পানছড়িতে ইউপিডিএফ সদস্য তপন চাকমা’র পরিবারের লোকজনকে সন্তু গ্রুপের হুমকি

0


পানছড়ি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ

বুধবার, ২ এপ্রিল ২০২৫

খাগড়াছড়ির পানছড়িতে জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ইউপিডিএফ সদস্য তপন চাকমার পরিবারের লোকজন ও আত্মীয় স্বজনকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

জানা যায়, আজ বুধবার (২ এপ্রিল ২০২৫) দুপুর ১২:৩০টার দিকে সন্তু গ্রুপের ২০/২২ জনের একটি সশস্ত্র দল পানছড়ির মধু রঞ্জন পাড়া হয়ে হারুবিল গ্রামে এসে তপন চাকমার বাড়ি ঘেরাও করে। এরপর ৩/৪ জন সন্ত্রাসী বাড়ির ভিতর প্রবেশ করে বাড়িতে থাকা লোকজনের কাছ থেকে এটা তপনের বাড়ি কিনা জিজ্ঞাসা করে।

পরে তপনের মা এসে তাদের কাছ থেকে বাড়ি খোঁজার কারণ জানতে চাইলে তারা মিথ্যা অভিযোগ করে বলে “তপনকে বলবেন নতুবা এখনই ফোন করে বলুন যে, “তারা কেন জেএসএসের সমর্থক, শুভাকাঙ্ক্ষী ও আত্মীয়-স্বজনকে অত্যাচার, হয়রানি করছে? তাকে এসব না করতে মানা করেন। না হলে তপনের বংশসহ আত্মীয়-স্বজন সবাইকে মেরে ফেলা হবে।”

এরপর তপনের মা “আমাকেও মেরে ফেলে যাও” বললে সন্ত্রাসীরা গলার স্বর নরম করে তাকে বলে “আপনার ছেলেকে বুঝাবেন, সে যাতে এসব কাজ না করে।” এ কথা বলে সন্তু গ্রুপের সন্ত্রাসীরা রূপসেন পাড়ার দিকে চলে যায় বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, তপন কর্তৃক সন্তু গ্রুপের লোকজন বা সমর্থকদের অত্যাচার ও হয়রানি করার অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যা। বরং সন্তু গ্রুপের সন্ত্রাসীরাই অব্যাহতভাবে পানছড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় ইউপিডিএফের সদস্য ও সমর্থকদের খুন, অপহরণ ও নানাভাবে হয়রানি করে যাচ্ছে। গত মাসে তারা ইউপিডিএফের দুই সদস্য ও এক নিরীহ নারীকে গুলি করে হত্যা করে।

সেনা শাসকগোষ্ঠীর মদদে সন্তু গ্রুপ জাতীয় স্বার্থ পরিপন্থী ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত শুরু করায় দেশে বিদেশে ও সাধারণ জুম্ম জনগণের মধ্যে সন্তু গ্রুপের বিরুদ্ধে গভীর ক্ষোভ ও অসন্তোষ ধূমায়িত হচ্ছে। অনেকে প্রকাশ্যে সন্তু গ্রুপের নেতাদের দুর্নীতি ও কেলেংকারি ফাঁস করে দিচ্ছে।

ভারতের মিজোরাম ও ত্রিপুরায় জেএসএস নেতাকর্মীদেরকে তারা তাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে অনেক জেএসএস নেতাদের এখন ভারত ও বাংলাদেশ কোথাও ঠাঁই হচ্ছে না।

সন্তু গ্রুপের পক্ষে বর্তমানে বন্দুকের ভয় দেখিয়ে জনগণকে দমিয়ে রাখা সম্ভব হলেও, সেটা আর বেশীদিন সম্ভব হবে না বলে মনে হচ্ছে। অতীতে সাধারণ জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের মোকাবিলা করেছেন ও তাদের হাতের বন্দুক পর্যন্ত কেড়ে নিয়েছিলেন, এমন বীরত্বপূর্ণ নজীর রয়েছে।

ভবিষ্যতে সন্তু সন্ত্রাসীদের মোকাবিলা করতে জনগণ নানা কৌশল অবলম্বন করতে পারেন। জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে অনেক কিছুই করা সম্ভব। কারণ শত্রুকে মোকাবিলার জন্য বন্দুক একমাত্র অস্ত্র নয়– এমন মন্তব্য এলাকাবাসীর।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More