পার্বত্য চট্টগ্রামে পাকিস্তানি আগ্রাসন (১৯৪৭) বিষয়ে বাঘাইছড়িতে আলোচনা সভা ও শিশু-কিশোরদের প্রতীকী মহড়া

0

প্রতীকী বেলুচ রেজিমেন্স সৈন্যবাহিনীর কুশপুত্তলিকায় আক্রমণ শিশু-কিশোরদের

বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
রবিবার, ২৫ আগস্ট ২০২৪

“ব্রিটিশদের রুখে দিয়েছে রুণুঝুণু খাঁ’রা, ’৪৭-এ পাকিস্তান মেনে নেয়নি স্নেহবাবুরা, ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে হটাতে লড়েছি আমরাও” এই শ্লোগাানে  সকল জাতিসত্তার স্বীকৃতি ও অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানে বাঘাইছড়িতে আলোচনা সভা ও শিশু-কিশোরদের প্রতীকী মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।

“পার্বত্য চট্টগ্রামে পাক আগ্রাসনের” ৭৭ বছর উপলক্ষে ‘ আজ রবিবার (২৫আগষ্ট ২০২৪) দুপুর ১:০০টার সময়  বাঘাইছড়ির বঙ্গলতলীতে ‘জাতীয় গৌরব অনুসন্ধান নতুন প্রজন্ম ২০২৪’ ব্যানারে  এই কর্মসুচির আয়োজন করা হয়।

দুই পর্বের এই কর্মসূচিতে প্রথম পর্বে আলোচনা সভা ও দ্বিতীয় পর্বে শিশু-কিশোরদের মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় রিপন চাকমার সঞ্চালনায় আলোচনা করেন ইউপিডিএফের বাঘাইছড়ি উপজেলা ইউনিটের প্রধান সংগঠক অক্ষয় চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের বাঘাইছড়ি উপজেলা সভাপতি বীর চাকমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের বাঘাইছড়ি উপজেলা সভাপতি পলেন চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের বাঘাইছড়ি উপজেলা শাখার সহসাধারণ সম্পাদক অর্চনা চাকমা, বিটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ধর্মরাজ চাকমা ও বঙ্গলতলী ইউপি চেয়ারম্যান জ্ঞান জ্যোতি চাকমা।

সভা শুরুতে ব্রিটিশ আগ্রাসন প্রতিরোধের বীর রুণু খাঁসহ সকল শহীদদের সম্মানে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।


সভায় প্রথমে অক্ষয় চাকমা পার্বত্য চট্টগ্রামে পাকিস্তানের আগ্রাসন বিষয়ে ধারণামূলক আলোচনা করেন। তিনি বলেন, সে সময়কার পাহাড়ি নেতাদের মধ্যে সুসংগঠিত কোন সংগঠন না থাকায় পাকিস্তান সরকার বেলুচ রেজিমেন্ট পাঠিয়ে অস্ত্রের বলে পার্বত্য চট্টগ্রামে আগ্রাসন চালাতে পেরেছিল। যদিও অতীতে বীর রুণু খাঁ’রা মোগল-ব্রিটিশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বীরত্বপূর্ণভাবে প্রতিরোধ লড়াই করেছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতেও জাতি হিসেবে টিকে থাকলে হলে আমাদের লড়াই-সংগ্রামের কোন বিকল্প নেই। নতুন প্রজন্মকেই এ লড়াইয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

যুব নেতা বীর চাকমা বলেন, আমাদের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে ব্রিটিশ আগ্রাসন প্রতিরোধের বীর রুণু খাঁদের উত্তরসূরি হিসেবে আমাদের তাদের বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ লড়াই থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে আমাদের জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে হবে।   

হিল উইমেন্স ফেডারেশনে নেত্রী অর্চনা চাকমা বলেন, পাকিস্তানের আগ্রাসনের পর থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস নিপীড়ন-নির্যাতন, শোষণ-বঞ্চনার ইতিহাস। পরবর্তীতে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম হলেও সেই নিপীড়ন-নির্যাতন কমেনি, বরং বেড়েছে। তাই আমাদেরকে পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে হবে। ইতিহাস অনুসন্ধান করতে হবে। বীর রুণু খাঁ’দের প্রতিরোধ সংগ্রাম থেকে সাহস সঞ্চয় করে জাতিকে রক্ষায় নিবেদিতপ্রাণ হয়ে আন্দোলন করতে হবে।

প্রতীকী বেলুচ রেজিমেন্স সৈন্যবাহিনীসহ ফ্যাসিস্ট হাসিনার দালালদের কুশপুত্তলিকা

চেয়ারম্যান জ্ঞান জ্যোতি চাকমা ও শিক্ষক ধর্মরাজ চাকমা পাকিস্তানের আগ্রাসন, কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে হাজার হাজার একর জমি পানির নীচে তলিয়ে যাওয়া, লক্ষাধিক মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে পড়া এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠনের পর পাহাড়িদের নিশ্চিহ্ন করে দিতে ষড়যন্ত্র বিষয়ে আলোচনা করেন।

এরপর দ্বিতীয় পর্ব শিশু-কিশোরদের মহড়া কর্মসূচি শুরু করা হয়। এতে প্রতীকী পাকিস্তানের বেলুচ রেজিমেন্ট সৈন্যবাহিনীর ৭টি কুশপুত্তলিকা ও ফ্যাসিস্ট হাসিনার দালাল কুজেন্দ্র, দীপংকর তালুকদার ও বীর বাহাদূরের কুশপুত্তলিকা আগে থেকে তৈরি করে রাখা হয়। আর পেছনে ফ্যাসিস্ট হাসিনার দালাল হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন, কুজেন্দ্র, বীর বাহাদুর ও দীপংকরের ছবি ক্রস চিহ্ন যুক্ত ব্যানার টাঙানো ছিল।

প্রতীকী বেলুচ রেজিমেন্স সৈন্যবাহিনীর কুশপুত্তলিকায় আক্রমণ করছে শিশু-কিশোররা

পরে একদল শিশু-কিশোর প্রতীকী বেলুচ রেজিমেন্স সৈন্যবাহিনীর কুশপুত্তলিকা ও ফ্যাসিস্ট হাসিনার দালাল কুজেন্দ্র, দীপংকর তালুকদার ও বীর বাহাদূরের কুশপুত্তলিকায় ঝাড়ু, লাঠিসোটা ও সুঁচালো বাঁশ দিয়ে আক্রমণ করে আঘাত করে আগ্রাসনের প্রতিবাদ জানান।

এরপর উপস্থিত জনতা বাঙালি জাতীয়তা চাপিয়ে দেয়ার প্রতিবাদে হাসিনা সরকারের সংশোধিত ‌‌’পঞ্চদশ সংবিধান সংশোধনী’র কপি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলেন।

বাঙালি জাতীয়তা চাপিয়ে দেয়ার প্রতিবাদে পঞ্চদশ সংবিধান সংশোধনী কপি পুড়িয়ে ফেলছেন জনতা



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More