নাইক্ষ্যংছড়িতে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী কর্তৃক নারীসহ তিন তঞ্চঙ্গ্যাকে মারধরের অভিযোগ

0

বাংলাদেশ তঞ্চঙ্গ্যা স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার ফোরামের নিন্দা ও প্রতিবাদ

নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান), সিএইচটি নিউজ
মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ৩নং ঘুমধুম ইউনিয়নে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা এক নারীসহ তিন তঞ্চঙ্গ্যা গ্রামবাসী মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ তঞ্চঙ্গ্যা স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার ফোরাম, কেন্দ্রীয় কমিটি।

গত ২২ ও ২৪ জানুয়ারি এই ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগীরা হলেন- চিয়ন্যা তঞ্চঙ্গ্যা, পিতা- কালিচরণ তঞ্চঙ্গ্যা, গ্রাম- জামিরতলী, ৯নং ওয়ার্ড, ঘুমধুম ও ৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা বর্ণমালা তঞ্চঙ্গ্যা ও কালু তঞ্চঙ্গ্যা। এদের মধ্যে চিয়ন্যা তঞ্চঙ্গ্যা জন্মের  পর থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক বলে পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন।

জানা যায়, গত শনিবার (২৪ জানুয়ারি) চিয়ন্যা তঞ্চঙ্গ্যা টেকনাফের হরিখোলা বৌদ্ধ বিহারে আয়োজিত একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বাড়ি থেকে হেঁটে রওনা দেন। এতে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলে পথে কিছু রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে। পরে তাকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে মারধর ও নানাভাবে হুমকি প্রদান করে।

এর আগে গত ২২ জানুয়ারি সকাল আনুমানিক ১০টার সময় ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড এলাকায় অস্ত্রধারী তিনজন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী (আরসা) বাগানে ফুলঝাড়ু কাটতে যাওয়া বর্ণমালা তঞ্চঙ্গ্যা নামে এক নারী ও কালু তঞ্চঙ্গ্যা নামে এক যুবকক আটক করে বেদম মারধর করে। এক পর্যায়ে মারধরের পর বর্ণমালা তঞ্চঙ্গ্যাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হলেও কালু তঞ্চঙ্গ্যাকে প্রায় তিন ঘন্টা সেখানে আটকে রেখে সন্ত্রাসীরা মারধর করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা তাদেরকে পাহাড়িরা যাতে আর জঙ্গলে প্রবেশ না করে তা জানিয়ে দেয় এবং বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান কর কালু তঞ্চঙ্গ্যাকে ছেড়ে দেয়।

বাংলাদেশ তঞ্চঙ্গ্যা স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার ফোরামের নিন্দা ও প্রতিবাদ
বাংলাদেশ তঞ্চঙ্গ্যা স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার ফোরাম নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী কর্তৃক তিন জন তঞ্চঙ্গ্যার ওপর বর্বর হামলা, মারধর, অপহরণ ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনার তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছি।

বিবৃতিতে, এ ঘটনাকে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী পাহাড়িদের নিজ ভূমি ও জীবিকাভিত্তিক এলাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিচ্ছে, যা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, আইনের শাসন এবং পাহাড়ের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য মারাত্মক হুমকি।

এতে, পাহাড়িদের জীবন, নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষায় কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, মানবাধিকার সংগঠন ও গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

বিবৃতিতে তিন দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলো হলো:
১. নাইক্ষ্যংছড়িতে সক্রিয় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিশেষ নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনা করতে হবে।
২. ঘটনার সাথে জড়িত সকল সন্ত্রাসীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ৩. ভুক্তভোগী তঞ্চঙ্গ্যা পরিবারগুলোর নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More