শহীদ রুপন ও গুমের শিকার সমর-সুকেশ-মনোতোষের স্মরণে চবিতে আলোচনা সভা ও প্রদীপ প্রজ্বলন

0

চবি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০২৪

শহীদ রূপন চাকমার আত্মবলিদান ও সমর বিজয়-সুকেশ-মনোতোষ গুম হওয়ার ২৮তম বার্ষিকীতে তাদের স্মরণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) আলোচনা সভা ও প্রদীপ প্রজ্বলন করেছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, চবি শাখা।

আজ বৃহস্পতিবার (২৭ জুন ২০২৪) সন্ধ্যা ৭ টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২নং গেইট বাজারে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। 

আলোচনা সভা শুরুতে শহীদদের সম্মানে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

পিসিপি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি রোনাল চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন চবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সুদর্শন চাকমা।

আলোচনা সভায় পিসিপি চবি শাখার সভাপতি রোনাল চাকমা বলেন, ১৯৯৬ সালের ১২ জুন সেনা কর্মকর্তা লে. ফেরদৌস গং কর্তৃক কল্পনা চাকমাকে অপহরণের প্রতিবাদে ও তাকে উদ্ধারের দাবিতে ১৯৯৬ সালের ২৭ জুন বাঘাইছড়িতে সড়ক ও নৌপথ অবরোধ পালন করতে গিয়ে পুলিশ-সেটলারদের হামলা প্রতিরোধকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে বীরদর্পে আত্মবলিদান দিয়েছেন শহীদ রূপন চাকমা। একই দিন সেটলারদের আক্রমনের শিকার হয়ে গুমের শিকার হন সমর বিজয়, সুকেশ ও মনোতোষ চাকমা, যাদের কোন খোঁজ আজও পাওয়া যায়নি। রাষ্ট্র এখনো তাদের খুনিদের ধরতে পারেনি এবং এইসব গুম ও হত্যার বিচার করা হয়নি। যার কারণে পাহাড়ে এখনো বিক্ষিপ্ত বিচ্ছিন্নভাবে গনহত্যা, গুমের শিকার হতে হচ্ছে পাহাড়ের জনগণকে।  রাষ্ট্র কল্পনা চাকমার সঠিক হদিস দিতে পারেনি, উপরন্তু দীর্ঘ ২৮ বছর কল্পনা অপহরণের মামলায় বার বার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করে সর্বশেষ এই মামলাকে খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের আলোচিত এই মামলাকে খারিজ করার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের নিপীড়ত জনগণ অনিরাপদ সেটি আবারো রাষ্ট্র জানান দিয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন,পাহাড়ে শুধুমাত্র কল্পনা চাকমার মতো নারীরা না বরং পাহাড়ের কেউই নিরাপদ নয়।শাসকগোষ্ঠী বিভিন্নভাবে নির্যাতন, নিপীড়ন,হেনস্তা করে পাহাড়ের সংখ্যালঘু জাতিসত্তাদের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে।

আলোচন সভা থেকে তিনি শহীদ রূপন হত্যাকারীদের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং গুম হওয়া ব্যক্তি সমর বিজয়, সুকেশ, মনতোষের সন্ধানসহ অবিলম্বে কল্পনা চাকমা চিহ্নিত অপহরণকারী লে. ফেরদৌস গংদের বিচারের দাবি জানান।

আলোচনা সভা শেষে উপস্থিত সকলে অস্থায়ী শহীদ বেদীতে মোমবাতি প্রজ্বলন করেন এবং আজকের দিনে অধিকার আদায়ে আত্মবলিদানের শিকার সকলকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয়।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More