বাঘাইছড়িতে কল্পনা অপহরণকারীদের দায়মুক্তির বিরুদ্ধে সমাবেশ, লে. ফেরদৌস গংদের প্রতীকী ফাঁসি প্রদান

0
  কল্পনা চাকমা’র অপহরণকারীদের দায়মুক্তির রায়ের বিরুদ্ধে সমাবেশের আয়োজন করে হিল উইমেন্স ফেডারেশন।

বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪

অপহৃত কল্পনা চাকমার নিজ উপজেলা বাঘাইছড়িতে তাঁর অপহরণকারীদের দায়মুক্তি দিয়ে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ ও চিহ্নিত অপহরণকারী লে. ফেরদৌস, সালেহ আহম্মেদ ও নুরুল হককে প্রতীকী ফাঁসি প্রদান কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (১১ জুন ২০২৪) হিল উইমেন্স ফেডারেশন, বাঘাইছড়ি উপজেলা শাখা এই কর্মসূচির আয়োজন করে। সমাবেশের আগে এক মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশের ব্যানার শ্লোগান ছিল “কল্পনা চাকমা অপহরণের ২৮ বছর : চিহ্নিত অপহরণকারীদের দায়মুক্তির রায় মানি না,  মানব না”।

সমাবেশের আগে মিছিল করা হয়।

হিল উইমেন্স ফেডারেশনের বাঘাইছড়ি উপজেলা শাখঅর সাংগঠনিক সম্পাদক অর্পনা চাকমার সভাপতিত্বে ও সদস্য সিদ্ধি চাকমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, ইউপিডিএফের বাঘাইছড়ি ইউনিটের সংগঠক আর্দশ চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রিতা চাকমা ও  গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের বাঘাইছড়ি উপজেলা সভাপতি বীরো চাকমা।

বক্তারা বলেন, সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি করে রেখেছে। যার প্রমাণ দীর্ঘ ২৮ বছরেও কল্পনার সন্ধান না পাওয়া এবং চিহ্নিত অপহরণকারীদের বিচার ও সাজা না দিয়ে আদালতের মাধ্যমে অপরাধীদের দায়মুক্তি দেয়া। সরকার যেহেতু অপহরাধীদের বিচার করেনি তাই আজকের জনতার আদালতে চিহ্নিত অপহরণকারী লে. ফেরদৌস গংদের প্রতীকী ফাঁসি দেওয়া হবে।

তারা আরো বলেন, কল্পনা চাকমা বাঘাইছড়ি এলাকার সন্তান। তিনি ছিলেন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। একজন প্রতিবাদী ও সংগ্রামী নারী। সরকারের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সোচ্চার থাকার কারণে সেনা কর্মকর্তা লে. ফেরদৌস গংরা তাকে অপহরণ করে গুম করেছে। এই এলাকার জনগণ তথা পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ কল্পনার চিহ্নিত অপহরণকারী লে. ফেরদৌস, ভিডিপি কমাণ্ডার সালেহ আহম্মেদ ও নুরুল হকের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক সাজা চায়।

বক্তারা, শাসকগোষ্ঠি পাহাড়িদের উপর অব্যাহতভাবে অন্যায় দমন-পীড়ন, নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে অভিযোগ করেন এবং বান্দরবানে বম জাতিসত্তার ওপর চলমান নিপীড়নের প্রতিবাদ জানান।

সমাবেশে জনতার আদালতের রায়ে কল্পনা চাকমার চিহ্নিত অপহরণকারী লে. ফেরদৌস, সালেহ আহম্মেদ ও নুরুল হকের ফাঁসি দণ্ডাদেশ ঘোষণা করা হলে উপস্থিত জনতা ঢোল বাজিয়ে তাদের কুশপুত্তলিকা রশিতে ঝুলিয়ে প্রতীকী ফাঁসি কার্যকর করেন।

ঠ্যাঙাড়ে সন্ত্রাসীদের বিভিন্ন হুমকি ও তীব্র গরমের মধ্যেও বিভিন্ন এলাকা থেকে ছাত্র-ছাত্রীসহ নারী-পুরুষ সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন। 



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More