পরে তার কাছ থেকে ব্যাগ কেড়ে নিয়ে তল্লাশি করেন। এ সময় ডিসি মাসুদ তার কাছ থেকে ‘কোথা থেকে আসছেন, এখানে কেন এসেছেন, কি করেন, এখানে কারা থাকে” ইত্যাদি প্রশ্ন করতে থাকেন। তার এমন আচরণে নাঈম উদ্দীন নাগরিকদের চলাফেরার অধিকার নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করতে থাকলে এক পর্যায়ে পিছন দিক থেকে একজন তার শার্টের কলার ধরে টেনে নিয়ে ঠেলে তাকে ফেলে দেয় এবং সেখানে কয়েকজন লাঠি দিয়ে তাকে উপর্যুপুরি আঘাত করতে থাকে। এতে নাঈম উদ্দীন মাটিয়ে লুটিয়ে পড়ে যান। পরে একজন গিয়ে সেখান থেকে তাকে টেনে তুলেন। এরপর তার মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়। 

অপরদিকে, একই সময় সেখানে আরো আরো কয়েকজন ছাত্র এবং লাইভ সম্প্রচার করা এক সাংবাদিককেও হেনস্তা-মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য হেমা চাকমা সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, অত্যন্ত গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাংলাদেশ পুলিশ আজকে ঢাবি ছাত্র ও বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের সহসভাপতি নাঈম উদ্দীনের ওপর কোনও প্রমাণ ছাড়াই হামলা চালিয়েছে। ডিসি মাসুদের নির্দেশে সংঘটিত এ হামলা শাসন ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এতে আরও বলা হয়, প্রমাণ ছাড়া একজন সাধারণ নাগরিককে অপরাধী ফ্রেমিং করার অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানাই। পুলিশ বাহিনীর নামে আতঙ্ক সৃষ্টি করে একজন নাগরিকের স্বাধীনভাবে চলাফেরার মৌলিক অধিকার খর্ব করার প্রতিবাদ জানাই। কোনও বৈধ কারণ ছাড়াই একজন মানুষকে শারীরিকভাবে আঘাত করার ঘটনাকে আমরা মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করছি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডিসি মাসুদসহ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অবিলম্বে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। পুলিশ বাহিনীকে প্রকৃত অর্থে জনগণের বন্ধু হিসেবে গড়ে তুলতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। দেশের নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পেশাদারিত্ব ও মানবিকতার চর্চা করতে হবে।

এতে আরো বলা হয়, পুলিশের কাজ আইন প্রয়োগ করা, আইনকে অমান্য করা নয়। পুলিশের হাতেই যদি আইন অমান্য করে জনগণের ওপর নির্যাতনের নীলনকশা আঁকা হয়, তবে সেই বাহিনী রাষ্ট্রের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More