ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার শর্তে সন্তু গ্রুপকে সেনাদের গুলি সরবরাহ

0
 ছবিটি প্রতীকী হিসেবে ব্যবহৃত। 

বিশেষ প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

জনস্বার্থ বিরোধী ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার শর্তে সেনাবাহিনীর সদস্যরা মাটিরাঙ্গা-পানছড়ি সীমান্তে অবস্থানরত জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের কাছে গুলি সরবরাহ করেছে। একটি বিশ্বস্ত গোপন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

গত ৩ মার্চ রাত দেড়টার দিকে মাটিরাঙ্গা জোন থেকে এক দল সেনা সদস্য তাইন্দং ইউনিয়নের বান্দরসিং পাড়ায় (ভগবান টিলার কাছে) জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র দলটির কাছে উক্ত গুলি হস্তান্তর করে।

সেনারা ৩টি গাড়িতে সেখানে যায়, তবে তাদের সাথে অন্য ২টি গাড়িতে বিজিবি সদস্য ছিল বলে সূত্রটি জানিয়েছে। সেনারা গুলিগুলো বহনের জন্য একটি কালো টিনটেড গ্লাসযুক্ত গাড়ি ব্যবহার করে।

লাম্বাছড়া নামক ”কিজিঙে” (দুটি পাহাড় যে রেখায় মিলিত হয় সেই স্থান) অপেক্ষমান সন্তু গ্রুপের সদস্যদের হাতে গুলিগুলো তুলে দেয়া হয়। সন্তু গ্রুপ ২০ হাজার গুলির চাহিদা দিলেও সেনারা প্রাথমিকভাবে ২ হাজার গুলি সরবরাহ করে, তবে এই শর্তে যে, সন্তু গ্রুপকে গুলিগুলো অবশ্যই ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত জিইয়ে রাখার জন্য ব্যবহার করতে হবে এবং “কাজ” দেখাতে হবে।

”কাজ” দেখাতে পারলে পরে আরও গুলি দেয়া হবে বলে সেনারা সন্তু গ্রুপকে আশ্বস্ত করে। সেনারা গুলিগুলো হস্তান্তর করার পর ভগবান টিলা বিজিবি ক্যাম্পে যায় এবং পরে ভোর ৩-৪টার দিকে রূপসেন পাড়া হয়ে পানছড়িতে ফিরে যায়।

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের আগে সন্তু লারমা রাঙ্গামাটি ব্রিগেড অফিসে সেনা কর্মকর্তাদের সাথে কয়েক দফা মিটিঙে মিলিত হয়েছিলেন। সেসব মিটিঙে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত চালিয়ে নিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও জেএসএস সন্তু গ্রুপের মধ্যে যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সন্তু গ্রুপের কাছে গুলি হস্তান্তর বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে জেএসএসের সাবেক একজন বর্ষীয়ান নেতা নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম গোপন রাখার শর্তে বলেন, সন্তু লারমার চারিত্র্যিক বৈশিষ্ট্য হলো এমন যে, তিনি আঞ্চলিক পরিষদে থাকার জন্য সেনাবাহিনীর সকল শর্ত মেনে নেবেন।

তিনি আর্মিদের সাথে আঁতাত বহু আগেই করেছেন। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। তবে আর্মিদের কাছ থেকে গুলি নেয়ার মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে, সন্তু গ্রুপ আসলে খুব দুর্বল। আর্মিদের সমর্থন ছাড়া তাদের টিকে থাকার সামর্থ্য নেই।

এ বিষয়ে ইউপিডিএফের মন্তব্য জানতে চাইলে তাদের এক নেতা অপু ত্রিপুরা সিএইচটি নিউজকে বলেন, “সন্তু গ্রুপ ক্লিনিক্যালি ডেড। লাইফ সাপোর্ট দিয়ে অর্থাৎ কিছু গোলাবারুদ সরবরাহ করে তাকে আর বাঁচানো যাবে না।”



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More