লংগদুর কাট্টলী এবং বন্দুকভাঙা এলাকায় সেনা অভিযানে জনমনে আতঙ্ক

0


লংগদু প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ

শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬

রাঙামাটির লংগদু উপজেলার কাট্টলী এলাকায় এবং রাঙামাটি সদর উপজেলার বন্দুকভাঙা ইউনিয়নের অন্তর্গত বামে ত্রিপুরাছড়া এলাকায় সেনাবাহিনীর অভিযানের কারণে স্থানীয় জনমনে আতঙ্ক ও নানা আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। 

গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি ২০২৬) দিবাগত রাত ১:০০টা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত লংগদুর মাইনী জোন ও নান্যাচর জোনের সেনারা এই অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন লংগদুর মাইনী জোনের কমান্ডার লে. কর্নেল মশিউর রহমান ও নান্যাচর জোন থেকে ক্যাপ্টেন আশিক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দিবাগত মধ্য রাত ১:০০টার সময় লংগদুর মাইনী জোন থেকে জোন কমাণ্ডার লে. কর্নেল মশিউর রহমানের নেতৃত্বে ১৫০ জনের অধিক সেনা সদস্য ছোট কাট্টলী, বড় কাট্টলী, ডুলুছড়ি ও বড় মৌনের আম বাগান এলাকায় যায়। অপরদিকে নান্যাচর জোন থেকে ক্যাপ্টেন আশিক-এর নেতৃত্বে ৩০ জনের একদল সেনা সদস্য বামে ত্রিপুরাছড়া এলাকায় যায়। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর ১:০০টা পর্যন্ত সেনারা উক্ত এলাকাগুলোতে অবস্থান করে অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযান শেষে উভয় জোনের সেনারা মিলিত হয়ে একসাথে বড় কাট্টলীর ডলুছড়ি হয়ে বিকালের দিকে লংগদুর মাইনী জোনে চলে যায় বলে জানা গেছে।

এছাড়াও গতকাল (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত দুটি ইঞ্জিনচালিত বোটে করে একদল সেনা সদস্য লংগদুর মধ্য হাড়িকাবা এলাকায় অবস্থান করে বলে স্থানীয়রা জানান।

সেনাবাহিনীর এমন অভিযানের কারণে এলাকার জনমনে আতঙ্ক ও নানা আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে, অভিযান শেষে চলে যাওয়ার পর সেনাবাহিনী “ইউপিডিএফের গোপন আস্তানা” উল্লেখ করে একটি ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা ও বিভিন্ন জিনিসপত্র উদ্ধার সম্বলিত কয়েকটি ছবিসহ একটি রিপোর্ট তাদের নিয়ন্ত্রিত সোস্যাল মিডিয়া ও নিউজ পোর্টালে প্রকাশ করে।

তাদের প্রচারিত একটি ছবিতে উদ্ধার করা জিনিসপত্রের মধ্যে স্পষ্টভাবে পবিত্র ভান্তে নামে এক বৌদ্ধ ভিক্ষুর ধ্যান-সাধনা কুটিরে ব্যবহৃত একটি সাইনবোর্ডও দেখা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পবিত্র ভান্তে ছোটখাটো কুটির বানিয়ে লংগদু এলাকার বিভিন্ন স্থানে বনে জঙ্গলে ঘুরে ঘুরে ধ্যান-সাধনা করে থাকেন এবং তিনি এলাকার সকলের কাছে খুবই পরিচিত একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু।

আর সেনাদের কথিত “উদ্ধার” করা অন্য জিনিসপত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে, পাহাড়িদের বহুল ব্যবহৃত বাঁশের তৈরি “দাবা” (হুক্কা)সহ ছাতা, পানির বোতল, কাপড় ইত্যাদি।

অভিযান শেষে সেনাবাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রিত সোস্যাল মিডিয়া ও নিউজ পোর্টালে প্রকাশ করা ছবির মধ্যে এটি একটি। এই ছবিতে স্পষ্টভাবে শ্রীমৎ পবিত্র ভান্তের (বৌদ্ধ ভিক্ষু) ধ্যান-সাধনার জন্য নির্মিত কুটিরে ব্যবহৃত সাইনবোর্ড (গোল চিহ্নিত) দেখা যাচ্ছে।

এই ছবির মাধ্যমে বুঝা যায়, যে ঘরটি তারা পুড়িয়ে দিয়েছে বলে দাবি করেছে উক্ত জিনিসপত্রগুলো নিশ্চয় সেখান থেকেই তারা পেয়েছে। ফলে ঘরটি যে পবিত্র ভান্তের ধ্যান-সাধনার জন্য তৈরি করা পরিত্যক্ত কুটির- তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে এসে প্রমোশন লাভের আশায় সেনা কর্মকর্তারা এই অনৈতিক কাণ্ডটি করেছেন বলে স্থানীয়রা মন্তব্য করেছেন।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More