পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে বাঘাইছড়িতে দুই স্থানে ইউপিডিএফ’র সমাবেশ
বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
শুক্রবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৩

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনেরপার্বত্য চট্টগ্রামে সফরকে সামনে রেখে রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট ঠ্যাঙারে বাহিনীর সন্ত্রাসসহ মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধের দাবিতে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পৃথক দুই স্থানে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ইউনাইটেড পিপলস্ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)।
আজ শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি ২০২৩) সকাল ১১ টায় বাঘাইছড়ি উপজেলা সদর এলাকায় ও সাজেকে ইউনিয়নে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।
বাঘাইছড়ি সদর এলাকায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ইউপিডিএফের বাঘাইছড়ি ইউনিটের সংগঠক রিয়েল চাকমা ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের বাঘাইছড়ি উপজেলা শাখার সভাপতি রত্ন জ্যোতি চাকমা এবং সাজেক ইউনিয়নের অনুষ্ঠিত সমাবেশে রাখেন ইউপিডিএফ-এর সাজেক ইউনিটের সংগঠক সোহেল চাকমা, সাজেক ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নেলশন চাকমা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বর্তমান ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি এক চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। দীর্ঘ ১৪ বছরের অধিক ক্ষমতায় থেকে দেশের জনগণের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে। প্রতিনিয়ত চলছে খুন, গুম, হত্যা, নারী ধর্ষন, নির্যাতন।

তারা আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানবাধিকার পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পাহাড়ি জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে নস্যাৎ করে দেয়ার জন্য সরকার ও রাষ্ট্রীয় বাহিনী একের পর এক ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। গত বছর রাষ্ট্রীয় বাহিনী কর্তৃক ইউপিডিএফ সংগঠক নবায়ন চাকমাকে নির্যাতন চালিয়ে বিচারবহির্ভূত হত্যা করা হয়। এছাড়াও পিসিপি নেতা রমেল চাকমাসহ এ যাবত বেশ কয়েকজন ইউপিডিএফ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে, বিনা ওয়ারেন্টে আটক করে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দিয়ে কারাগারে আটক রাখা ও জামিনে বের হলে কারা ফটক থেকে পুনরায় আটক করে নিয়ে নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে প্রেরণ করার মত জঘন্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সরকার ও রাষ্ট্রীয় বাহিনী নব্যমুখোশসহ বিভিন্ন ঠ্যাঙারে বাহিনীগুলোকে মদদ দিয়ে তাদেরকে দিয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ২০১৭ সালে রাষ্ট্রীয় বাহিনী মদদে নব্যমুখোশ বাহিনী সৃষ্টি করে ও তাদের লেলিয়ে দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। এই সন্ত্রাসীদের দিয়ে ২০১৮ সালে ইউপিডিএফ-এর অন্যতম সংগঠক মিঠুন চাকমাকে হত্যা, করেছে, একই বছর খাগড়াছড়ি সদরের স্বনির্ভর বাজারে প্রকাশ্যে দিবালোকে ছাত্র নেতা তপন, এল্টন, যুব নেতা পলাশ চাকমাসহ ৭ জনকে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এই পর্যন্ত এই সন্ত্রাসীদের কর্তৃক অর্ধশত ইউপিডিএফ ও সহযোগী সংগঠন নেতা-কর্মী, সমর্থক হত্যার শিকার হয়েছে। বেশ কয়েকটি ঘটনায় আদালতে মামলা করা হলেও আজও সেসব মামলা কোন অগ্রগতি হয়নি।। খুনী-সন্ত্রাসীরা প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে।

সমাবেশ থেকে বক্তারা, রাষ্ট্রীয় মদদে সৃষ্টি করা ঠ্যাঙারে বাহিনী ভেঙ্গে দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস, হত্যা-গুম-খুন-অপহরণের মত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বন্ধ করা, মিঠুন চাকমা’র হত্যাকাণ্ডসহ স্বনির্ভর হত্যাকাণ্ডের বিচার, সেনাশাসন অপারেশন উত্তরণ তুলে নিয়ে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
একই সাথে বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম সফরকালে সংঘটিত মানবাধিবার লঙ্ঘনের ঘটনা তদন্ত করা, ২০১৮ সালে স্বনির্ভর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নেয়ার জন্য জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, আগামী ১৬ – ১৯ জানুয়ারি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দের একটি দল খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলায় সফর করার কথা রয়েছে।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
সিএইচটি নিউজের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন