রাউজানে পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনিতে হত্যা, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

0

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
বুধবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩

রাউজানে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে উমংসিং মারমা নামে এক আসামিকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়। ছবিটি ভিডিও থেকে নেওয়া।

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার কদলপুর এলাকায় ‘অপহরণ ও হত্যা’ মামলার আসামি উমংসিং মারমা (২৬) নামে একজনকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

গত সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার সময় গণপিটুনিতে আসামি হত্যার এই ঘটনাটি ঘটে।

গণপিটুনিতে নিহত উমংসিং মারমা রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া ইউনিয়নের রঙ্গি পাড়া গ্রামের উথোয়াইমং মারমার ছেলে বলে জানা গেছে।

বিভিন্ন মিডিয়ার সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ আগস্ট রাউজান উপজেলার ৮নম্বর কদলপুর ইউনিয়নের পঞ্চপাড়া গ্রামের মো. শফিকের ছেলে শিবলি সাদিক হৃদয় (২০) অপহরণের শিকার হয়। উক্ত অপহরণ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় পুলিশ চট্টগ্রাম নগরী থেকে উমংসিং মারমাসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে। জানা গেছে, শিবলি সাদিক হৃদয় ও গণপিটুনিতে নিহত উমংসিং মারমাসহ গ্রেফতারকৃতরা কদলপুরের একটি মুরগি খামারে চাকরি করতেন।

পুলিশ উমংসিং মারমার স্বীকারোক্তি মোতাবেক সোমবার সকালে মরদেহ উদ্ধার অভিযানে যায়। তারা আসামির দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাউজান সীমান্তবর্তী রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া ইউনয়নের দুর্গম বালুটিলা এলাকা থেকে অপহৃত শিবলি সাদিকের খন্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে দুটি পুলিশ ভ্যানে করে বেলা ১১টার দিকে আসামি উমংসিং মারমারসহ উদ্ধারকৃত দেহাবশেষ নিয়ে রাউজান থানায় ফিরছিলেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) ২০ থেকে ৩০ জন পুলিশ সদস্য। তারা কদলপুরের পঞ্চপাড়া এলাকায় পৌঁছলে উত্তেজিত জনতা দুটি স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করেন। এরপর গাড়ি ভাঙচুর করে আসামি উমংসিং মারমাকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেন তারা।  

অবশ্য ওই দিন রাতে ‘আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যা, পুলিশের কাজে বাধা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায়’ পুলিশ অজ্ঞাতনামা আসামি করে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে বলে জানা গেছে। যদিও মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামির সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।

এ বিষয়ে রাউজান থানার ওসি আবদুল্লাহ আল হারুন প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘মামলায় আসামির সংখ্যা এবং নাম রাখা হয়নি। দুটি মামলার আসামিদের সবাই অজ্ঞাতনামা। ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে গ্রেফতার অভিযান চালানো হবে। আসামি ছিনিয়ে নিয়ে হত্যার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, কয়েক হাজার নারী-পুরুষ মিলে তাঁদের আটকে দেন। তখন কয়েকটি ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়’।

কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে উত্তেজিত জনতা বিভিন্ন গালিগালাজ করে ‘মেরে ফেল, মেরে ফেল’ বলে ইচ্ছেমত ওই ব্যক্তিকে (আসামি) মারধর করতে দেখা গেলেও, পুলিশের কোন উপস্থিতি বা জনতাকে নিবৃত্ত করতে পুলিশের কোন ভূমিকা লক্ষ্য করা যায়নি।

এ ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, আসামি উমংসিং মারমা অপরাধী সাব্যস্ত হলে আদালতের মাধ্যমে তার বিচার ও শাস্তি হবে। কিন্তু পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনিতে হত্যা করা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি একটি বিচারবহির্ভুত হত্যা।

পুলিশের দায়িত্ব হলো যে কোনভাবে আসামিকে রক্ষা করে আদালতের মাধ্যমে তার বিচার-সাজা নিশ্চিত করা, তারা আসামিকে কোনভাবেই উত্তেজিত জনতার হাতে তুলে দিতে পারে না। কিন্তু রাউজানের ঘটনায় দেখা গেছে পুলিশ উত্তেজিত জনতাকে নিবৃত্ত না করে নিজেদের রক্ষায় আসামি উমংসিং মারমাকে ছিনিয়ে নেয়ার সুযোগ দিয়েছে। কাজেই, পুলিশ কোনভাবেই এ ঘটনার দায় এড়াতে পারে না। পুলিশের এমন নির্লিপ্ত ভূমিকা নিয়ে এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এদিকে, উক্ত গণপিটুনির ঘটনায় পুলিশ মামলা দায়ের করলেও এখনো কোন আসামিকে গ্রেফতারের খবর পাওয়া যায়নি।

* সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গণপিটুনির ভিডিও (সংগৃহিত):


সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।


সিএইচটি নিউজের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More