পাহাড়ে নারী নেত্রী এন্টি চাকমাসহ তিন জনকে অপহরণের ঘটনায় গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের নিন্দা ও প্রতিবাদ
ঢাকা প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩
পাহাড়ে নারী নেত্রী হিল উইমেন্স ফেডারেশন কেন্দ্রীয় সদস্য ও খাগড়াছড়ি জেলা শাখার আহ্বায়ক এন্টি চাকমা এবং সাধারণ শিক্ষার্থী কর্নিয়া চাকমা ও নিশা চাকমাকে বিশেষ মহলের মদদপুষ্ট দুর্বৃত্ত কর্তৃক অপহরণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট।
আজ রবিবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩) সংবাদ মাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ২০১৮ সালের ১৮ মার্চ রাঙামাটি কুদুকছড়িতে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের দুই নেত্রী মন্টি চাকমা ও দয়া সোনা চাকমাকে অপহরণের বিচার না হওয়া ৫ বছর পর একই দুর্বৃত্তরা পুনরায় তিন নারীকে অপহরণ করেছে।

বিবৃতিতে নেতৃবন্দ আরো বলেন, গতকাল (২৩ সেপ্টেম্বর) দীঘিনালায় নারী নেত্রী এন্টি চাকমা এবং শিক্ষার্থী কর্নিয়া চাকমা ও নিশা চাকমাকে দুর্বৃত্তদের কর্তৃক অপহরণের ঘটনা প্রমাণ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম নারীরা কত অনিরাপদ। আমরা এর আগে দেখেছি এই দুর্বৃত্তরা কীরকমভাবে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার দেওয়ান পাড়ায় এক নারীকে আটক করে গণধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন করেছে।
তারা বলেন, ১৯৯৬ সালে ১২ জুন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা লে. ফেরদৌস গং কর্তৃক হিল উইমেন্স ফেডারেশনের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক কল্পনা চাকমাকে অপহরণ, ২০১৮ সালে মন্টি ও দয়াসোনা চাকমাকে অপহরণ এবং গতকাল এন্টি চাকমাসহ তিন জনকে অপহরণের ঘটনা একই সূত্রে গাঁথা। এটি রাষ্ট্রীয় জাতিগত নিপীড়নের অংশ।
পাহাড়ে ধর্ষণ-খুন-গুম-অপহরণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ছাত্র জোটের নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি পার্বত্য চট্টগ্রামে নারী ধর্ষণ, অপহরণ, খুন-গুমের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হল এসব ঘটনার সাথে জড়িতদের কাউকে গ্রেফতার ও বিচার করা হচ্ছে না। প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর কাপ্তাইয়ে সেনাবাহিনীর সদস্য কর্তৃক এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠলেও এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কোন আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। আমরা আশঙ্কাজনকভাবে এটা দেখছি যে, পাহাড়ে প্রত্যেকটি ঘটনায় প্রশাসন থেকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। উপরন্তু প্রশাসনের ছত্রছায়ায় এসব অপরাধ সংঘটিত করা হচ্ছে। ফলে পাহাড়ি জনগণের নিরাপত্তা এখন হুমকির মুখে পড়েছে।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ, পার্বত্য চট্টগ্রামে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর মদদে সন্ত্রাসী কর্তৃক অপহরণ, খুন, গুম, ধর্ষণসহ বিচার বহির্ভুত হত্যা বন্ধ করা, পাহাড়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং দীঘিনালায় অপহৃত নারী নেত্রী এন্টি চাকমাসহ ৩ জনকে অপহরণের ঘটনায় প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি রাগিব নাঈম, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি সাদেকুল ইসলাম সোহেল, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি সালমান সিদ্দিকী, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি ছায়েদুল হক নিশান, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মিতু সরকার, বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাওফিকা প্রিয়া এবং বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি অঙ্কন চাকমা।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
সিএইচটি নিউজের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন