পাহাড়ে গ্রাফিতি অঙ্কনেও লাগছে সেনাবাহিনীর অনুমতি!

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০২৪
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে গত ৫ আগস্ট ২০২৪। এর পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা বৈষম্য ও নিপীড়নমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে দেশব্যাপী গ্রাফিতি অঙ্কন ও দেয়াল লিখন কর্মসূচি গ্রহণ করে। এই কর্মসূচির সাথে সংহতি জানিয়ে পাহাড়ের শিক্ষার্থীরাও নানা বিষয়ে গ্রাফিতি অঙ্কন শুরু করে।
কিন্তু সমতলে কোন প্রকার বাধা-বিপত্তি ছাড়া শিক্ষার্থীরা গ্রাফিতি অঙ্কন ও দেয়াল লিখন করতে পারলেও পাহাড়ে সেনাবাহিনীর নানা বাধার শিকার হচ্ছেন পাহাড়ি শিক্ষার্থীরা। কখনো হামলা-লাঠিচার্জ করা হচ্ছে, কখনো গ্রাফিতি মুছে ফেলা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, গ্রাফিতি আঁকার জন্য নিতে হচ্ছে সেনাবাহিনীর অনুমতি। কি বিষয়ে গ্রাফিতি আঁকবে সেসবও সেনাবাহিনীকে দেখাতে হচ্ছে।
গত ১০ আগস্ট খাগড়াছড়িতে কল্পনা চাকমাকে নিয়ে আঁকা গ্রাফিতি মুছে দেয়ার ঘটনা ঘটে। এরপর ১২ আগস্ট খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজে গ্রাফিতি অঙ্কনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর সেনাবাহিনী হামলা-লাঠিচার্জ করে ও এক শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করে। ১৩ আগস্ট রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে শিক্ষার্থীদের গ্রাফিতি আঁকতে বাধা দেয় সেটলার বাঙালিরা। রাঙামাটি জেলা সদরেও কল্পনা চাকমার গ্রাফিতি কালো রঙ দিয়ে মুছে দেয়া হয়।

খাগড়াছড়িতে মুছে দেয়া কল্পনা চাকমার গ্রাফিতি।

গতকাল (১৭ আগস্ট) একই ঘটনা ঘটে বান্দরবানের রুমায়। শিক্ষার্থীরা জানান, তারা গ্রাফিতি অঙ্কন করতে গেলে সেনাবাহিনী বাধা প্রদান করে। পরে সেনাবাহিনীর স্থানীয় রুমা বাজার পাড়া ক্যাম্প কমাণ্ডারের নিকট লিখিত আবেদনপত্র দিয়েই তাদের গ্রাফিতি অঙ্কন করতে হয়েছে। এতে কি কি বিষয়ে দেওয়ালে অঙ্কন বা লেখা হবে তা সহ কয়েকজন প্রতিনিধির নাম-মোবাইল নম্বরও আবেদনপত্রের পিছনে লিখে দিতে হয়েছে বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন।
এর আগে খাগড়াছড়িতেও সেনাবাহিনীর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে গ্রাফিতি অঙ্কন করতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।