শোক সংবাদ

সাংবাদিক সালিম সামাদ আর নেই: পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ তাকে মনে রাখবে

0
সংগৃহিত ছবি

ডেস্ক রিপোর্ট, সিএইচটি নিউজ
রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বাংলাদেশের একজন খ্যাতনামা অনুসন্ধানী সাংবাদিক এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার ব্যক্তিত্ব সালিম সামাদ আজ রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭৪ বছর বয়সে মারা গেছেন।

সালিম সামাদ ছিলেন একজন পুরস্কারপ্রাপ্ত অনুসন্ধানী সাংবাদিক, পেশাদার লেখক, গবেষক, পরিবেশবাদী এবং মানবাধিকার কর্মী। তার লেখা বিশ্বখ্যাত ‘টাইম’ ম্যাগাজিন, ভারতের ‘ইন্ডিয়া টুডে’ ও ‘আউটলুক’ এবং পাকিস্তানের ‘সাউথ এশিয়া’ ম্যাগাজিনসহ দেশবিদেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। তিনি তার পেশার সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে পরিবেশ ও উন্নয়ন সাংবাদিকতা বিষয়ক কর্মশালা পরিচালনা করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের অধিকারের বিষয়েও তিনি সোচ্চার ছিলেন। ১৯৯০ দশকে ব্যারিস্টার লুৎফর রহমান শাহজাহান ও আনু মুহাম্মদের নেতৃত্বে গঠিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ জাতীয় কমিটি’ নামক প্রগতিশীল ও উদারমনা বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের একটি নাগরিক সংগঠনের সাথে যুক্ত থেকে তিনি পাহাড়ি জনগণের মানবাধিকার রক্ষায় ভূমিকা পালন করেছিলেন।

১৯৯৩ সালে লোগাং গণহত্যার প্রথম বার্ষিকীতে তৎকালীন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও গণ পরিষদের আমন্ত্রণে অন্য অনেকের সাথে সালিম সামাদও খাগড়াছড়ির লোগাং পোড়াভিটা দেখতে গিয়েছিলেন। ১৯৯৫ সালের ১৫ মার্চ বান্দরবান শহরে সাম্প্রদায়িক হামলার পর ঢাকা থেকে সাংবাদিক, লেখক, মানবাধিকার কর্মী ও ছাত্র-রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের যে একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিল, তার মধ্যে ছিলেন তিনিও একজন।

সালিম সামাদ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক বিভিন্ন সেমিনার ও আলোচনা সভায়ও অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া তিনিই বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র সাংবাদিক যিনি ১৯৮০ সালে শান্তিবাহিনীর গোপন ক্যাম্পে গিয়ে গেরিলাদের সাক্ষাতকার নিয়েছিলেন এবং সাপ্তাহিক রোববার নামক ম্যাগাজিনে তার সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করে ঝড় তুলেছিলেন।

তিনি ১৯৮০ দশকে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ডিজিএফআই কর্তৃক একবার গুমের শিকার হয়েছিলেন। শারীরিক নির্যাতনের পর তাকে কাপ্তাই সড়কে চোখ বাঁধা অবস্থায় ছেড়ে দেয়া হয়েছিল। এরপর ২০০২ সালে তিনি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার হন।

সালিম সামাদ সব সময়ই হাসিখুশী, প্রাণবন্ত ও বন্ধুবৎসল ছিলেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ তাকে একজন বন্ধু হিসেবে মনে রাখবে।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More