লামায় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের শ্মশান ও বসতভিটা দখল করে রিসোর্ট নির্মাণের অভিযোগ

0

লামা (বান্দরবান), সিএইচটি নিউজ
শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বান্দরবানের লামা উপজেলার লামা সদর ইউনিয়নের মিরিঞ্জা বাগান পাড়ায় সাবেক মেয়র ও আওয়ামীলীগ নেতা মো. জহিরুল ইসলাম কর্তৃক ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের শ্মশান ও বসতভিটা জবরদখল করে রিসোর্ট নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) লামা উপজেলার মিরিঞ্জা বাগান পাড়ায় ৬০ ত্রিপুরা পরিবারের ব্যবহৃত শ্মশান ও বসতভিটার জায়গা দখলের উদ্দেশ্যে মো. জহিরুল ইসলাম এর নেতৃত্বে একদল বহিরাগত লোক সেখানে গিয়ে জায়গা পরিষ্কার করার চেষ্টা করে। পরে স্থানীয় ত্রিপুরা পাড়াবাসীরা জানতে পেরে সেখানে গিয়ে বেদখলের চেষ্টাকারীদের থামানোর চেষ্টা করে। এতে পাড়াবাসী ও দখলদারদের মধ্যে তীব্র বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয়। এ সময় পুলিশ ও স্থানীয় সাংবাদিকরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তা পাড়াবাসীদের উদ্দেশ্যে জায়গাটি নিয়ে মামলা থাকার কথা বলে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। ‘দলিল যার জমি তার’ এমন কথাও তাকে বলতে শোনা গেছে।

পাড়াবাসীদের দাবি, আশির দশক থেকে তারা উক্ত এলাকায় বসতি গড়ে তুলে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু মাঝে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জহিরুল ইসলাম গংরা তাদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে অনেক পরিবারকে সেখান থেকে উচ্ছেদ করেছে। 

জানা যায়, ২০১১ সালের দিকে মিরিঞ্জা বাগান পাড়ায় ৩ ভাই হালিরাম ত্রিপুরা, মালিরাম ত্রিপুরা ও পুণরাম ত্রিপুরা মিলে সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা মো: জহিরুল ইসলামের নিকট ২ একর জমি প্রতি একরে ১১ হাজার টাকা করে বিক্রয় করে। পরে ২০১৩ সালে জহিরুল ইসলাম পাড়াবাসীদের পুরো জায়গাটি দখলের চেষ্টা করে এবং তার নামে দখলকৃত জায়গাটি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোস্তফা জামানের কাছে বিক্রয় করেন।

পরবর্তীতে নিরঞ্জয় ত্রিপুরা, রায়চন্দ্র ত্রিপুরা, অনিক ত্রিপুরা, বীর বাহাদুর ত্রিপুরা এই চারজনের বিরুদ্ধে দখলদার অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোস্তফা জামান মামলা দায়ের করেন।

বর্তমানে উক্ত এলাকায় দখলদারদের কর্তৃক পাড়াবাসীদের শ্মশানভূমি দখল করে একটি রিসোর্ট নির্মাণসহ নানাভাবে ভূমি বেদখলের পায়ঁতারা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে দরিদ্র ত্রিপুরা পাড়াবাসীরা অসহায় অবস্থায় দিনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More