পাহাড়িদের উপর সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে সাজেকে কালো পতাকা মিছিল

বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪
১৯-২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ দীঘিনালা, খাগড়াছড়ি সদর ও রাঙামাটি শহরে সেনা-সেটলার কর্তৃক পাহাড়িদের উপর সাম্প্রদায়িক হামলা, দোকানপাট-ঘরবাড়ি-বৌদ্ধ মন্দিরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও গুলি করে হত্যা-জখম করার প্রতিবাদে বাঘাছড়ির সাজেকে কালো পতাকা মিছিল করা হয়েছে।
আজ শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪) সকালে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম, হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির উদ্যোগে সাজেকের উজোবাজারে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে এলাকার বিভিন্ন গ্রামের নারী-পুরুষ কালো পতাকা হাতে উজোবাজার প্রদক্ষিণ করে ইউপিডিএফ কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে।
সমাবেশে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের বাঘাইছড়ি কমিটির সহ সাধারণ সম্পাদক অর্চনা চাকমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ বাঘাইছড়ি উপজেলা শাখার সহ সভাপতি ভবান্তর চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের বাঘাইছড়ি উপজেলা সভাপতি বীর চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের বাঘাইছড়ি উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক পরান সোনা চাকমা ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব বাবু ধন চাকমা।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের রাষ্ট্রীয় বাহিনীর প্রত্যক্ষ মদদে বার বার পাহাড়িদের উপর সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটছে। ২০০৮ ও ২০১০ সালে সাজেকে দু’দফায় পাহাড়িদের উপর হামলা হয়েছিল। কিন্তু তার বিচার এখনো হয়নি। ফলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। আর রাষ্ট্রীয় বাহিনীর একটি অংশ এসব হামলায় প্রত্যক্ষভাবে সেটলারদের সহযোগিতা প্রদান করছে।
বক্তারা দীঘিনালায় হামলার পর খাগড়াছড়ি সদরের স্বনির্ভর এলাকায় প্রতিবাদকারী ছাত্র-জনতার ওপর সেনাবাহিনী সরাসরি গুলি করে দুই জনকে হত্যা ও আরো অনেককে গুরুতর আহত করেছে। এর মাধ্যমেই প্রমাণ হয় সেনাবাহিনীই হচ্ছে এসব সাম্প্রদায়িক হামলার মূল ইন্ধনদাতা। কাজেই, পার্বত্য চট্টগ্রামে এসব হামলা বন্ধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করতে হলে সেনাশাসন তুলে নিতে হবে এবং এ যাবত সাম্প্রদায়িক হামলায় জড়িত সেটলার এবং সেনা কর্মকর্তা ও সদস্যদের আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে।
বক্তারা বিক্ষুব্ধ জুম্ম ছাত্র-জনতার ডাকা ৭২ ঘন্টার অবরোধ কর্মসূচি সফল করতে এলাকার জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
তারা বলেন, আমরা অবগত হয়েছি আজকে সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে আসছেন। তাই আমরা আশা করি তারা সংঘটিত হামলার ঘটনাগুলো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করবেন।
বক্তারা অবিলম্বে দীঘিনালা, খাগড়াছড়ি সদর ও রাঙামাটিতে পাহাড়িদের উপর হামলায় জড়িতদের গ্রেফতারপূর্বক বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেটলার বাঙালিদের সমতলে সম্মানজনক পুনর্বাসন এবং সেনাশাসন প্রত্যাহার করে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানান।
বক্তারা সেনা-সেটলারদের হামলায় নিহত-আহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং জাতির অস্তিত্ব রক্ষার্থ সবাইকে লড়াই-সংগ্রামে এগিয়ে আসার আহ্বান করেন।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।