লংগদুতে পাহাড়িদের উপর সাম্প্রদায়িক হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইউপিডিএফ
রাঙামাটি : ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর রাঙামাটি জেলা ইউনিটের প্রধান সংগঠক শান্তিদেব চাকমা আজ শুক্রবার (২ জুন) সংবাদ মাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে রাঙামাটির লংগদুতে পাহাড়িদের উপর সাম্প্রদায়িক হামলা ও তিন শতাধিক ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিবৃতিতে তিনি এ হামলাকে পরিকল্পিত আখ্যায়িত করে বলেছেন, অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করার মাধ্যমে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।
বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত ০১ জুন ২০১৭ খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের ৪ মাইল নামক এলাকায় লংগদু নিবাসী ও স্থানীয় যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম নয়ন নামে এক মটর সাইকেল চালকের লাশ পাওয়া যায়। এই হত্যার ঘটনায় কে বা কারা জড়িত তা পরিষ্কার না হলেও এই লাশ পাওয়ার ঘটনাকে পুঁজি করে সরকারী দল আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠন যুবলীগ স্থানীয় সেটলারদের জড়ো করে লংগদু উপজেলা সদরে আজ শুক্রবার (২ জুন) সকালে প্রকাশ্যে উস্কানীমূলক মিছিল বের করে। উক্ত মিছিল থেকে সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক শ্লোগান দেওয়া হলেও প্রশাসন ও সেনাবাহিনী মিছিল থামানোর কোনো চেষ্টাই করেনি। উপরন্তু লংগদু উপজেলার সেনা-প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে উক্ত উস্কানীমূলক সমাবেশে বক্তব্য প্রদান করেছেন বলে আমরা জেনেছি।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সেটলারদের এই মিছিল ও সমাবেশের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টির কিছুক্ষণ পরে সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় লংগদু উপজেলা সদরের পাহাড়ি অধ্যুষিত দোকানপাট ও বিভিন্ন গ্রামের ঘরবাড়িতে নির্বিচারে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়। এতে পাহাড়িদের কমপক্ষে ৩ শতাধিক ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে হামলাকারীরা। ফলে পাহাড়িরা প্রাণের ভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে জঙ্গলে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় আতঙ্কজনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
বিবৃতিতে ইউপিডিএফ নেতা বলেন, সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে পাহাড়ি গ্রামে এই সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনাকে সাদাচোখে সাধারণ একটি সাম্প্রদায়িক হামলা হিসেবে বিবচনা করার কোন সুযোগ নেই। মূলত, পার্বত্য চট্টগ্রামে সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প সৃষ্টি করার মাধ্যমে জুম্ম জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে নস্যাৎ করা ও তাদেরকে নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ করার লক্ষ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি এই হামলার প্রতিবাদে দেশ-বিদেশের সচেতন ও সাধারণ জনগণকে সোচ্চার হবার জন্য আহ্বান জানান।
তিনি বিবৃতিতে পাহাড়ে সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টির মূল কারণ হিসেবে সেনাবাহিনীর সাম্প্রদায়িক মনোভাব ও পার্বত্য চট্টগ্রামে জারি থাকা সেনাশাসন অপারেশন উত্তরণকে দায়ি করেন। তিনি বলেন, জুম্ম ধ্বংসের নীলনকশা হিসেবেই পার্বত্য চট্টগ্রামে সেটলারদের সহায়তা করার জন্য সেনা শাসন জারি রাখা হয়েছে।
বিবৃতিতে তিনি অবিলম্বে লংগদুতে সাম্প্রদায়িক হামলার সুষ্ঠু বিচার বিভাগীয় তদন্ত, ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তা বিধান করা এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
আরও পড়ুন:
>> লংগদুতে পাহাড়িদের ৩ শতাধিক ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ৭০ বছরের বৃদ্ধাকে পুড়িয়ে হত্যা
>> লংগদুতে গতকাল সন্ধ্যা থেকেই আশঙ্কা ছিল একটা বিপদ হতে পারে, ঠিক তাই হয়েছে– ইমতিয়াজ মাহমুদ
——————-
সিএইচটি নিউজ ডটকম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।