পানছড়িতে শহীদ মিটন চাকমা’র সম্মানে ইউপিডিএফ’র স্মরণসভা

0

পানছড়িতে শহীদ মিটন চাকমা’র সম্মানে স্মরণসভার আয়োজন করে ইউপিডিএফ পানছড়ি ইউনিট। সভায় অংশগ্রহণকারীদের একাংশ।


পানছড়ি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০২৪

খাগড়াছড়ির পানছড়িতে ইউপিডিএফ সংগঠক ও সাবেক ছাত্রনেতা শহীদ মিটন চাকমা’র সম্মানে স্মরণসভা করেছে ইউপিডিএফ পানছড়ি ইউনিট।

আজ বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর ২০২৪) সকাল ১১টায় এ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। স্মরণসভা স্থলে প্রদর্শন করা হয় শহীদ মিটন চাকমার মিটন চাকমার সংগ্রামী জীবনের বেশ কিছু স্থিরচিত্র।

স্মরণসভা শুরুর পূর্বে শহীদ মিটন চাকমার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানো হয়। প্রথমে ইউপিডিএফের পানছড়ি ইউনিট সমন্বয়ক আইচুক ত্রিপুরা নেতৃত্বে শহীদ মিটন চাকমার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানো হয়।

ইউপিডিএফের পানছড়ি ইউনিট সমন্বয়ক আইচুক ত্রিপুরা নেতৃত্বে শহীদ মিটন চাকমার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হচ্ছে।



এরপর ধারাবাহিকভাবে শহীদ পরিবারবর্গ, পিসিপি, ডিওয়াইএফ, নারী সংঘ ও জনপ্রতিনিধিরা শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। এছাড়াও বিভিন্ন স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীরাও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

শহীদ পরিবারর্গের পক্ষ থেকে মিটন চাকমার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হচ্ছে। 

শহীদ মিটন চাকমার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাাচ্ছেন শিশু-কিশোররা।

পরে শহীদ মিটন চাকমাসহ অধিকার আদায় লড়াই সংগ্রামে যারা শহীদ হয়েছেন সে সকল শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

পরে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় ইউপিডিএফের পানছড়ি ইউনিটের সমন্বয়ক আইচুক ত্রিপুরার সভাপতিত্বে ও সদস্য সুর মঙ্গল চাকমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সুমেন চাকমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলা সভাপতি শান্ত চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের পানছড়ি উপজেলা সভাপতি রিপন ত্রিপুরা ও ১ নং লোগাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয় কুমার চাকমা।

শহীদ মিটন চাকমাসহ সকল শহীদদের স্মরণে ১ মিনিট নিরপতা পালন করা হয়।


এছাড়া স্মরণসভার মঞ্চে আরো উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক মানেকপুতি চাকমা, ২ নং চেঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনন্দ জয় চাকমা, ৩ নং পানছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উচিত মনি চাকমা, ২ নং চেঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কালাচাঁদ চাকমা ও ১ নং লোগাং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সমর বিকাশ চাকমা।

স্মরণসভায় সুমেন চাকমা বলেন, কোন কোন মানুষের মৃত্যু বেলে হাঁসের পলকের মতো হাল্কা আর কারো কারো মৃত্যু থাই পাহাড় কিংবা চিম্বুক পাহাড়ের চাইতেও বেশি ভারী হয়। সহযোদ্ধা মিটন চাকমার মৃত্যুও পাহাড়ের চেয়েও ভারী।

তিনি আরো বলেন, ব্যক্তিগত জীবনে এযাবত পারিবারিক-আত্মীয় স্বজন হতে যারা ইতিপূর্বে মারা গেছেন বা শহীদ হয়েছেন এর আগে আমার কোন অশ্রু ঝরেনি। গত ১০ নভেম্বর জেএসএস সন্তু গ্রুপের হামলায় মিটন চাকমার শহীদ হয়েছেন শুনে আমি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলাম। কারণ মিটন চাকমা জাতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন।  

সুমেন চাকমা বলেন, সন্তু লারমার জেএসএস শাসকগোষ্ঠির ‘জুম্মে দিয়ে জুম্মে ধ্বংসের’ এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে জাতির যে চরম ক্ষতি করছে একদিন জনগণের কাছে এর জবাব জেএসএসকে দিতে হবে।

 শহীদ মিটন চাকমার সংগ্রামী জীবনের স্থিরচিত্র দেখছেন শিক্ষার্থীরা।

আইচুক ত্রিপুরা বলেন, মিটন চাকমা একজন সৎ চরিত্রের অধিকারী ছাত্র ছিলেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের নিপিড়ীত, নির্যাতিত জুম্মো জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ২০২২ সালে ইউপিডিএফ-এ যোগ দেন। পার্টির অর্পিত দায়িত্ব তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কোন গাফিলতি ছাড়া নিষ্ঠার সাথে পালন করে গেছেন।

তিনি আরো বলেন, শহীদ মিটন চাকমা শেষ নিশ্বাস ত্যাগের পূর্বে বলে গেছেন ‘আমি আর বাঁচবো না, লড়াইটা তোমরা চালিয়ে নাও’। যতদিন বেঁচে থাকি শহীদ মিটন চাকমার এ কথা মনে গেঁথে তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রত্যয়ে সবাইকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জনপ্রতিনিধি জয় কুমার চাকমা বলেন, ব্যক্তি জীবন উৎসর্গ করে মিটন চাকমা পুরো জাতির একজন সাহসী বীর হিসেবে পরিচয় দিয়ে গেছেন।

তিনি বলেন, আমাদের দলগুলো চাইলে যে কোন মুহুর্তে সংঘাত বন্ধ করতে পারে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জড়িয়ে পড়া জাপান আমেরিকা যুদ্ধ থামিয়ে মিলিত হতে পারলে জেএসএস, ইউপিডিএফ কেন ঐক্যবদ্ধ হতে পারবে না? জেএসএসও চায় জুম্মো জনগণের অধিকার, ইউপিডিএফও চায় জুম্মো জনগণের অধিকার, তাহলে ভাইয়ে ভাইয়ে এ সংঘাত কেন?

জয় কুমার চাকমা আরো বলেন, যে কোন সংঘাত নিরসনের জন্য আলোচনা দরকার হয়। শুধু মারামারি-হানাহানি করে থাকলে সংঘাত নিরসন হয় না। তাই সংঘাত বন্ধের জন্য আলোচনার পথ খুঁজে বের করতে হবে, আর এতে জাতির কল্যাণ হবে। জাতি যাতে আর মিটন চাকমার মত মেধাবী, সৎ, সাহসী মানুষকে না হারায় সেজন্য অবিলম্বে সংঘাত বন্ধের উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

শহীদ মিটন চাকমার সংগ্রামী জীবনের স্থিরচিত্র দেখছেন শিক্ষার্থীরা।

পিসিপি’র জেলা সভাপতি শান্ত চাকমা বলেন, জেএসএস সন্তু লারমার লোকেরা এখন এমএন লারমা শিখিয়ে যাওয়া ‘ক্ষমা কর ভুলে যাও’ নীতি ও আদর্শ থেকে সরে গিয়ে এমএন লারমার শোক দিবসকেও চরম অপমান করছে। তার উজ্জল দৃষ্টান্ত হলো গত ১০ নভেম্বর এমএন লারমার মৃত্যুবার্ষিকীর দিন সশস্ত্র হামলা চালিয়ে ইউপিডিএফ সংগঠক ও সাবেক ছাত্রনেতা মিটন চাকমাকে হত্যার ঘটনা।

তিনি আরো বলেন, আমরা জেএসএসের আন্দোলনকে অস্বীকার করি না, তবে জেএসএস চুক্তি করে জাতির সাথে যে প্রতারণা করেছে তা নিয়ে আমরা সমালোচনা করি। আমরা যদি দেখি গত ১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর দীঘিনালা, খাগড়াছড়ি সদর ও রাঙামাটিতে সেনা-সেটলাদের হামলা, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান-ঘরবাড়িসহ আঞ্চলিক পরিষদ কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ এবং জুনান, রুবেল, ধন রঞ্জন ও অনিক-কে হত্যার ঘটনায় জেএসএসকে কোন প্রতিবাদ করতে দেখা যায়নি। কিন্তু উল্টো তারা ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পরিবর্তে ইউপিডিএফের ওপর সশস্ত্র হামলা ও নেতা-কর্মী হত্যায় মেতে উঠেছে।

যুবনেতা রিপন ত্রিপুরা বলেন, সেনাবাহিনীর মদদে জেএসএস সন্তু লারমা মিটন চাকমাকে হত্যা করতে পারলেও তারা মিটন চাকমার নীতি আদর্শ বিন্দুমাত্র শেষ করতে পারেনি।

মিটন চাকমা একজন সৎ, আদর্শবান মানুষ। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তিনি জাতির জন্য লড়াই সংগ্রাম করে গেছেন। আমি তাঁর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে তাঁর স্বপ্ন পূরণে লড়াইয়ে অবিচল থাকবো।

উল্লেখ্য, গত ১০ নভেম্বর ২০২৪ খাগড়াছড়ির পানছড়িতে সন্তুলারমার লেলিয়ে দেয়া অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে মিটন চাকমাকে হত্যা করে।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More