সরকারি তিতুমীর কলেজের এক ছাত্রীকে হল থেকে বের করে দেয়ার ঘটনায় গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ
ঢাকা প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
শনিবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৩

গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের সমন্বয়ক ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র জোটের সভাপতি সালমান সিদ্দিকী এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী খাদিজা আক্তার কলি সিট বাণিজ্যের একজন ভুক্তভোগী হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ঘটনার বিবরণে আমরা জেনেছি যে, গত ৪ জানুয়ারি, ২০২৩ রাত পৌনে ১২ টার সময়ে তিতুমীর কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী খাদিজা আক্তার কলিকে বনানী সিরাজি হল থেকে হল প্রভোস্ট বিনা নোটিশে হলছাড়ার নির্দেশ দেন। এরপর গত ১১ জানুয়ারি, ২০২৩ তারিখে খাদিজা হলে নিজের জিনিসপত্র আনার সময় দেখেন যে, তার সিটে আরেকজন শিক্ষার্থীকে থাকতে দেওয়া হয়েছে। হলে খাদিজার ব্যবহৃত জিনিসপত্রকে একস্থানে জড়ো করে রাখা হয়েছে। খাদিজা হলে তার সিট ফিরে পাবার বিষয়ে প্রভোস্টের সাথে কথা বলতে গেলে প্রভোস্ট তাকে কিছুদিন বাসায় থাকতে বলেন এবং জানান যে ‘একজন স্টুডেন্টকে নিয়ে আমার ভাবার এত সময় নেই’।
খাদিজার মত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হলে বসবাসরত শিক্ষার্থীরা এরকম দিনের পর দিন সিট বাণিজ্যের শিকার হয়। শুধু সিট বাণিজ্যই নয়, যেসব নারী শিক্ষার্থীরা হলে থাকেন তারা নানাভাবে বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হয়ে থাকে। আমরা দেখে এসেছি এর আগেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল কর্তৃপক্ষ বিবাহিত এবং গর্ভবতী নারীদেরকে হলে থাকতে দেবে না বলে লৈঙ্গিক বৈষম্যমূলক আদেশ জারি করে। কয়েকদিন আগে সংবাদপত্রে ঐতিহ্যবাহী ইডেন কলেজের মেয়েরা কিভাবে সিট বাণিজ্যের সাথে সাথে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে সে কথাও জনগণের সামনে উন্মোচিত হয়। দেশের প্রতিটি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হলের মেয়েদের জন্য লিখিতভাবে সান্ধ্য আইন জারি থাকে এবং নারী শিক্ষার্থীদেরকে সেই সান্ধ্য আদেশ মেনে চলার জন্য হল কর্তৃপক্ষ বাধ্য করে। একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পুরুষ শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে হলে আসা যাওয়া এবং অবস্থানের স্বাধীনতা থাকলেও, সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নারী শিক্ষার্থীকে সেই স্বাধীনতা দেওয়া হয় না। এরপরেও বিশেষ কোন কারণে কোন নারী শিক্ষার্থী ‘সময়মতো’ হলে না আসতে পারলে, কর্তৃপক্ষ তাকে খারাপ মেয়ে হিসেবে প্রতিপন্ন করেই কেবল ক্ষান্ত হয় না, সেই শিক্ষার্থীর অভিভাবককেও অপমান করে।
নিজেদের শিক্ষা জীবনকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিতে চায় না বলেই হলনিবাসী নারী শিক্ষার্থীরা নিয়মিতভাবে তাদের সাথে হওয়া এই অন্যায়গুলো মেনে নিতে বাধ্য হয়। কিন্তু তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী খাদিজা সাহস করে মুখ খুলেছে বলে আমরা দেখতে পারছি, একজন হল প্রভোস্ট যার কিনা নারী শিক্ষার্থীদেরকে নিরাপত্তা দেওয়ার কথা, তিনি সেই নিরাপত্তা দেবার বদলে রাতের অন্ধকারে বিনা নোটিশে একজন মেয়েকে হলছাড়া করেছেন। খাদিজা এক বছরের পুরো টাকা দিয়ে হলে উঠার পরেও কোন নিয়মের তোয়াক্কা না করে প্রভোস্ট তার হলের সিটে অন্যায়ভাবে আরেকজন শিক্ষার্থীকে রাখছে। যাতে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, সিট বাণিজ্যের সাথে প্রভোস্ট নিজেই জড়িত। কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে তিনি তার লাগামছাড়া ক্ষমতা প্রয়োগ করে খাদিজাকে রাতের অন্ধকারে হল থেকে বের করে দিয়েছেন।
আমরা মনে করি প্রভোস্টের এই লাগামছাড়া ক্ষমতার উৎস বর্তমান আওয়ামী সরকার ব্যবস্থা। বিগত প্রায় এক যুগ ধরে অগণতান্ত্রিক উপায়ে আওয়ামী শাসনামল টিকিয়ে রাখার এই সময়ে শুধু তিতুমীর সরকারী কলেজের প্রভোস্ট নন, বরং সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের বল্গাহীন ক্ষমতা চর্চার ভয়াবহ নজির দেখা দিচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ দ্বারা শিক্ষার্থীদের নানানভাবে হয়রানি, শারিরীক নির্যাতন, হল থেকে বের করে দেয়ার মত উদাহরণ আমাদের অভিজ্ঞতায় জাজ্জ্বল্যমান। যেখানে যখন ইচ্ছা ক্ষমতাবান যে কেউ একজন নাগরিক বা একজন শিক্ষার্থী থেকে তার অধিকার ছিনিয়ে নিতে পারে।
আমরা হল প্রভোস্ট কর্তৃক অন্যায়ভাবে খাদিজাকে বিনা নোটিশে রাত পৌনে বারোটায় হল থেকে বের করে দেওয়া এবং নিয়মের তোয়াক্কা না করে তার বরাদ্দকৃত সিটে অন্য শিক্ষার্থীকে তোলার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাই।”
অবিলম্বে খাদিজাকে নিরাপদে তার সিট ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি হল প্রভোস্টের বিরুদ্ধে উত্থাপিত হল বাণিজ্যের বিষয়টিকে খতিয়ে দেখার জন্য অবিলম্বে তিতুমীর কলেজের কর্তৃপক্ষের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
যুক্ত বিবৃতিতে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের পক্ষে আরো স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) নজির আমিন চৌধুরী জয়, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি সাদিকুল ইসলাম সোহেল, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মিতু সরকার, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি ছায়েদুল হক নিশান, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি সুনয়ন চাকমা, বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) তাওফিকা প্রিয়া। (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
সিএইচটি নিউজের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন