লামায় মামলার ওয়ারেন্ট’র কথা বলে রিংরং ম্রোকে তুলে নিয়ে যায় সাদা পোশাকধারী একদল লোক

গতকাল (২২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রিংরং ম্রোকে তুলে নিয়ে যায় সাদা পোশাকধারী একদল লোক।
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া।
বান্দরবান প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
বান্দরবানের লামার রেংয়েন ম্রো পাড়া এলাকার একটি দোকান থেকে গতকাল (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫) সন্ধ্যায় মামলার ওয়ারেন্ট ইস্যুর কথা বলে রিংরং ম্রোকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় সাদা পোশাকধারী একদল লোক। তাকে কোথায় নেওয়া হয়েছে তা জানা যায়নি।
ভুক্তভোগী রিংরং ম্রো লামা সরইয়ে ভূমি রক্ষা আন্দোলনের একজন সংগঠক বলে জানা গেছে।
রিংরং ম্রোকে ধরে নেয়ার সময় ধারণ করা একটি ভিডিও পাওয়া যায়। এতে হাতকড়া পরানো অবস্থায় সাদা পোশাকধারী লোকদের উদ্দেশ্যে রিংরং ম্রোকে বলতে শোনা যায়, ‘যে মানুষ কিছু করে নাই, সে মানুষকে টানাটানি করছেন কেন? তখন সাদা পোশাকধারীরা তাকে বলেন, “তোমার নামে কোর্ট ওয়ারেন্ট জারি করেছে”। এরপর রিংরং ম্রোকে বলতে শোনা যায়, “ওয়ারেন্ট হোক, যাই হোক এটা কী বিষয়ে তা আমাকে তো জানাতে হবে”। তখন সাদা পোশাকধারী আরেকজনকে বলতে শোনা যায় “তোমার মামলা নম্বর, ওয়ারেন্ট সব দেখাবো আমরা”।
এ সময় রিংরং ম্রোকে আরো বলতে শোনা যায়, “আমি কি কারোর কোন ক্ষতি করেছি, নাকি চুরি করেছি, কী বিষয়’? পরে তাকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায় ভিডিওতে।
সাদা পোশাকধারীরা কারা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা বলছেন, তারা কেয়াজু পাড়া পুলিশ ফাঁড়ির সদস্য।
কিন্তু বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশ অনুসারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কাউকে সাদা পোশাকে আটক বা গ্রেফতার করতে পারে না। তাই রিংরং ম্রোকে এভাবে সাদাপোশাকে জোরপূর্বক তুলে নেয়ার ঘটনায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৩ সালের ১ মার্চ পুলিশ ভূমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটির অন্যতম সংগঠক মথি ত্রিপুরাকে আটক করেছিল। এরপর একই বছর ৩০ মার্চ ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলায় আদালতে জামিন চাইতে গেলে আদালত লামা সরই ভূমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব ও লাংকম ম্রো পাড়ার কার্বারি লাংকম ম্রো’কে কারাগারে পাঠিয়েছিল। পরে উভয়ে তারা জামিনে মুক্তি লাভ করেন।
প্রসঙ্গত, লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ ২০২২ সালের ৯ এপ্রিল থেকে প্রশাসনের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সহযোগীতায় রেংয়েন ম্রো কারবারি পাড়া, লাংকম ম্রো কার্বারি পাড়া, ও জয়চন্দ্র ত্রিপুরা কারবারি পাড়ায় ৪০০ একর জুমভূমি জবরদখল করার ষড়ন্ত্র চালিয়ে আসছে। এ লক্ষ্যে এ পর্যন্ত কোম্পানিটির লেলিয়ে দেয়া লোকজন কর্তৃক ম্রো-ত্রিপুরা পাড়াবাসীদের জুম ভুমি পুড়িয়ে দেয়া, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া, কলাবাগান-সবজি খেত ধ্বংস করে দেয়া, পানির উৎস ঝিরিতে বিষ প্রয়োগ, বৌদ্ধ বিহারে হামলা-ভাঙচুর, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি, আটক ইত্যাদি ঘটনা সংঘটিত করে আসছে।
গতবছর ১ জানুয়ারি দিবাগত মধ্য রাতে রাবার কোম্পানির লেলিয়ে দেয়া লোকজন কর্তৃক ম্রো পাড়াবাসীদের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এরপর জাতীয় মানবাধিকার কমিশন দু’দফায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এছাড়া এ ঘটনা তদন্তে তৎসময়ে সংসদীয় একটি প্রতিনিধিদলও ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিল। কিন্তু ম্রো-ত্রিপুরা পাড়াবাসীদের এখনো কোন সুরক্ষা মিলেনি।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।