পানছড়িতে মাইকেল চাকমা’র সন্ধান ও বিনা বিচারে হত্যা-গুম বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ

পানছড়ি প্রতিনিধি ।। রাষ্ট্রীয় গুমের শিকার ইউপিডিএফ নেতা মাইকেল চাকমা’র সন্ধান, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনাশাসন তুলে নেওয়া, পাহাড়-সমতলে বিনা বিচারে হত্যা-গুম বন্ধ করা এবং রমেল ও সৌরভ চাকমা হত্যায় জড়িত সেনা সদস্যদের গ্রেফতার-বিচার দাবিতে খাগড়াছড়ির পানছড়িতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইউপিডিএফ ও তার সহযোগি সংগঠন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম।
আজ বৃহস্পতিবার (০৭ এপ্রিল ২০২২) বেলা ২ টার সময় পানছড়ি সদর এলাকায় এক বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এরপর অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, ইউপিডিএফ-এর সংগঠক আপন চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম’র পানছড়ি উপজেলা শাখার সভাপতি সুর মঙ্গল চাকমা, পিসিপি’র জেলা সভাপতি নরেশ ত্রিপুরা ও পানছড়ি উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক সুনীল ময় চাকমা।
বক্তরা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে নিপীড়িত জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইউপিডিএফ’র নেতৃত্বে গণআন্দোলন চলছে। শাসকগোষ্ঠির দমন-পীড়ন, খুন-গুম, ভূমি বেদখল, নারী নির্যাতনসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি জনগণের ওপর চলমান সকল অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে ইউপিডিএফই প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ সংগ্রাম সংগঠিত করছে। যার কারণে ইউপিডিএফ’র ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন দমনে শাসকগোষ্ঠি নিষ্ঠুর পন্থা বেছে নিয়েছে। একের পর এক ইউপিডিএফ নেতা-কর্মিদের বিনা বিচারে খুন, গুম করা হচ্ছে, গ্রেফতার করে নির্যাতন চালিয়ে মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর জেলে বন্দি করে রাখা হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে মাইকেল চাকমাকে ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল নারায়গঞ্জের কাঁচপুর এলাকা থেকে ঢাকায় ফেরার পথে তুলে নিয়ে গুম করা হয়েছে। তিন বছরেও সরকার মাইকেল চাকমার সন্ধান দিতে পারেনি। এতেই প্রমাণ হয় মাইকেল চাকমা গুমের ঘটনায় সরকারই জড়িত রয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শাসকগোষ্ঠির দমন-পীড়নের মাত্রা এমনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে যার কারণে শুধু ইউপিডিএফ’র নেতা-কর্মিরা নয়, সাধারণ মানুষেরও আর জীবনের কোন নিরাপত্তা নেই। তারা বলেন, সেনাবাহিনী গত ১৫ মার্চ দীঘিনালায় ইউপিডিএফ নেতা নবায়ন চাকমা সৌরভকে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করেছে। তার আগে ২০১৯ সালের ২৬ আগস্ট সেখানে নবীন জ্যোতি, ভুজেন্দ্র ও রুচিল চাকমা নামে তিন ইউপিডিএফ কর্মীকে বিনা বিচারে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ২০১৭ সালে রাঙামাটির নান্যাচরে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ও পিসিপি নেতা রমেল চাকমাকে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়াও আরো অসংখ্যা নেতা-কর্মিকে এভাবে সেনাবাহিনী কর্তৃক বিনা বিচারে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এই রাষ্ট্রে এসব ঘটনার কোন বিচার আমরা পাই না।
বক্তারা শাসকগোষ্ঠির অন্যায় দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য ছাত্র, যুব সমাজসহ সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
সমাবেশ থেকে বক্তারা অবিলম্বে মাইকেল চাকমার সন্ধান ও তাকে সুস্থ শরীরে ফিরিয়ে দেওয়া, বিচার বহির্ভুত সকল হত্যা ও গুম বন্ধ করা, সৌরভ ও রমেল চাকমাকে হত্যায় জড়িত সেনা সদস্যদের গ্রেফতার-বিচার এবং পাহাড় থেকে সেনা শাসন তুলে নিয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
সিএইচটি নিউজের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন