লংগদুতে পাহাড়িদের বাড়ি-দোকানপাটে অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে ঢাকায় পিসিপি-যুব ফোরামের বিক্ষোভ
ঢাকা : রাঙামাটির লংগদুতে সেনা সহযোগিতায় সেটলার কর্তৃক ৩ শতাধিক পাহাড়ি বাড়ি-দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের প্রতিবাদে ঢাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ(পিসিপি) ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম।
শুক্রবার (২ জুন) বিকাল ৪ টায় প্রেসক্লাবে সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে পিসিপি’র কেন্দ্রীয় সভাপতি বিনয়ন চাকমার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ইউপিডিএফ সংগঠক মাইকেল চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক বরুন চাকমা, পিসিপি’র ঢাকা শাখার সভাপতি রোনাল চাকমা, সেটলারদের অগ্নিসংযোগে নিহত বৃদ্ধা গুরোবালা চাকমার নাতনি বিকল্প চাকমা। এতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন লেখক শিবিরের সভাপতি হাসিবুর রহমান ও জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের ঢাকা জেলার সাধারণ সম্পাদক হেমন্ত দাশ। সমাবেশ পরিচালনা করেন পিসিপি’র সাধারণ সম্পাদক অনিল চাকমা।
সমাবেশে লেখক শিবিরের সভাপতি হাসিবুর রহমান বলেন, দেশের কত মৃতদেহ পাওয়া যায় কিন্তু তা নিয়ে সাম্প্রদায়িক হামলা চালাতে দেখা যায় না। কিন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে সেটলারদের লাশ পাওয়া গেলেই সাম্প্রদায়িক হামলা ঘটে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় মদদে এ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। জমি বেদখলের উদ্দেশ্যে হামলা-অগ্নিসংযোগ করা হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ইউপিডিএফ সংগঠক মাইকেল চাকমা অভিযোগ করে বলেন, লাশ পাওয়াকে কেন্দ্র করে সেটলাররা আজ সকালে মিছিল করে পাহাড়ি ৩ শতাধিক বাড়ি-দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়। এ সময় সেটলারদের স্কট দিয়ে সেনারা অগ্নিসংযোগে সহযোগিতা করে। তিনি বলেন, এ অগ্নিসংযোগের ঘটনা পূর্বপরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে।
সেটলাদের অগ্নিসংযোগে নিহত বৃদ্ধার গুরোবালা চাকমার নাতনি বিকল্প চাকমা বলেন, সেটলাররা আমাদের গ্রামের অন্যান্য বাড়ির সাথে আমাদের বাড়িও আজ পুড়িয়ে দিয়েছে। বাড়ির সাথে আমার নানিকেও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, একদিকে শোক অন্যদিকে বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়াতে সবকিছু হারিয়ে আমাদের পরিবার এখন চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছে। তিনি তার নানির হত্যাকারী ও অগ্নিসংযোগকারী সেটলারদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
জাতীয়মুক্তি কাউন্সিলের ঢাকা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হেমন্ত দাশ বলেন, ’৭১ সালে পাকিস্তানী জাতিগত নিপীড়নের মতো বর্তমানে পাহাড়েও জাতিগত নিপীড়ন চলছে।তিনি এ জাতিগত নিপীড়ণের বিরুদ্ধে পাহাড় ও সমতলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।
পিসিপি’র সভাপতি বিনয়ন চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে কায়েমী স্বার্থান্বেষী সেনা-সেটলারদের অব্যাহত ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সেটলাররা এ অগ্নিসংযোগ করেছে। সেনা-প্রশাসনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতার কারণে সেটলাররা এত বড় তাণ্ডবলীলা সংঘটিত করতে পেরেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সমাবেশে বক্তারা এ হামলার সাথে জড়িত সেটলার ও তাদের সহযোগিতাকারী সেনাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সমাবেশ শেষে মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি পল্টন মোড় ঘুরে আবার প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়।
——————
সিএইচটি নিউজ ডটকম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।